রেলওয়ের ৯০ শতাংশ সেতু মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ

S M Ashraful Azom
রেলওয়ের ৯০ শতাংশ সেতু মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানা গেছে। এর ফলে যে কোনো সময় রেলপথে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। উল্লেখ্য, সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা ২৮ হাজার ৭৮ কিলোমিটার রেলপথ ৩ হাজার ৬২৯টি ছোট-বড় সেতুর ওপর দিয়ে গেছে। এর মধ্যে অন্তত ৩ হাজার ২৪০টি ঝুঁকিপূর্ণ। এ অবস্থায় রেলওয়ের মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত কিংবা পুনর্নির্মাণ করা প্রয়োজন। তা না হলে যে কোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। রেলওয়েতে নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়া হলেও মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলো নতুন করে নির্মাণ বা সংস্কারের উদ্যোগ কেন নেয়া হচ্ছে না- তা বোধগম্য নয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ের কিছু কিছু সেতু পাকিস্তান ও বাংলাদেশ আমলে তৈরি হলেও অধিকাংশই ব্রিটিশ আমলে তৈরি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সেতুগুলোর বয়স ৮০ থেকে একশ বছর পার হয়ে গেছে। এসব সেতুর অবকাঠামো একেবারেই নড়বড়ে হওয়ায় সারাবছর ধরেই মেরামতের কাজকর্ম চালিয়ে যেতে হয়। জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে ট্রেন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হলেও সেতুগুলোর কোনোটিই ঝুঁকিমুক্ত থাকে না। ঝুঁকিপূর্ণ এসব সেতুর ওপর দিয়ে নানা কায়দায় ট্রেন চলাচল করলেও তার গতিবেগ থাকে ঘণ্টায় মাত্র পাঁচ-সাত কিমি.। সারা দেশের মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে একই চিত্র বিরাজ করছে। এসব সেতুর ওপর দিয়ে ধীরগতিতে ট্রেন চলাচল করার কারণে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছতে বিলম্ব ঘটায় যাত্রী দুর্ভোগ ক্রমেই বেড়ে চলেছে, যা মোটেই কাম্য নয়।
সাধারণভাবে একটি সেতুর মেয়াদ (লাইফ টাইম) সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৬০ বছর বলে ধরা হয়। সেই হিসাবে ব্রিটিশ আমলে তৈরি কোনো রেল সেতুরই মেয়াদ নেই। মেয়াদোত্তীর্ণ এসব সেতুর স্থলে সম্পূর্ণ নতুন সেতু তৈরির নিয়ম থাকলেও রেলওয়ে বিভাগ এ কাজে গড়িমসি করছে, যা জনপ্রত্যাশা ও জনস্বার্থবিরোধী। দেশে প্রচলিত যোগাযোগ ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ছিল রেলওয়ে খাত। এ সম্ভাবনাকে বিনষ্ট করতে করতে একেবারে শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসা হয়েছে। এর ফলে রেলওয়ের অস্তিত্বই এখন হুমকির সম্মুখীন। জনবল সংকটের কারণে একটার পর একটা রেলস্টেশন বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংস্কার না করায় সারা দেশের রেলপথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ঘণ্টায় ৩শ থেকে ৪শ কিমি. গতি নিয়ে বিশ্বের নানান জায়গায় যখন ট্রেন চলছে, তখন আমরা ১শ তো দূরের কথা, ঘণ্টার গতিবেগকে ৬০ কিলোমিটারের ওপরে তুলতে পারছি না। প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক ইঞ্জিনও রেলওয়ের ভাণ্ডারে নেই। যেগুলো আছে, সেগুলোর অধিকাংশের অবস্থা এত সঙ্গিন যে, চলতে চলতে কখন বেমক্কা তার চলৎশক্তি রহিত হয়ে যাবে, তা কেউ জানে না। তাছাড়া বগি সংকটও প্রকট। জোড়াতালি দিয়ে ট্রেন চলাচলের ধারাবাহিকতা ঠিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু এভাবে আর কতদিন? মেঘে মেঘে অনেক বেলা হয়েছে। এখন অবস্থার পরিবর্তন জরুরি। মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর স্থলে নতুন সেতু নির্মাণের পাশাপাশি রেল খাতে বিরাজমান সমস্যাগুলো সমাধানের ত্বরিত উপায় খুঁজে বের করে অচলপ্রায় রেলকে সচল করার পদক্ষেপ নেয়া হোক।
ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top