
শফিকুল ইসলাম, রৌমারী প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় গোখাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। গেল জুলাই মাসের ভয়াবহ বন্যায় সবার বাড়িতে পানি উঠায় এবং গোচারন ভুমিতে দীর্ঘদিন জলমগ্ন ও সংরক্ষিত ধানের খড় নষ্ট হওয়ায় এ সংকট দেখা দিয়েছে।
গত জুলাই মাসের টানা ভারী বর্ষনে ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে ব্রম্মপুত্র, সোনাভরী, হলহলিায়া নদীর পানি উপচে সৃষ্ট বন্যায় উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে সম্পন্ন এলাকায় অথৈ পানিতে ছয়লাব হয়ে যায়। ফলে গো-স্থানসহ বিস্তীর্ন মাঠ দীর্ঘদিন জলমগ্ন থাকে। এখনো অনেক এলাকার নিম্নাঞ্চলে পানিতে ভরে আছে। ফলে গোচারন ভুমিতে উৎপাদিত ঘাস ও ধানের খড় নষ্ট হয়ে যায়।
ওই সব এলাকার গবাদী পশুকে মাঠে খাওয়াতে না পেরে সংরক্ষিত থাকা কিছু খড় খাওয়ানো শেষে বিপাকে পড়েছে কৃষকেরা। উপজেলার পাখিউড়া গ্রামের আব্দুস সামাদ, ময়নাল হক, রহম আলী তারা জানান, আমাদের একেক জনের ৪ থেকে ৫টি গরু রয়েছে। খাবারের জন্য ১ বছর পরিমান শুকনো খড় সংরক্ষিত করেছিলাম। কিন্তু গেল বন্যার পানিতে খড়ের পালা বেশীর ভাগ নষ্ট হয়ে পঁচে গেছে। এছাড়াও দীর্ঘদিন গোচারন ভুমিও পানিতে তলিয়ে থাকায় এবং অনেক জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করায় গরু মাঠে চরাতে না পেরে সংরক্ষিত খড় খাওয়ায়ে গরু পালন করতে হয়েছে।
বর্তমানে সংরক্ষিত খড় শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং এখনো পতিত মাঠে ঘাস না থাকায় গবাদী পশু নিয়ে বিপাকে পরে রয়েছি।
রৌমারী গ্রামের কৃষক আব্দুস সাত্তার, দুলাল, মঞ্জু সরদার জানান, নিম্নাঞ্চল দীর্ঘদিন থেকে পানি থাকায় এবং গোচারন ঘাস ও খড় নষ্ট হওয়ায় খড়ের চাহিদা ব্যাপক হারে বেড়েছে। গরু বাচিঁয়ে রাখায় বাহির থেকে আসা ধানের খড় ৫শত টাকার খড় ১৫শত থেকে ২ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ রোকনুজ্জামান বলেন, উপজেলায় গেল ভয়াবহ বন্যায় কৃষকের ব্যাপক হারে ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এখনো কিছু কিছু নিম্নাঞ্চলে পানি রয়েছে। যে কারনে গো খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। আমরা গো খাদ্য সংকট মোকাবেলায় কৃষক ও খামারিদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, অনেক এলাকায় আগাম ধান চাষ করেছে এবং সে ধান গুলি ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে কাটা মাড়াই শুরু হবে এবং পতিত জমি গুলিতে ঘাস জন্মিবে। তাই গো খাদ্যের সংকট ঘুচিয়ে যাবে।
-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।