সড়ক সংস্কারে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আজম নাছিরউদ্দিনের বেঁধে দেয়া সময় শেষ হচ্ছে আজ মঙ্গলবার। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত ১৬২ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে এখনো পর্যন্ত অর্ধেক ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের সংস্কার শেষ হয়নি। সেইসাথে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করা বরাদ্দের বিষয়েও কোন অগ্রগতি নেই। দ্রুত সড়ক সংস্কার নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে সংস্থাটি।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইয়াকুব নবী ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, ‘আমরা দ্রুত সময়ে সংস্কারের চেষ্টা করছি। প্রাথমিকভাবে করপোরেশনের ফান্ড থেকে সংস্কার কাজ চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। কিন্তু বৃষ্টিতে আবারো পিছিয়ে যাচ্ছি। দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে যে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে সে বিষয়ে অগ্রগতি নেই। ওটা হলে ভালো মানের সংস্কার কাজ করা সম্ভব হবে।’
সিটি করপোরেশনের হিসেব মতে, সাম্প্র্রতিক টানা বর্ষণে নগরীর ১৬২ কিলোমিটার সড়ক কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিমানবন্দর সড়ক ও আগ্রাবাদ অ্যাক্সেস রোড। বিমানবন্দর সড়কের ১৯ কিলোমিটারের মধ্যে ১১ কিলোমিটার সড়ক মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত। এছাড়া পোর্ট কানেকটিং রোড, জাকির হোসেন সড়ক, সিডিএ এভিনিউ সড়ক, নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা রোড, ও আর নিজাম রোড, শেখ মুজিব সড়ক, স্ট্যান্ড সড়ক, হালিশহর সড়ক, সদরঘাট সড়ক, খাতুনগঞ্জ সড়ক, শুঁটকি পল্লী সড়ক, আছাদগঞ্জ সড়কসহ বেশকিছু সড়ক কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সিটি করপোরেশনের নিজস্ব ফান্ড থেকে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো প্রাথমিকভাবে সংস্কারের কার্যক্রম শুরু হলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও পর্যাপ্ত শ্রমিকের অভাব এবং নির্মাণ সামগ্রীর অভাবে সংস্কার কাজে বিঘ্ন ঘটে। গত ৮ আগস্ট মেয়র জরুরি বৈঠকে ১০ দিনের মধ্যে সড়ক সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ সময় তিনি যন্ত্রপাতি ভাড়া করে ও অতিরিক্ত শ্রমিক সরবরাহ করে সংস্কার কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মেয়র।
গতকাল সরেজমিন নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, এখনো পর্যন্ত মোট ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তিন ভাগের একভাগেও সংস্কার শেষ হয়নি। বিমানবন্দর সড়ক, আগ্রাবাদ এক্সেস রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের কর্মীদের সংস্কার কাজ করতে দেখা গেছে।
সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলীদের হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত ১৬২ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ১১২ কোটি টাকা প্রয়োজন। সেই অনুযায়ী গত ২৮ জুলাই সড়ক মেরামতের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে ১১২ কোটি টাকা জরুরি বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থা। কিন্তু গতকাল সোমবার পর্যন্ত বরাদ্দের বিষয়ে অগ্রগতির খবর পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে গতকাল বিকেলে মেয়র নাছিরউদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি।

