
সেবা ডেস্ক: ঢাকা সেনানিবাসের আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজের উদ্যোগে আজ ১৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার (এএফএমসি) ‘বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস’ উপলক্ষে র্যালি ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার এএফএমসির মেডিসিন বিভাগের তত্ত্বাবধানে এই র্যালি ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
সেমিনারে ‘বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস’ এর তাৎপর্য এবং এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘পরিবার ও ডায়াবেটিস’ বিষয়ের উপর মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আব্দুর রাজ্জাক। সেমিনারে এএফএমসি-১৮ ব্যাচের কয়েক জন চৌকষ ক্যাডেট ডায়াবেটিসের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আলোকপাত করেন। এছাড়া, এএফএমসি এর সিনিয়র ক্যাডেটরা এক পোস্টার প্রদর্শনীতে অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ এর কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন সামরিক চিকিৎসা সার্ভিস মহাপরিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. ফসিউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কনসালটেন্ট ডেন্টাল সার্জন জেনারেল মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী, কনসালটেন্ট সার্জন জেনারেল মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান, এএফআইপি কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল সুসানে গীতি ও কনসালটেন্ট ফিজিসিয়ান জেনারেল মেজর জেনারেল মো. আজিজুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- এএফএমসির ডেপুটি কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের জি এম কাজী নুরুল হক। অনুষ্ঠানে বক্তারা ডায়াবেটিসের বৈশ্বিক সমস্যা ও এর প্রতিরোধের দিকগুলোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন ও একই সঙ্গে এর পরিনতিও তুলে ধরেন।
এক রিপোর্টে দেখা যায়, ২০১৭ সাল পর্যন্ত বিশ্বে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন বয়স্ক মানুষ ডায়াবেটিস নিয়েই জীবনযাপন করছেন। ধারণা করা হয় এই সংখ্যাটা ২০৪৫ সাল নাগাদ ৬২৯ মিলিয়নে উন্নীত হবে। ২০১৮ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক রিপোর্টে দেখা যায়, বাংলাদেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় ৮০ লাখ। এদেশে প্রতি বছর ৬ দশমিক ৪ শতাংশের মৃত্যুর কারণ হল এই ডায়াবেটিস। ২০১৬ সালের আরেক রিপোর্টে দেখা যায় যে, দেশের প্রায় ১৯ শতাংশ মানুষের ডায়াবেটিস রয়েছে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেন, ডায়াবেটিস দীর্ঘ মেয়াদি কিডনী রোগের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কারণ। শুধু তাই নয় এটি একাধারে হৃদরোগ, স্ট্রোক, রক্তনালীর সংকোচন, অন্ধত্ব এবং ইনফেকশনের গুরুত্বপূর্ণ কারণও বটে। ডায়াবেটিসকে প্রায়শই একটি পারিবারিক রোগ হিসেবে ধরা হয়। কারণ, এটি শুধু একজন রোগীকে নয় পুরো পরিবারের পারিবারিক স্থিতিশীলতার উপর আঘাত করে থাকে।
ডায়াবেটিসের তাৎক্ষণিক জটিলতার মাঝে হাইপোগ্লাইসেমিয়া, হাইপারঅসমোলার, হাইপার গ্লাইসেমিক স্টেট, ডায়াবেটিক কিটো এসিডোসিস ও হঠাৎ মৃত্যু উল্লেখযোগ্য। স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ, ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান এবং মদ্যপান থেকে বিরত থাকা, চক্ষু ও পায়ের যত্ম, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, রক্তের চর্বি নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত রক্তপরীক্ষা ইত্যাদি নিয়ম মেনে চললেই ডায়াবেটিস রোগ প্রতিরোধ করা যায়।
-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।