ভারতের মধ্যপ্রদেশে সেতুতে জোড়া ট্রেন দুর্ঘটনা, নিহত ২৭

Seba Hot News
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের মধ্যপ্রদেশে প্রচণ্ড বৃষ্টিতে সেতুর ওপর দুটি ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৭। আরো হতাহতের আশঙ্কা। ৩০০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রথমে মুম্বাই থেকে বারাণসীগামী কামায়নী এক্সপ্রেস মধ্যপ্রদেশের হরদা স্টেশন থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে মেচক নামে একটি নদীসেতুর উপর লাইনচ্যুত হয়। নদীর মধ্যেই পড়ে যায় যাত্রীবাহী ওই ট্রেনের চারটি কামরা।

জানা গিয়েছে, ট্রেনটির শেষ চারটি কামরা পানিতে পড়েছে।

এর কিছু পরেই বিহারের পাটনা থেকে মুম্বাইগামী জনতা এক্সপ্রেস ওই একই সেতুর উপরে লাইনচ্যুত হয়। নদীর উপরে ঝুলতে থাকে ইঞ্জিনসহ চারটি কামরা।

ভারী বৃষ্টির মধ্যে সেতু পেরোতে গিয়েই এমন ঘটেছে বলে রেল সূত্রের খবর। প্রবল বর্ষণে সেতুটির অবস্থা খানিকটা বিপজ্জনক হয়েই ছিল। কার্যত পানিতে ডুবে ছিল সেটি। গভীর রাতের বৃষ্টির মধ্যে তার উপর দিয়ে যেতে গিয়েই দুটি ট্রেন এত বড় বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ল। প্রায় সাড়ে তিনশো মানুষ এর ফলে হতাহত হয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক অতীতে একই সেতুর উপরে জোড়া দুর্ঘটনার এমন নজির নেই।

সময়সূচি অনুযায়ী কামায়নী এক্সপ্রেস মহারাষ্ট্রের লোকমান্য তিলক স্টেশন থেকে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা৪০ মিনিটে ছেড়ে পরের দিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ বারাণসী পৌঁছায়।

অপরদিকে, জনতা এক্সপ্রেস পাটনা থেকে রাত সাড়ে ১১টায় ছেড়ে পরের দিন সকাল ১০টা৫০ মিনিটে মুম্বাই পৌঁছায়।

বৃষ্টিতে দুটি ট্রেনই আস্তে চলছিল। দুটি ট্রেনই মধ্যরাতে ভোপাল থেকে ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে হরদা স্টেশন পেরোয়। তার পরেই এই ঘটনা।

ইটারসি থেকে চিকিৎসক এবং উদ্ধারকারী দল একটি বিশেষ ট্রেন নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছচ্ছে। তবে বৃষ্টিতে ওই এলাকার ট্রেনলাইনের একটা বড় অংশ ডুবে রয়েছে। ফলে উদ্ধারকারী দলের পৌঁছতেও কিছুটা সময় লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনও জানা যায়নি।

রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভু টুইট করে বলেন, সরকার সমস্ত রকম ভাবে উদ্ধারের চেষ্টা চালাবে। ইতিমধ্যেই সেনাবাহিনীকে সতর্ক করা হয়েছে। প্রয়োজনে তাদের সাহায্য চাওয়া হবে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বিজয় সোমানি ফোনে একটি টিভি চ্যানেলকে জানান, প্রায় ডুবে যাওয়া সেতুটির উপর দিয়ে খুব আস্তেই ট্রেন নিয়ে যাচ্ছিলেন চালক। কিন্তু কামায়নী এক্সপ্রেসের শেষ চারটি কামরা লাইনচ্যুত হয়ে পানিতে পড়ে যায়। বাকি কামরাগুলিকে পরের স্টেশনে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। আর উল্টো দিক থেকে আসা জনতা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনসহ প্রথম চারটি কামরা নদীর উপরে ঝুলতে থাকে। খানিক পরে ইঞ্জিনটি নদীর মধ্যে পড়ে যায়। ফলে বাকি কামরাগুলিকে কামায়নীর মতো তৎক্ষণাৎ সরানো সম্ভব হয়নি। আশপাশের গ্রামগুলিও পানিতে সয়লাব হয়ে রয়েছে। তার মধ্যেও গ্রামবাসীরা ছুটে এসে উদ্ধারে হাত লাগিয়েছেন। তাঁরাই প্রাথমিক ভাবে অন্তত ৫০-৬০ জনকে পানির মধ্যে থেকে টেনে তুলেছেন বলেও জানান তিনি। বিপর্যস্তদের মধ্যে ১৫-২০ জন নারী ও শিশুও রয়েছেন। তবে সব মিলিয়ে ঠিক কত জন এই দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, জানা যায়নি।
ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top