
সেবা ডেস্ক: বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় এক বিধবা নারীকে শ্লীলতাহানি ও কু-প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এনায়েত খান নামে তালিকাভুক্ত এক রাজাকারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বুধবার রাতে এনায়েত খানের নামে উজিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই নারী।
অভিযুক্ত এনায়েত খান উপজেলার জয়শ্রী গ্রামের মৃত কলম খানের ছেলে। উজিরপুর মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল কমান্ড কর্তৃক ২০১৬ সালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয় থেকে পাঠানো ০০১.১৬-৭৮ স্মারকের তালিকাভুক্ত রাজাকারদের তালিকায় এনায়েত খানের নাম রয়েছে। ওই তালিকায় ২২ নম্বরে রয়েছে তার নাম।
এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে উজিরপুর উপজেলার ধামুড়া বন্দরে অগ্নিসংযোগ, গণহত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে এনায়েত হোসেন খানসহ স্থানীয় চারজনের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাও হয়েছিল।
ওই নারী জানান, আট বছর আগে তার স্বামী মারা যান। এরপর থেকেই কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন এনায়েত খান। এতে রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন সময় তাকে এলাকা ছাড়া করারও হুমকি দেন এনায়েত। সম্প্রতি আবার কু-প্রস্তাব দেন তিনি। ওই সময় এনায়েত খানকে মামলা দিয়ে জেলে পাঠানোর ভয় দেখানো হলে আরও ক্ষিপ্ত হন।
ঘটনার জের ধরে বুধবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার শিকারপুর বন্দরের আল মদিনা ফার্মেসির সামনে এনায়েত খান ওই নারীর পথরোধ করেন। প্রকাশ্যে হাত ও কাপড় ধরে টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি ঘটান। খবর পেয়ে তার কলেজপড়ুয়া ছেলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, ছেলেকে দেখে মনে সাহস পাই। এরপর পায়ের জুতা খুলে এনায়েত খানকে পেটাতে থাকি। স্থানীয় লোকজন জড়ো হলে এনায়েত খান দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে এনায়েত খান যেন এ ধরনের কুকর্ম করতে সাহস না পান সে জন্য বুধবার রাতে তার বিরুদ্ধে উজিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
উজিরপুর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল আহসান বলেন, শ্লীলতাহানি ঘটানোর অভিযোগে এক নারী লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তার অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।