শ্রীবরদীর সীমান্তে গরুর সাথে আসছে মাদক!

S M Ashraful Azom
0
শ্রীবরদীর সীমান্তে গরুর সাথে আসছে মাদক!
রেজাউল করিম, শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরের শ্রীবরদীর সীমান্তে ক্রমেই বাড়ছে চোরাচালান। ভারত থেকে চোরাই পথে আসছে গরুর সাথে মাদকদ্রব্য। বিজিবি ও আইন শৃংখলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে এসব অবৈধকারবার। এসব চোরাকারবারি নিয়ে যে কোনো সময় ঘটতে পারে সংঘর্ষের ঘটনা। এমনটাই আশংকা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ১৭ নভেম্বর সরেজমিনে স্থানীয় লোকজন ও আইন শৃংখলা বাহিনীসহ বিভিন্ন সূত্রের সাথে কথা বলে ওঠে আসে এমন তথ্য।

জানা যায়, উপজেলার রানীশিমুল ও সিংগাবরনা ইউনিয়নের সীমান্ত ঘেষাঁ বাবেলাকোনা, চান্দাপাড়া, দিঘলাকোনা, হারিয়াকোনা, মালাকোচা, বালিজুরি ও খারামোরাসহ ১০/১২টি গ্রাম। এসব গ্রাম ঘেষাঁ ভারতের সীমানা। ওইসব স্থান গুলোতে রয়েছে ভারতে কাটা তারের বেড়ার নিচে পানি চলাচলের গোলাকৃতির কালভার্ট। আবার যেখানে কাঁটা তারের বেড়া শেষ সেখানে রয়েছে খোলা অংশ। অথবা জিরো পয়েন্টে ভারতীয় অংশের ব্রিজের নিচে খাল। এসব কালভাট, ব্রীজ ও কাটাতারের বেড়ার শেষাংসসহ বিভিন্ন স্থানের ফাকঁ ফোকর দিয়ে যাতায়াত করছে চোরাকারবারিরা। তারা বিএসএফ ও বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রবেশ করছে ভারতের পোড়াকাশিয়া এলাকায়। সেখান থেকে আনছে গরু ও মাদক দ্রব্য। প্রতিদিন ভোরে গরু বেচাকেনা হচ্ছে খারামোরা ও হারিয়াকোনাসহ কয়েকটি গ্রামে। মাদক দ্রব্য বিক্রি হচ্ছে সিক্রেট। এসব চোরাকারবারির আধিপত্য নিয়ে তাদের মধ্যেও রয়েছে অন্ত:দ্ব›দ্ব। গরু চোরাচালান নিয়ন্ত্রন করছে কর্ণঝোরার আজির, মেঘাদলের হাইদর, বালিজুরির আফছার, খারামোরার মজিবর ও আবুলসহ ব্যবসায়ী চক্র। এসব ব্যবসায়ীদের সখ্যতা হুন্ডি ব্যবসায়ীদের। প্রতিদিন হুন্ডির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হচ্ছে হাত বদল। স্থানীয়রা তাদের ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারে না বলে জানান অনেকে।

সূত্র জানান, গরু চোলাচালান নিয়ে বিজিবি ও চোরাকারবারিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় বিজিবি চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। এমনকি ভারতের রিংথিং পাড়ার সীমান্তের ১০৯৩ পিলারের পাশ দিয়ে গরু নিয়ে আসার সময় বিএসফের গুলিতে কুমারগাতি গ্রামের বীরেন দালবৎ এর ছেলে বিশ্বাস ¤্রং (৩৫) নামে এক যুবক আহত হয়েছিল। এর কিছুদিন পর ভারতের আসাম রাজ্যের মানকেরচর থানার শঠিমারী গ্রামের খলিল মিয়ার ছেলে মফিজুল হক (৩০) ও শ্রীবরদীর খারামোড়া গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে সুমন মিয়া (২৪) ২ হাজার ২শ ৫০ ভারতীয় রুপি, ৩শ ৭৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ বিজিবির হাতে আটক হয়। এর পরও থেমে নেই চোরাচালান।

প্রতিদিন সন্ধ্যা হলেই ওইসব গ্রামে বেড়ে যায় চোরাকারবারিদের আনাগোনা। কেউ ওপার থেকে গরু ও মাদক দ্রব্য নিয়ে আসছে। কেউবা এদের মহাজন। কেউবা হুন্ডি ব্যবসায়ী। একটা গরু ভারত থেকে নিয়ে এলে এক দেড় হাজার টাকা পাওয়া যায়। প্রতিরাতে কেউ দুই তিনটা গরুও নিয়ে আসে। এ জন্য বন্ধ হচ্ছে না গরু চোরাচালান। এমনটাই জানান খারামোরা গ্রামের চোরাচালানের সাথে জড়িত মজিবর নামে এক ব্যাক্তি। 

গরু চোরাচালানের সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য জহুরুল হক জানান, প্রশাসনসহ স্থানীয়ভাবে ম্যানেজ করার নামে চোরাকারবারিদের কাছ থেকে টাকা নেয় আফছার। এমনকি ভারতে খবরা খবর এনে দেয় সে। সিংগাবরনা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রেজ্জাক মজনু বলেন, উপজেলা আইন শৃংখলা কমিটির সভায় বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়না। থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রুহুল আমিন তালুকদার বলেন, চোরাচালান ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযান অব্যাহত।


 -সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

ট্যাগস

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top