বিএনপি-জামাত বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করে দেশের জিএসপি সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছে' এমন অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জিএসপি নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করেছে তাদের বিচার করা হবে। বুধবার বিকেলে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "জিএসপি সুবিধা থেকে বাংলাদেশকে বঞ্চিত করা হলেও দেশের অগ্রগতি কেউ থামাতে পারেনি, পারবেও না।" এ সময় জিএসপি সুবিধা বন্ধের জন্য বিএনপি-জামাতকে দায়ি করে তিনি বলেন, জিএসপি সুবিধা না পেলেও দেশের রফতানি বেড়েই চলছে। বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে জাতির পিতার নাম মুছে ফেলার জন্য বহু ষড়যন্ত্র হয়েছে। বিকৃত করা হয়েছে ইতিহাস। ১৯৭৫ সালের পর যারা জন্ম নিয়েছিল, যারা ছোট ছিল তারা ভুল ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে বড় হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরায় সেই ভ্রান্তি মানুষ ভুলে যেতে বসেছে। এবার ১৫ আগস্ট যে ব্যাপকভাবে পালন হয়েছে এটা অভূতপূর্ব। এতেই বোঝা যায় বঙ্গবন্ধু মানুষের মনের মনিতে ঠাঁই করে নিয়েছেন। আর কোনো চক্রান্তই শুধু দেশ নয়, পৃথিবীর কোথা থেকেও বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতে পারবে না।
বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্ন-উত্তর পর্বে আব্দুল মতিন খসরু, আব্দুস শহীদ ও মো. রুস্তম আলী ফরাজীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অগ্রাধিকার বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) ফিরে পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়নের মাধ্যমে জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তরকালে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতউল্লাহর প্রশ্নের জবাবে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এবার বিশ্বের ১২২টি দেশকে জিএসপি সুবিধা দিয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশকে দেয়নি। বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক ব্যতীত অন্যান্য পণ্য জিএসপি সুবিধার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশাধিকার ছিল। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রফতানিকৃত পণ্যের ৯০ শতাংশের বেশি হলো টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল পণ্য। এ দেশে তৈরি পোশাক ও চিংড়ি খাত এবং ইপিজেডভুক্ত শিল্প কারখানায় শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এমন অভিযোগ করে গত ২৭ জুন ২০১৩ তারিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি সুবিধা স্থগিত করে।জিএসপি সুবিধা পুনর্বহাল করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকারকে বিভিন্ন শর্ত সংবলিত ‘বাংলাদেশ অ্যাকশন প্ল্যান-২০১৩’ বাস্তবায়নের পরামর্শ দেয়।

