শতাব্দীর পর শতাব্দী গেল, সময়ের পালাবদল হলো, তবু হজের ধারা আপন মহিমায় চিরভাস্বর। ইবরাহিমের স্মৃতিধন্য মক্কানগরী ও তার আশপাশের পবিত্র স্থানগুলোয় হজের নিদর্শনাবলি আজও সুমহান এবং উজ্জ্বল হয়ে আছে। এ যেন সে আয়াতেরই ব্যাখ্যা, যা আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয়নবী ও বন্ধু হজরত ইবরাহিম (আ.) কে নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন, 'আপনি মানুষের মাঝে হজের ঘোষণা দিন। তারা পায়ে হেঁটে ও সর্বপ্রকার কৃশকায় উটের পিঠে আরোহণ করে আপনার কাছে আসবে।' (সূরা হজ : ২৭)।
হজ হলো ইবরাহিম (আ.) ও তার ছেলে ইসমাঈল (আ.) এর সুন্নত। তার নবুয়তি কণ্ঠে ধ্বনিত আল্লাহর সেই কুদরতি ঘোষণা অনাগত ভবিষ্যতের অনেক মানব সন্তান শ্রবণ করে 'লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক' বলে তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন। শুধু সে সৌভাগ্যবানরা প্রতি বছর জিলহজে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইহরামের শ্বেত-শুভ্র কাপড় জোড়া পরিধান করে লাব্বাইকার গগনবিদারি ধ্বনি তুলে অজস্র স্মৃতিধন্য মক্কায় গমন করেন। অমর স্মারক আরাফাহ, মিনা, মুজদালিফা, সাফা-মারওয়া, জমজমকূপ প্রভৃতি ও সর্বোপরি বায়তুল্লাহ দর্শনে ধন্য হন এবং অনুপম ভাবগাম্ভীর্য ও ভক্তি-শ্রদ্ধায় হজব্রত ও ওমরার পুরো আহকাম পালন করেন।
'মিনা প্রান্তরে গিয়ে হজরত ইবরাহিম (আ.) কেমন করে খোদাপ্রেমে মত্ত হয়ে তাঁরই আনুগত্যের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করে স্বীয় ছেলে ইসমাঈলকে কোরবানি দিতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। পরিশেষে মহামহিম আল্লাহ তায়ালা তাদের বিরল ও চরম একনিষ্ঠতাপূর্ণ এ আত্মোৎস্বর্গকে কবুল করে ইসমাঈলকে জীবিত রেখে তার স্থানে জান্নাতি মেষ জবাই করান।' এ দৃশ্যগুলো সে সৌভাগ্যবানদের চোখের সামনে মূর্ত হয়ে ওঠে।
বাবা-ছেলের এমন অনুপম আনুগত্য ও ধৈর্যের অমর স্মৃতি কোরবানি হাজার হাজার বছর ধরে স্বমহিমায় দেদীপ্যমান। কেয়ামত অবধি এর ব্যত্যয় ঘটবে না। চলতে থাকবে অবিরাম। কবি সত্যি খুব সুন্দর করে বলেছেন, 'ইন্নাল মুহিব্বা লিমান ইউহিব্বু মুতিউ' অর্থাৎ 'নিঃসন্দেহে প্রেমিক প্রেমাস্পদের অনুগত হয়ে পড়ে।'
হজরত ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর সন্তুষ্টিকে পার্থিব সবচেয়ে প্রিয় বস্তু ও প্রেম-ভালোবাসার ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। ফলে আল্লাহ মানব ইতিহাসে তাদের মান-মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন, তার আলোচনা স্থায়ী করেছেন এবং তাদের এ একাজকে সুন্নত হিসেবে প্রচলিত ও অব্যাহত রেখেছেন, যা ইতিহাসের গতিধারায় ক্ষণে ক্ষণে নান্দনিক ও বাহারি রূপে ফুটে ওঠে। সে পবিত্র সময় থেকে দলে দলে লোকেরা এ বরকতময় স্থানে গমন করতে থাকে এবং মনের মাধুরী মিশিয়ে তাদের পরম প্রেম-উচ্ছ্বাস ও আবেগ-উদ্বেলতা আল্লাহ তায়ালার ভালোবাসার ঐশী চৌকাঠে নিবেদন করে চলছে; অকুণ্ঠচিত্তে ও প্রাণভরে।
হাজিরা খোদাপ্রেমের পাঠচুকে নবীপ্রেমের ষোলকলা পূর্ণ করতে ভালোবাসার ডানায় ভর করে উড়ে যান রাসুল (সা.) এর হাতে গড়া প্রদীপ্ত ও সুদৃপ্ত নগরী মদিনা মুনাওয়ারায়। মসজিদে নববিতে নামাজ, তেলাওয়াত, রাসুলের রওজা শরিফে সালাত-সালাম পেশসহ 'বাকিউল গরকদে' অগণিত সাহাবির কবর, উহুদ পাহাড়ের অনতিদূরে শোহাদায়ে উহুদের কবর জিয়ারত ও ইসলামের প্রথম মসজিদ 'মসজিদে কুবা'য় নামাজ আদায়ের পাশাপাশি আরও অনেক নিদর্শনাবলি দর্শনে ধন্য হন। অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য সফর এবং হজ-জিয়ারতের সব আহকাম শুদ্ধাভরে ও ভক্তি সহকারে পালন নিশ্চয় আল্লাহপ্রেম ও প্রকৃত ঈমানের উৎকৃষ্টতম নিদর্শন।
যারা হজ-ওমরার উদ্দেশে পবিত্র মক্কা-মদিনা পৌঁছেছেন এবং যারা যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন আর যারা ঈদুল আজহায় কোরবানির নিয়ত করেছেন, সবাইকে আন্তরিক মোবারকবাদ। আল্লাহ তায়ালা সবার হজ-ওমরা ও কোরবানি কবুল করুন। আমিন।
'আস-সুবহুল জাদিদ' (আরবি ম্যাগাজিন)
হতে অনুবাদ : মুহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন
হজ হলো ইবরাহিম (আ.) ও তার ছেলে ইসমাঈল (আ.) এর সুন্নত। তার নবুয়তি কণ্ঠে ধ্বনিত আল্লাহর সেই কুদরতি ঘোষণা অনাগত ভবিষ্যতের অনেক মানব সন্তান শ্রবণ করে 'লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক' বলে তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন। শুধু সে সৌভাগ্যবানরা প্রতি বছর জিলহজে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইহরামের শ্বেত-শুভ্র কাপড় জোড়া পরিধান করে লাব্বাইকার গগনবিদারি ধ্বনি তুলে অজস্র স্মৃতিধন্য মক্কায় গমন করেন। অমর স্মারক আরাফাহ, মিনা, মুজদালিফা, সাফা-মারওয়া, জমজমকূপ প্রভৃতি ও সর্বোপরি বায়তুল্লাহ দর্শনে ধন্য হন এবং অনুপম ভাবগাম্ভীর্য ও ভক্তি-শ্রদ্ধায় হজব্রত ও ওমরার পুরো আহকাম পালন করেন।
'মিনা প্রান্তরে গিয়ে হজরত ইবরাহিম (আ.) কেমন করে খোদাপ্রেমে মত্ত হয়ে তাঁরই আনুগত্যের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করে স্বীয় ছেলে ইসমাঈলকে কোরবানি দিতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। পরিশেষে মহামহিম আল্লাহ তায়ালা তাদের বিরল ও চরম একনিষ্ঠতাপূর্ণ এ আত্মোৎস্বর্গকে কবুল করে ইসমাঈলকে জীবিত রেখে তার স্থানে জান্নাতি মেষ জবাই করান।' এ দৃশ্যগুলো সে সৌভাগ্যবানদের চোখের সামনে মূর্ত হয়ে ওঠে।
বাবা-ছেলের এমন অনুপম আনুগত্য ও ধৈর্যের অমর স্মৃতি কোরবানি হাজার হাজার বছর ধরে স্বমহিমায় দেদীপ্যমান। কেয়ামত অবধি এর ব্যত্যয় ঘটবে না। চলতে থাকবে অবিরাম। কবি সত্যি খুব সুন্দর করে বলেছেন, 'ইন্নাল মুহিব্বা লিমান ইউহিব্বু মুতিউ' অর্থাৎ 'নিঃসন্দেহে প্রেমিক প্রেমাস্পদের অনুগত হয়ে পড়ে।'
হজরত ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর সন্তুষ্টিকে পার্থিব সবচেয়ে প্রিয় বস্তু ও প্রেম-ভালোবাসার ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। ফলে আল্লাহ মানব ইতিহাসে তাদের মান-মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন, তার আলোচনা স্থায়ী করেছেন এবং তাদের এ একাজকে সুন্নত হিসেবে প্রচলিত ও অব্যাহত রেখেছেন, যা ইতিহাসের গতিধারায় ক্ষণে ক্ষণে নান্দনিক ও বাহারি রূপে ফুটে ওঠে। সে পবিত্র সময় থেকে দলে দলে লোকেরা এ বরকতময় স্থানে গমন করতে থাকে এবং মনের মাধুরী মিশিয়ে তাদের পরম প্রেম-উচ্ছ্বাস ও আবেগ-উদ্বেলতা আল্লাহ তায়ালার ভালোবাসার ঐশী চৌকাঠে নিবেদন করে চলছে; অকুণ্ঠচিত্তে ও প্রাণভরে।
হাজিরা খোদাপ্রেমের পাঠচুকে নবীপ্রেমের ষোলকলা পূর্ণ করতে ভালোবাসার ডানায় ভর করে উড়ে যান রাসুল (সা.) এর হাতে গড়া প্রদীপ্ত ও সুদৃপ্ত নগরী মদিনা মুনাওয়ারায়। মসজিদে নববিতে নামাজ, তেলাওয়াত, রাসুলের রওজা শরিফে সালাত-সালাম পেশসহ 'বাকিউল গরকদে' অগণিত সাহাবির কবর, উহুদ পাহাড়ের অনতিদূরে শোহাদায়ে উহুদের কবর জিয়ারত ও ইসলামের প্রথম মসজিদ 'মসজিদে কুবা'য় নামাজ আদায়ের পাশাপাশি আরও অনেক নিদর্শনাবলি দর্শনে ধন্য হন। অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য সফর এবং হজ-জিয়ারতের সব আহকাম শুদ্ধাভরে ও ভক্তি সহকারে পালন নিশ্চয় আল্লাহপ্রেম ও প্রকৃত ঈমানের উৎকৃষ্টতম নিদর্শন।
যারা হজ-ওমরার উদ্দেশে পবিত্র মক্কা-মদিনা পৌঁছেছেন এবং যারা যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন আর যারা ঈদুল আজহায় কোরবানির নিয়ত করেছেন, সবাইকে আন্তরিক মোবারকবাদ। আল্লাহ তায়ালা সবার হজ-ওমরা ও কোরবানি কবুল করুন। আমিন।
'আস-সুবহুল জাদিদ' (আরবি ম্যাগাজিন)
হতে অনুবাদ : মুহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন
