![]() |
| গতকাল সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক নীতি নির্ধারণী সভায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় |
দেশের স্বার্থে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “সমস্যা থাকবেই, তবে সেই সমস্যার মধ্য দিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। দেশের স্বার্থে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে। পৃথিবীর অনেক দেশ এক সময় আমাদের চেয়েও অনুন্নত ছিল, অথচ আজ তারা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে। সবাই একসঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করলে সেটি অবশ্যই সম্ভব।”
গতকাল সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
উপ-প্রেস সচিব জানান, সভায় প্রধানমন্ত্রী নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এবং মাঠপর্যায়ে ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যমান সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে তা দ্রুত সমাধান করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনির সমন্বয়ে এই কমিটি গঠিত হবে। কমিটিকে আগামী এক মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয়তা সাপেক্ষে দ্রুত সমাধানযোগ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সুনির্দিষ্ট সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই এবং সিটি কর্পোরেশনসহ মাঠপর্যায়ে ভেজালবিরোধী অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে এই বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। বিশেষ করে জেলাপর্যায়ে জনবল সংকট নিরসন, আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবরেটরি স্থাপন, আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহসহ সিন্ডিকেট ও প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে মোবাইল কোর্টের (ভ্রাম্যমাণ আদালত) ক্ষমতা বাড়ানোর দাবি জানান তারা। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ধৈর্যসহকারে তাদের সব সংকটের কথা শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়ে এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।
দেশ গঠনে জনসচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী গুলশান লেকের ব্যবস্থাপনার উদাহরণ দিয়ে বলেন, “আমাদের অনেক লেকই আবর্জনায় ভরে যাচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এসব আবর্জনা সমাজের শিক্ষিত মানুষরাই ফেলছেন। যাদের সচেতন হওয়ার কথা, অনেক সময় তারাই সচেতন হন না। দেশকে পরিবর্তন করতে হলে শুধু সরকারের একক উদ্যোগ নয়, নাগরিকদেরও সদিচ্ছা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন।”
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আব্দুস সাত্তার, বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।