![]() |
| ইসলামপুরে আদালতের নির্দেশে ৬ বছর পর দখলমুক্ত হলো মাদ্রাসার জমি |
ইসলামপুরে আদালতের নির্দেশে ৬ বছর পর দখলমুক্ত হলো হাফিজিয়া মাদ্রাসার জমি
আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশনায় দীর্ঘ ছয় বছর পর অবৈধ দখলমুক্ত হয়েছে ‘মরহুম জমর উদ্দিন ও মরহুমা আমিরুন্নেসা হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা’র দানকৃত জায়গা। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গোয়ালেরচর ইউনিয়নের মালমারা মৌজার আর.এস. ১৬৮ নম্বর দাগের প্রায় ০.৩৫ একর (৩৫ শতাংশ) জমি উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের পক্ষে ডিক্রিদারকে বুঝিয়ে দেয় উপজেলা প্রশাসন।
উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ও জামালপুরের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মিস পিটিশন মামলা নং-১০৭/২০২০-এর রায় বাস্তবায়নে এই যৌথ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ইসলামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজোয়ান ইফতেকার।
আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মালমারা মৌজার আর.এস. খতিয়ান নং-৪৬৩-এর অন্তর্গত ওই জমিতে অবৈধভাবে বসতবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করে দীর্ঘ ৬ বছর ধরে জোরপূর্বক বেদখল করে রেখেছিল একটি প্রভাবশালী মহল। জমিটি উদ্ধারে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছিলেন মামলার বাদী মো. আব্দুস ছাত্তার। মঙ্গলবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীসহ বিপুল সংখ্যক উচ্ছেদ কর্মী নিয়োজিত ছিলেন। অভিযান চলাকালে মামলার বাদী মো. আব্দুস ছাত্তার এবং বিবাদী আজিজুল হক ওরফে আইজল গং উপস্থিত ছিলেন।
জমির মালিকের সহোদর ভাই ও পুলিশ পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন সন্তোষ প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে একটি পক্ষ ক্ষমতার দাপটে আমাদের পৈত্রিক জমিটি জোরপূর্বক অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিল। আমরা ভাইবোনেরা মিলে পবিত্র দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে জমিটি একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার নামে দান করেছি। আজ বিজ্ঞ আদালতের রায় এবং স্থানীয় প্রশাসনের আন্তরিক ও সাহসী পদক্ষেপের কারণে আমরা আমাদের জমিটি বুঝে পেয়েছি। প্রশাসনের প্রতি আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।"
অভিযান প্রসঙ্গে ইসলামপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজোয়ান ইফতেকার জানান, "বিজ্ঞ আদালতের সুনির্দিষ্ট রায় ও নির্দেশনার আলোকে আজ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে থাকা ৩৫ শতাংশ জমি উদ্ধার করে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উপায়ে প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদ্রাসার জন্য দানকৃত এই জমিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন তৎপর ছিল এবং সরকারি নির্দেশনায় এই ধরনের উচ্ছেদ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।"







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।