এস মাহমুদুল হাসান ঃ
জামালপুরের বকশীগঞ্জে পরপর দু’দফা বন্যার কারণে দুই হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ধান ও সবজির ক্ষেত পচে নষ্ট হয়েছে। এতে করে ২০ হাজার কৃষকের ২১ কোটি টাকা ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান কৃষি বিভাগ।
অপরদিকে মৌসুমের শেষ সময়ের কারণে এসব জমি অনাবাদি থাকছে। ফলে চলতি রোপা আমন চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বকশীগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৪ হাজার ৪ শ ৬ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্প্রতি উপজেলা সাধুরপাড়া, মেরুর চর ও বগারচর ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র, জিঞ্জিরাম ও দশানী নদীর তীরবর্তী এলাকায় পরপর দু’দফা বন্যায় প্লাবিত হয়। বন্যায় ১ হাজার ৮ শত ৪০ হেক্টর রোপা আমন ও ২ শ হেক্টর জমির মরিচসহ সবজির ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়েছে। এতে করে সরকারি হিসাবে ২০ কোটি ৫৪ লাখ টাকার পরিমাণ ফসল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নদীর তীরবর্তী এলাকায় এখনও মাঠের পর মাঠ জুড়ে রোপা আমন ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। এসব এলাকার কৃষকরা ক্ষেত দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সাধুরপাড়া ইউনিয়নের বিলেরপাড় গ্রামের কৃষক লাঁল চান মিয়া জানান, আমন চাষের শেষ সময়ে বন্যায় তাদের ফসলের সর্বনাশ হয়েছে। এসব জমিতে আবার রোপা আমন ধান চাষাবাদ করলে ফলন অনেক কম হবে। উৎপাদন খরচও উঠবে না। তাই কৃষকরা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জমিগুলো অনাবাদি রাখছেন। ফলে এবার আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল হামিদ জানান, এবার আমন মওসুমে বন্যার কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কায় স'ানীয় কৃষি বিভাগ মাঠ পাযার্য়ে কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আগাম বরি চাষ করতে পরামর্শ দিচ্ছে। সেইসাথে বন্যায় ক্ষতিগ্রস' কৃষকদের কৃষি পুনর্বাসনের আওতায় আনতে কৃষি অধিদপ্তরে চাহিদা পাঠানো হয়েছে।
