শেষ ৭ মিনিটের রোমাঞ্চ: ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আবারও বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা
ম্যাচ শেষ হতে তখন বাকি মাত্র ৪ মিনিট। ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনার বিদায় তখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু ফুটবল বিধাতা যেন লস আলবিসেলেস্তেদের জন্য লিখে রেখেছিলেন অন্য কোনো নাটক। শেষ মুহূর্তের মাত্র ৭ মিনিটের এক অবিশ্বাস্য ঝড়ে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে স্তব্ধ করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখল আর্জেন্টিনা। আগামী রবিবার শিরোপা ধরে রাখার চূড়ান্ত লড়াইয়ে মাঠে নামবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের মধ্যে চরম স্নায়ুযুদ্ধ ও শারীরিক ফুটবল (ফিজিক্যাল ফুটবল) লক্ষ্য করা যায়। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহামকে লিয়ান্দ্রো পারেদেস ফাউল করলে উত্তেজনার পারদ চড়ে। প্রথমার্ধের প্রথম কোয়ার্টারে রক্ষণভাগের কড়া পাহারার কারণে কোনো দলই উল্লেখযোগ্য গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।
১৯ মিনিটে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ প্রথম পরীক্ষার মুখোমুখি হন। মরগান রজার্সের একটি বিপজ্জনক ক্রস বক্সে ঠিকমতো গ্রিপ করতে না পারলেও দ্রুত কাটিয়ে উঠে দলকে বিপদমুক্ত করেন ‘দিবু’। ৩৫ মিনিটে লিওনেল মেসিকে ফাউল করায় ইংলিশ তারকা এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে প্রথম হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। এর কিছুক্ষণ পর জেড স্পেন্সের জার্সি টেনে ধরে হলুদ কার্ড দেখেন আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজও। এই বিশ্বকাপে মিশর ম্যাচ বাদে প্রতি ম্যাচের প্রথমার্ধে গোল পাওয়া আর্জেন্টিনা এদিন প্রথমার্ধ শেষ করে গোলশূন্য (০-০) সমতায় থেকে।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়ায় থ্রি লায়নসরা। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে রজার্সের নিখুঁত ক্রস থেকে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে ইংল্যান্ডকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন অ্যান্থনি গর্ডন। পিছিয়ে পড়ে পেনিকড আর্জেন্টিনা গোল শোধে মরিয়া হয়ে উঠলে উল্টো ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। এতে আর্জেন্টিনার দুই মূল সেন্টারব্যাকই কার্ডের ঝুঁকিতে পড়েন।
খেলার বয়স যখন ৮০ পার হয়, তখন শুরু হয় আর্জেন্টিনার অল-আউট আক্রমণ। লিওনেল মেসির ক্রস থেকে নিকো গনসালেসের পরপর দুটি দুর্দান্ত হেড রুখে দিয়ে ম্যাচ ধরে রেখেছিলেন ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। তবে ৮৬ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। শর্ট কর্নার থেকে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে আর্জেন্টিনাকে ১-১ সমতায় ফেরান মিডফিল্ডার এনজো ফের্নান্দেস।
ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয় রেফারির দেওয়া যোগ করা অতিরিক্ত ৯ মিনিট সময় (ইঞ্জুরি টাইম)। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে (৯২ মিনিটে) মাঝমাঠ থেকে লিওনেল মেসির মাপা জাদুকরী ক্রসে ডি-বক্সে লাফিয়ে উঠে বুলেট গতির হেড করেন ‘এল তোরো’ খ্যাত লাউতারো মার্তিনেজ। পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে বল ইংল্যান্ডের জালে জড়ালে গ্যালারিজুড়ে উল্লাসের জোয়ার বয়ে যায়। ২-১ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর শেষ বাঁশি বাজতেই নিশ্চিত হয়ে যায় আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।