সাঙ্গাকারার সাতকাহন

S M Ashraful Azom
রাজধানী কলম্বো থেকে ১৪২ কিলোমিটার দূরে। কাছের শহর বলতে ক্যান্ডি। দ্বীপদেশ শ্রীলঙ্কার মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশের শহর মাতালে। এই শহরেরই বিখ্যাত এক পরিবারে জন্ম কুমার সাঙ্গাকারা। পরিবারের সবাই উচ্চশিক্ষিত, আইন পেশার সাথে জড়িত। সাঙ্গাকারাও বড় হয়ে সে পথেই হাঁটবেন, এমনটাই ধারণা সবার। সেই ধারণাকে সত্যি প্রমান করে একসময় স্থানীয় বার কাউন্সিলের সদস্যও হয়ে গেলেন তিনি। তবে এরপর খুব বেশী এগোনো হলো না। কারণ ততদিনে বাইশ গজের আরেক জায়গায় মন দিয়ে ফেলেছেন তিনি!
এই ঘটনার পনের বছর পর সাঙ্গাকারা যখন স্থায়ীভাবে সেই বাইশ গজ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তখন পুরো ক্রিকেট বিশ্ব পুড়ছে আক্ষেপে। কেন সাঙ্গাকারা আরেকটু সময় এখানে থাকছেন না সেই প্রশ্ন ভক্ত, নির্বাচক, সতীর্থ-সাবেক সবার। তবে মাঠ এবং মাঠের বাইরে সাঙ্গাকারার সবচেয়ে কাছের বন্ধু বলে পরিচিত আরেক লঙ্কান কিংবদন্তি মাহেলা জয়াবর্ধনে অবশ্য স্বাগতই জানিয়েছেন বন্ধুর এই সিদ্ধান্তকে। বলেছেন, দু’জনে এক সাথে অন্য ভূমিকায় এবার কাজ করতে চান নতুন নতুন জায়গায়। ভারতের বিরুদ্ধে চলতি মাসের ২০ তারিখ শেষের শুরু করতে যাচ্ছেন সাঙ্গাকারা। তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন ‘ইতিহাসের শুদ্ধতম’ এই ব্যাটসম্যান। পেছনে রেখে যাবেন হাজার হাজার রান আর অজস্র রেকর্ডের বন্যাঢ্য এক ক্যারিয়ার। তার আগে সাঙ্গাকারার ক্রিকেট জীবন-দর্শন আর অর্জন নিয়ে একটি ওয়েবসাইটকে দীর্ঘ এক সাক্ষাত্কার দিয়েছেন জয়াবর্ধনে।
কলম্বোর পি সারা ওভালে বন্ধুর বিদায়ী ম্যাচটা মাঠে বসেই দেখবেন বলে ঠিক করেছেন জয়াবর্ধনে। দু’জনে হয়তো ড্রেসিংরুমে শেষ বারের মতো চুমুক দেবেন চায়ের কাপেও। তযে এই সমাপ্তিই অন্য ক্ষেত্রে খুলে দেবে নতুন কোন দুয়ার, জয়াবর্ধনের বিশ্বাস এমনটাই। মাঠের বন্ধুত্বকে মাঠের বাইরে টেনে নিয়েছেন বহু আগেই। কলম্বোতে দু’জনার রেস্তোরা আছে। আছে একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানও। দেশের ক্রিকেটকে আরো সামনে এগিয়ে নিতেই নেয়া হয়েছে এই উদ্যোগ। অবসর জীবনে একাজে সাঙ্গাকে আরো বেশী করে পাবেন বলে আশাবাদী জয়া, ‘সে আমার সত্যিই খুব ভাল একজন বন্ধু এবং অনেকদিন ধরে আমরা একসাথে আছি। আমাদের একসাথে অবদান রাখার অনেক জায়গা আছে এবং সবগুলো সম্ভাবনাই আমরা ভেবে দেখছি।’
তবে ক্রিকেটে অবদান রাখার পথে বড় বাধা হয়ে আসতে পারে লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড এসএলসি। আর্থিক অনিয়ম, খেলোয়াড়দের বেতন ভাতায় কমতি, নারী ক্রিকেট লিগের দুর্নীতি প্রভৃতি নানা অভিযোগে বোর্ডের সাথে এই দু’জনার মতানৈক্য বহু পুৃরনো। দলে থাকতে দু’জনে এই সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন, সেই চেষ্টা এখনো অব্যহত রাখতে চান জানিয়ে জয়াবর্ধনে বলেন, ‘দলে থাকতে আমরা চেয়েছি একটা পরিস্কার রূপরেখা তৈরী করতে। একটা নির্দিষ্ট রীতি তৈরী করতে চেয়েছি আমরা। আমাদের লক্ষ্য ছিল উঠতি একজন খেলোয়াড়ের পথচলাকে সহজ করে তোলা।’
লঙ্কান ক্রিকেটের অগ্রযাত্রায় অবদান রাখার সেই কাজটি চালিয়ে যেতে চান জানিয়ে জয়াবর্ধনে বলেন, ‘এসএলসিতে আমাদের ভূমিকা কি হবে সেটা আসলে নির্ভর করছে বোর্ডের নীতি নির্ধারনে কি হয় তার উপরে। অবশ্যই আমরা কাজ করতে চাই। তবে তার আগে সব কিছু দেখতে হবে। আপাতত তাই সেই কাজটিই করছি।’
সাঙ্গাকারা যখন জাতীয় দলে ঢুকেছেন, তখনই সহ-অধিনায়কের ভূমিকায় জয়াবর্ধনে। একসময় জয়াবর্ধনে ছাড়িয়ে সাঙ্গাকারা ঠাই করে নিয়েছেন ইতিহাসের সেরাদের তালিকায়। ১৩২ টেস্টের ২২৯ ইনিংসে বার হাজার ৩০৫ রান সাঙ্গাকে ঠাই দিয়েছে টেস্ট ইতিহাসের পঞ্চম সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায়। ৫৮.০৪ গড় নিয়ে সাঙ্গাকারা ছাড়িয়ে গেছেন তার উপরের চার জনকেই। শত বছরের পুরনো টেস্ট ইতিহাসে ডন ব্র্যাডম্যান বাদে কেবল ওয়ালি হ্যামন্ডের গড়ই তার চেয়ে বেশী। দশটি দ্বিশতক নিয়ে সাঙ্গা এই তালিকায়ও আছেন ব্র্যাডম্যানের ঠিক পরেই। শচীন টেন্ডুলকারের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওয়ানডে রান তার। উইকেটরক্ষক হিসেবে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ডও এই উইকেটরক্ষকের দখলে। যদিও ধ্রূপদী ব্যাটিং আর অজস্র রেকর্ড, ‘উইকেটরক্ষক সাঙ্গাকারাকে’ অনেকটাই আড়াল করে দিয়েছে। বন্ধুর এই অর্জনের পেছনে মূল কারন কি? এমন প্রশ্নের জবাবে জয়াবর্ধনে স্মরণ করলেন সাঙ্গাকারার দৃঢ়চেতা মানসিকতা আর কঠোর পরিশ্রমের দুর্লভ ক্ষমতার কথা, ‘এই সংখ্যাগুলো আসলে আমাকে বিস্মিত করে। তার অর্জন বুঝতে কেবল এগুলোর দিকে তাকালেই চলে। তবে ক্যারিয়ারের এই অর্জনগুলোর পেছনে কাজ করেছে কঠোর পরিশ্রম আর শক্ত মানসিকতা। সে যে দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে খেলাটাকে দেখে সেটাই আসলে তার সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।’
সাঙ্গাকারার অর্জন ক্রিকেট ইতিহাসে সব সময়ই উজ্জ্বল হয়ে থাকবে বলেও জানা জয়াবর্ধনে, ‘যখন আমি ক্রিকেটের সেরা সব অজর্েনর দিকে তাকাই, তখন সেখানে খুব বেশী নাম চোখে পড়ে না। তাদের অর্জনের কথা ভাবলে শিউরে উঠি! কুমার সব সময়ই তাদের মধ্যেই থাকবে!’ ওয়েবসাইট অবলম্বনেসাঙ্গাকারার সাতকাহন
স্পোর্টস ডেস্ক
রাজধানী কলম্বো থেকে ১৪২ কিলোমিটার দূরে। কাছের শহর বলতে ক্যান্ডি। দ্বীপদেশ শ্রীলঙ্কার মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশের শহর মাতালে। এই শহরেরই বিখ্যাত এক পরিবারে জন্ম কুমার সাঙ্গাকারা। পরিবারের সবাই উচ্চশিক্ষিত, আইন পেশার সাথে জড়িত। সাঙ্গাকারাও বড় হয়ে সে পথেই হাঁটবেন, এমনটাই ধারণা সবার। সেই ধারণাকে সত্যি প্রমান করে একসময় স্থানীয় বার কাউন্সিলের সদস্যও হয়ে গেলেন তিনি। তবে এরপর খুব বেশী এগোনো হলো না। কারণ ততদিনে বাইশ গজের আরেক জায়গায় মন দিয়ে ফেলেছেন তিনি!
এই ঘটনার পনের বছর পর সাঙ্গাকারা যখন স্থায়ীভাবে সেই বাইশ গজ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তখন পুরো ক্রিকেট বিশ্ব পুড়ছে আক্ষেপে। কেন সাঙ্গাকারা আরেকটু সময় এখানে থাকছেন না সেই প্রশ্ন ভক্ত, নির্বাচক, সতীর্থ-সাবেক সবার। তবে মাঠ এবং মাঠের বাইরে সাঙ্গাকারার সবচেয়ে কাছের বন্ধু বলে পরিচিত আরেক লঙ্কান কিংবদন্তি মাহেলা জয়াবর্ধনে অবশ্য স্বাগতই জানিয়েছেন বন্ধুর এই সিদ্ধান্তকে। বলেছেন, দু’জনে এক সাথে অন্য ভূমিকায় এবার কাজ করতে চান নতুন নতুন জায়গায়। ভারতের বিরুদ্ধে চলতি মাসের ২০ তারিখ শেষের শুরু করতে যাচ্ছেন সাঙ্গাকারা। তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন ‘ইতিহাসের শুদ্ধতম’ এই ব্যাটসম্যান। পেছনে রেখে যাবেন হাজার হাজার রান আর অজস্র রেকর্ডের বন্যাঢ্য এক ক্যারিয়ার। তার আগে সাঙ্গাকারার ক্রিকেট জীবন-দর্শন আর অর্জন নিয়ে একটি ওয়েবসাইটকে দীর্ঘ এক সাক্ষাত্কার দিয়েছেন জয়াবর্ধনে।
কলম্বোর পি সারা ওভালে বন্ধুর বিদায়ী ম্যাচটা মাঠে বসেই দেখবেন বলে ঠিক করেছেন জয়াবর্ধনে। দু’জনে হয়তো ড্রেসিংরুমে শেষ বারের মতো চুমুক দেবেন চায়ের কাপেও। তযে এই সমাপ্তিই অন্য ক্ষেত্রে খুলে দেবে নতুন কোন দুয়ার, জয়াবর্ধনের বিশ্বাস এমনটাই। মাঠের বন্ধুত্বকে মাঠের বাইরে টেনে নিয়েছেন বহু আগেই। কলম্বোতে দু’জনার রেস্তোরা আছে। আছে একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানও। দেশের ক্রিকেটকে আরো সামনে এগিয়ে নিতেই নেয়া হয়েছে এই উদ্যোগ। অবসর জীবনে একাজে সাঙ্গাকে আরো বেশী করে পাবেন বলে আশাবাদী জয়া, ‘সে আমার সত্যিই খুব ভাল একজন বন্ধু এবং অনেকদিন ধরে আমরা একসাথে আছি। আমাদের একসাথে অবদান রাখার অনেক জায়গা আছে এবং সবগুলো সম্ভাবনাই আমরা ভেবে দেখছি।’
তবে ক্রিকেটে অবদান রাখার পথে বড় বাধা হয়ে আসতে পারে লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড এসএলসি। আর্থিক অনিয়ম, খেলোয়াড়দের বেতন ভাতায় কমতি, নারী ক্রিকেট লিগের দুর্নীতি প্রভৃতি নানা অভিযোগে বোর্ডের সাথে এই দু’জনার মতানৈক্য বহু পুৃরনো। দলে থাকতে দু’জনে এই সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন, সেই চেষ্টা এখনো অব্যহত রাখতে চান জানিয়ে জয়াবর্ধনে বলেন, ‘দলে থাকতে আমরা চেয়েছি একটা পরিস্কার রূপরেখা তৈরী করতে। একটা নির্দিষ্ট রীতি তৈরী করতে চেয়েছি আমরা। আমাদের লক্ষ্য ছিল উঠতি একজন খেলোয়াড়ের পথচলাকে সহজ করে তোলা।’
লঙ্কান ক্রিকেটের অগ্রযাত্রায় অবদান রাখার সেই কাজটি চালিয়ে যেতে চান জানিয়ে জয়াবর্ধনে বলেন, ‘এসএলসিতে আমাদের ভূমিকা কি হবে সেটা আসলে নির্ভর করছে বোর্ডের নীতি নির্ধারনে কি হয় তার উপরে। অবশ্যই আমরা কাজ করতে চাই। তবে তার আগে সব কিছু দেখতে হবে। আপাতত তাই সেই কাজটিই করছি।’
সাঙ্গাকারা যখন জাতীয় দলে ঢুকেছেন, তখনই সহ-অধিনায়কের ভূমিকায় জয়াবর্ধনে। একসময় জয়াবর্ধনে ছাড়িয়ে সাঙ্গাকারা ঠাই করে নিয়েছেন ইতিহাসের সেরাদের তালিকায়। ১৩২ টেস্টের ২২৯ ইনিংসে বার হাজার ৩০৫ রান সাঙ্গাকে ঠাই দিয়েছে টেস্ট ইতিহাসের পঞ্চম সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায়। ৫৮.০৪ গড় নিয়ে সাঙ্গাকারা ছাড়িয়ে গেছেন তার উপরের চার জনকেই। শত বছরের পুরনো টেস্ট ইতিহাসে ডন ব্র্যাডম্যান বাদে কেবল ওয়ালি হ্যামন্ডের গড়ই তার চেয়ে বেশী। দশটি দ্বিশতক নিয়ে সাঙ্গা এই তালিকায়ও আছেন ব্র্যাডম্যানের ঠিক পরেই। শচীন টেন্ডুলকারের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওয়ানডে রান তার। উইকেটরক্ষক হিসেবে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ডও এই উইকেটরক্ষকের দখলে। যদিও ধ্রূপদী ব্যাটিং আর অজস্র রেকর্ড, ‘উইকেটরক্ষক সাঙ্গাকারাকে’ অনেকটাই আড়াল করে দিয়েছে। বন্ধুর এই অর্জনের পেছনে মূল কারন কি? এমন প্রশ্নের জবাবে জয়াবর্ধনে স্মরণ করলেন সাঙ্গাকারার দৃঢ়চেতা মানসিকতা আর কঠোর পরিশ্রমের দুর্লভ ক্ষমতার কথা, ‘এই সংখ্যাগুলো আসলে আমাকে বিস্মিত করে। তার অর্জন বুঝতে কেবল এগুলোর দিকে তাকালেই চলে। তবে ক্যারিয়ারের এই অর্জনগুলোর পেছনে কাজ করেছে কঠোর পরিশ্রম আর শক্ত মানসিকতা। সে যে দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে খেলাটাকে দেখে সেটাই আসলে তার সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।’
সাঙ্গাকারার অর্জন ক্রিকেট ইতিহাসে সব সময়ই উজ্জ্বল হয়ে থাকবে বলেও জানা জয়াবর্ধনে, ‘যখন আমি ক্রিকেটের সেরা সব অজর্েনর দিকে তাকাই, তখন সেখানে খুব বেশী নাম চোখে পড়ে না। তাদের অর্জনের কথা ভাবলে শিউরে উঠি! কুমার সব সময়ই তাদের মধ্যেই থাকবে!’ ওয়েবসাইট অবলম্বনে

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top