হাজীগঞ্জে অন্তসত্ত্বা এক স্কুলছাত্রী (১৩)কে নিকটবর্তী ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে (সেভহোমে) রাখার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা যুগ্ম দায়রা জজ মামুনুর রশিদ। হাজীগঞ্জ উপজেলায় ছয় মাসের অন্তসত্ত্বা এ স্কুলছাত্রীকে গত তিন দিন ধরে থানা হেফাজতে রাখা হয়। বৃহস্পতিবার থানা হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারিক হাকিম তাছলিমা শারমিন।
রবিবার দুপুরে পুলিশ দায়রা জজের আদালতে ওই স্কুল ছাত্রীকে হাজির করা হলে এ নির্দেশ দেয়া আদালত।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহ্জাহান ভূঁইয়া বলেন, আদালতের নির্দেশ মোতাবেক মেয়েটিকে আমার হেফাজতে রেখেছি। দেশে তিনটি সেভহোম সেন্টার রয়েছে। এখন আদালতের নির্দেশনুযায়ী নিকটবর্তী সেভহোম সেন্টারে মেয়েটিকে পাঠানোর ব্যবস্থা করব।
তিনি আরো জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় চাঁদপুরের বিচারিক হাকিম তাছলিমা শারমিনের আদালতে ওই ছাত্রীকে হাজির করা হয়েছিল। সেখানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় মেয়েটির জবানবন্দি রেকর্ড করেন বিচারক।
পুলিশ জানায়, হাজীগঞ্জ পৌরসভা এলাকার বাসিন্দা মেয়েটিকে গত ১০ মার্চ অপহরণ করেন আল আমিন নামের দূর সর্ম্পকের এক আত্মীয়। এ ঘটনায় মেয়ের মা ১ এপ্রিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে হাজীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। এতে আল আমিন, তাঁর বাবা মো. সফিক, মা লুৎফা বেগম ও বোন রুনা আক্তারকে আসামি করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার হাজীগঞ্জ বাজারে এ বিষয়ে দুই পক্ষের সালিস বৈঠক চলাকালে পুলিশ সেখান থেকে সফিককে গ্রেপ্তার করে। তাঁর দেওয়া তথ্যমতে গাজীপুর থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়। তবে আল আমিন পলাতক রয়েছেন।
মেয়েটি আদালতকে জানায়, সে স্বেচ্ছায় আল আমিনের সঙ্গে গিয়েছিল। পরে তারা বিয়ে করে গাজীপুরে আল আমিনের বোনের বাসায় থাকতে শুরু করে। এখন সে বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যেতে চায় না।

