নাগাল্যান্ডে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অস্থিরতার অবসান ঘটতে চলেছে। সোমবার দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকার ও নাগা বিদ্রোহী গোষ্ঠী ন্যাশনাল সোস্যালিস্ট কাউন্সিল অব নাগাল্যান্ডের (এনএসসিএন-আই-এম) মধ্যে এক ‘ঐতিহাসিক’ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এ চুক্তির মধ্য দিয়ে নাগাবাসীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটবে বলে দুই পক্ষ মনে করছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের সময় উপস্থিত ছিলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং এনএসসিএন-এর প্রধান মুইবাহসহ বিদ্রোহী দলটির অন্য নেতারা।
চুক্তি স্বাক্ষরের আগে এনএসসিএন প্রধান মুইবাহ বলেন, ‘ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। নাগাবাসী মহাত্মা গান্ধীকে গভীর শ্রদ্ধার চোখে দেখে। নাগাবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের জন্য আমরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীকেও গভীর শ্রদ্ধা জানাই।’
নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে মুইবাহ বলেন, এ চুক্তির মধ্য দিয়ে আমরা আরও কাছাকাছি আসতে পারলাম। দুই দলের মধ্যে নতুন সম্পর্কের সূচনা হলো। নাগারা আপনাকে চিরকালের জন্য মনে রাখবে।’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ মোদি একে ‘ঐতিহাসিক’ ঘটনা আখ্যা দিয়ে বলেন, ছয় দশক ধরে চলা নাগাল্যান্ডের রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য বহু মানুষকে মূল্য দিতে হয়েছে।’ তিনি ঐতিহাসিক এ চুক্তিতে নাগাল্যান্ডবাসী অভূতপূর্ব সমর্থন দেয়ায়, তাদেরকে গভীর শ্রদ্ধা জানান।
মোদি বলেন, নাগাল্যান্ডের সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুবই আন্তরিক। নানা উপলক্ষে নাগাল্যান্ডে আমি অনেকবার এসেছি। তাদের উন্নত ও বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে আমি খুবই মুগ্ধ।
১৯৮৮ সালে নাগাল্যান্ডের এ বিদ্রোহী গ্রুপটি এনএসসিএন (ইসাক-মুইবাহ) ও এনএসসিএন (খাপলাং) নামে দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। খাপলাংয়ের নেতৃত্বে বিদ্রোহী গ্রুপটি ভারতীয় সরকারের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে আসছিল। কয়েকদিন আগে ভারতীয় সেনাবহরে হামলা চালিয়ে ২০ সেনাকে হত্যার দায় স্বীকার করেছিল খাপলাং গ্রুপ। এর জেরে মিয়ানমার সীমান্তের ভিতরে ঢুকে বিদ্রোহীদের কয়েকজনকে হত্যা করে ভারতীয় সেনাবাহিনী। তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

