বিমা সেবা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের আহ্বান

S M Ashraful Azom
0
বিমা সেবা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের আহ্বান
সেবা ডেস্ক: আধুনিক তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের বিমা সংস্থাগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত ও এর পরিষেবা আরো উন্নত করতে কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিমার যেকোনো কিছু অর্থাৎ বিমার দাবি নিষ্পত্তি থেকে শুরু করে বিমা সেবাকে আরো সহজীকরণে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য্য। এটা করলে তবে দুর্নীতি দূর হবে। এর থেকে মানুষ উপকার পাবে। কাজেই বিমা খাতটাকেও প্রযুক্তি নির্ভর করতে হবে।

বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিমা দিবসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন।-বাসস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রত্যেকেরই ইন্সুরেন্সটা করা থাকলে পরে তাদের যে সুবিধাটা হয় সেটা একটু দেখা দরকার এবং এক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতিটা এখন কার্যকর করা দরকার।

দেশের বিমা কোম্পানিগুলোর উদ্দেশ্যে সরকার প্রধান আরো বলেন, পৃথিবীর সবদেশে এটা হয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে আমি মনে করি আমাদের দেশেও পুরো বিমা পদ্ধতিটাকে আপনারা ডিজিটাল সিস্টেমে দাঁড় করাবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করেছি, সারাদেশে ব্রড ব্র্যান্ড ইন্টরনেট সার্ভিস চালু করেছি, মোবাইল ফোন সবার হাতে হাতে, ফোরজি আমরা চালু করেছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি বলবো বিমাটাকে আরো মানুষের কাছে নিয়ে যান। এখন আমাদের গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত মানুষ কিন্তু অনেক বেশি সচেতন। কাজেই সেদিকে থেকে আমরা মনে করি তাহলে মানুষের আরো আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, দেশের সব বিমা প্রতিষ্ঠানকে অটোমেশন পদ্ধতির আওতায় নিয়ে আসলে বিমা খাতের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে অধিকাংশ সমস্যার সমাধান হবে এবং কেউ ফাঁকি দিতে পারবে না। ফলশ্রুতিতে বিমার গ্রাহকদেরও আস্থা এবং বিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে। বিমা খাতের প্রিমিয়ামসহ দেশের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।

‘এছাড়া বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বিমা গ্রাহকদের স্বার্থ সংরক্ষণে ‘স্টেট-অব-দি-আর্ট টেকনোলজি’ সম্পন্ন ‘ইউনিফাইড মেসেজিং প্লাটফর্ম’ (ইউএমপি) পদ্ধতি চালু করেছে। যা গ্রাহকদের আস্থা বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে বলে আমি বিশ্বাস করি’ একথা উল্লেখ করে এজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বিমা খাতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৫ ব্যক্তির মাঝে ‘বিমা পদক’ বিতরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ইন্সুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটির (আইডিআরএ) ‘বিমা ম্যানুয়েল’ এবং ‘বিমা নির্দেশিকা’ নামক দুইটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।

দেশের বিমা খাতের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে অনুষ্ঠানে একটি ভিডিও চিত্র পরিবেশিত হয়।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম এবং আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান পাটোয়ারী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

এছাড়া বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন, বিশিষ্ট ইন্সুরেন্স ব্যক্তিত্ব বেগম ফরিদুর নাহার লাইলি এবং বাংলাদেশ ইন্সুরেন্স ফোরাম (বিআইএফ) প্রেসিডেন্ট বিএম ইউসুফ আলী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

বিমার উন্নয়নে তার সরকারের পদক্ষেপসমূহ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমি, সাধারণ বিমা কর্পোরেশন এবং জীবন বিমা কর্পোরেশনকে পেশাদারিত্ব এবং প্রযুক্তিগতভাবে আরো সক্ষম করতে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সব বিমা প্রতিষ্ঠানকে অটোমেশন পদ্ধতির আওতায় আনা এবং এজন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাড়ি যারা ব্যবহার করে তাদের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় গাড়ির ইন্সুরেন্সটা সঠিকভাবে করে নাই। থার্ড পার্টি ইন্সুরেন্স, সামান্য কিছু টাকা দিলেই সার্টিফিকেটটা পেয়ে যায় এবং গাড়ি চালাতে পারে। কিন্তু যখন দুর্ঘটনা ঘটে তখন কিন্তু আর কিছুই পায় না।

শেখ হাসিনা বলেন, কারো গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়লে সে যে টাকা পেতে পারে বা ইন্স্যুরেন্সের টাকায় গাড়ি মেরামত করাতে পারে, সে বিষয়টা মানুষকে আরো ব্যাপকভাবে জানানো দরকার।

তিনি তার নিজস্ব অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, কেউ যদি আপনাকে পেছন থেকে ধাক্কা মারে তাহলে তার ইন্সুরেন্স থেকেই আপনার জরিমানার টাকা পাওয়া দরকার। যদিও এই সিস্টেমটা আমাদের দেশে এখনো শক্তিশালীভাবে গড়ে উঠে নাই। আমি মনে করি এটা গড়ে ওঠা দরকার।

তিনি বিমা কেম্পানির উদ্দেশ্যে বলেন, বিমা করলে মানুষ যে সুবিধাগুলো পাবে সেগুলো মানুষের কাছে আরো ব্যাপভাবে প্রচারের প্রয়োজন রয়েছে।

এক্ষেত্রে তার সরকারের কৃষকদের জন্য কৃষি বিমা, স্বাস্থ্য বিমা, রেল যাত্রীদের জন্য বিমা এমনকি ভবনের জন্য বিমা করার উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের লেখাপড়া চালানো এবং সুন্দর ভবিষ্যত নিশ্চিতের জন্য শিশুর জন্মের পরপরই তাদের নামে একটি করে বিমা এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্যও বিমা করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমা মালিকদের প্রস্তাবিত ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষা বিমা’ চালুর বিষয়টি তার সরকার পরিকল্পনায় রেখেছে।

তিনি এ সময় স্বাধীনতার পর পাটের গুদামে ঘন ঘন আগ্নিকাণ্ডের উদাহরণ টেনে বিমার টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য একে ‘এক ধরনের ষড়যন্ত্র’ ছিল মর্মে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তার সরকার গঠনের পর ঘন ঘন গার্মেন্টস কারখানায় আগুন লাগার বিষয়টিকেও ‘ক্ষেত্র বিশেষে এই একই কারণে সৃষ্ট’ বলেও উল্লেখ করেন।

আমি তদন্ত শুরু করলাম এবং গোয়েন্দা সংস্থাকে লাগালাম যে কেন, কীভাবে কিসের জন্য অগ্নিকাণ্ড ঘটছে বা ফেক কি না, সে সময় কিছু কিছু ঘটনা ধরাও পড়লো। আর কিছু কিছু লোককে আমি নিজেই ধরে ফেললাম- বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি নাম বলতে চাই না। কিন্তু আমার যেহেতু বলার অধিকার আছে তাই বললাম।

তিনি বিমা কোম্পানির উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের যারা পর্যবেক্ষক হবেন বা ঘটনার ইন্সপেকশনে যারা যাবেন তাদেরকে ভালো ট্রেনিংপ্রাপ্ত এবং সৎ লোক হতে হবে।

তিনি বলেন, গ্রাহকরা বিমার ক্ষেত্রে প্রিমিয়ামটা যাতে সঠিকভাবে দেয় সেটাও যেমন প্রয়োজন, বিমার টাকা যেন পায় এবং সঠিকভাবে পায় সেটা নিশ্চিত করাটাও জরুরি। যতটুকু ক্ষতি ততটুকুই যেন ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়। ফাঁকি দিয়ে নেয়ার প্রবণতাটাও দূর করতে হবে।

বিমা করে অর্থ উপার্জনটা এক সময় মধ্যবিত্ত এবং চাকরি প্রত্যাশীদের ভালো উপার্জনের একটি পথ ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা এখন আর তেমনভাবে নেই। আমি মনে করি এটা আবার ফিরে আসা উচিত।

তার সরকারের প্রচেষ্টায় দেশের বেকার সমস্যা অনেকাংশেই লাঘব হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিমা কোম্পানির মালিক যারা রয়েছেন তারা যদি এজেন্ট হিসেবে কাজ দেন তাহলে অনেক যুবক এবং বিশেষ করে মেয়েরা কাজ করতে পারে ফলে কর্মংস্থানের সৃষ্টি হবে এবং বেকারত্ব দূর হবে।

এ সময় জাতির পিতা দেশের বিমা শিল্পের উন্নয়নে যেসব যুগান্তকারী পদক্ষেপ প্রহণ করেছিলেন তার উল্লেখযোগ্য অংশ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকার প্রধান বলেন, স্বাধীনতার পর বিমা শিল্পকে অধিকতর অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়নের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু’র সরকার ১৯৭২ সালে ‘বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স (জাতীয়করণ) আদেশ-১৯৭২’ জারি করে ৪৯টি দেশি-বিদেশি বিমা কোম্পানিকে জাতীয়করণের মাধ্যমে সুরমা, রূপসা, তিস্তা এবং কর্ণফুলি নামক ৪টি বিমা কর্পোরেশন গঠন করেছিলেন এবং একইসঙ্গে এই চারটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে ‘জাতীয় বিমা কর্পোরেশন’ গঠন করেন।

তিনি বলেন, পরবর্তীতে দেশের বিমা শিল্পের উন্নয়নে ‘ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন আইন-১৯৭৩’ প্রণয়ন করে এই ৪টি কর্পোরেশনকে ভেঙে লাইফ বিমা সেবা প্রদানের জন্য ‘জীবন বিমা কর্পোরেশন’ নামে এবং নন-লাইফ বিমার ‘সাধারণ বিমা কর্পোরেশন’ নামে দু’টি পৃথক বিমা কর্পোরেশন গঠন করা হয়।

এ দু’টি কর্পোরেশন এখনো দেশে বিমা ব্যবসা তদারকির মাধ্যমে দেশের জনগণকে বিমা সেবা দিয়ে আসছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ১৯৭৩ সালে একটি স্বায়ত্বশাসিত বিমা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ ইন্সুরেন্স একাডেমিও প্রতিষ্ঠা করেন জাতির পিতা।

জাতির পিতা আমাদেরকে স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন উল্লেখ করে জাতির পিতার কন্যা বলেন, এই বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।

মুজিববর্ষ উদযাপনের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, আজকে পহেলা মার্চ, কাজেই মুজিববর্ষে আমি সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এটুকু বলবো- আসুন সবাই মিলে সে প্রত্যয় ব্যক্ত করি যে, বাংলাদেশকে আমরা উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করবো।

 -সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

ট্যাগস

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top