
সেবা ডেস্ক: নগরীর শিরোমনি এলাকায় অবস্থিত বিআরটিএতে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে একজন আনসার সদস্য ও একজন দালালকে সাজা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিআরএরটি কর্মচারি লিখনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
জানা যায়, বিআরটিএতে দালালের মাধ্যমে দীর্ঘদিন থেকেই সাধারণ গ্রাহকরা প্রতারণার শিকার হয়ে আসছিল। এমন সংবাদ ছিল দুদকের কাছে। বিশেষ করে ড্রাইভিং লাইসেন্স চুক্তির মাধ্যমে দালালরা করিয়ে দেয় এমন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল বিআরটিএতে অভিযান করে দুদক। গতকালকে বিআরটিএতে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা ছিল। দালালরা ফিল্ড টেস্টের পর নির্দিষ্ট অংকের টাকার বিনিময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স করিয়ে দেওয়ার জন্য চুক্তি করে। এই ফাঁদে দুদকের টিমের সদস্যরা অংশ নেয়।
এরপর বিআরটিতে ডিউটিরত আনসার সদস্য আনোয়ার হোসেন সুমন (৪০) এবং দালাল মোঃ আকিব মোল্লা (২৬) দুদকের সদস্যদের চুক্তির বিনিময়ে লাইসেন্স করিয়ে দেওয়ার কথা বলে। এরপরই তাদেরকে আটক করা হয়।
এ ঘটনার পর বিআরটিএর বিভিন্ন কক্ষে দুদকের টিম শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান করেন। অভিযান চলাকালে আনসার ব্যারাকের একটি ট্যাংকে বিভিন্ন ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র, নাগরিক সনদপত্র, নোটারী পাবলিকের কাগজপত্র ও লার্নার ফরম পাওয়া যায়। এছাড়া যোগীপোল এলাকার আব্দুল বারিকের পুত্র দালাল আকিব মোল্লার নিকট থেকেও বিভিন্ন ব্যক্তির গাড়ির কাগজ পত্র পাওয়ায় যায়।
আটক দুইজনকে খুলনা জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্র্টে মোঃ মিজানুর রহমান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়। এর মধ্যে আনসার সদস্য আনোয়ার হোসেনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ এবং মোঃ আকিব মোল্লাকে ৪ দিনের সাজা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি বিআরটিএর কর্মচারি লিখনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। দুদকের অভিযানের নেতৃত্ব দেন সহকারী পরিচালক শাওন মিয়াসহ সহকারী পরিচালক তরুণ কান্তি ঘোষ, উপ-সহকারী পরিচালক নীল কমল পাল ও মোঃ কামরুজ্জামানসহ খানজাহান আলী থানা পুলিশের একটি টিম।
-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।