পড়ে আছে "মানুষ" ! পুলিশ গুলি করে মেরে ফেলেছে। ঘাটাইল এর মানুষ নির্বাক প্রতিরোধহীন দর্শক হয়ে থাকেনি, রাস্তায় নেমেছে, থানা ঘেরাও করতে নেমেছে, আল-আমিন আর তার মাকে উঠিয়ে নিয়ে গেছিল চেয়ারম্যানের লোকেরা। আল আমিন আর তার মাকে বিবস্ত্র করে মেরে আলামিনের সামনে তার মাকে ধর্ষণ করেছে... এর প্রতিবাদে নেমেছিল ঘাটাইলের মানুষেরা। পুলিশ তাই লাঠিপেটা করেছে, গুলি করে মেরে ফেলেছে এদের! পুলিশ বলেছে শুধু বিবস্ত্র করে মারা হয়েছে, ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি! যেন বিবস্ত্র করে মারাটা আর এমন কী! ছোটলোকের আবার বস্ত্র-বিবস্ত্র কী! তাই ছোটলোকের সম্ভ্রমহানির প্রতিবাদে ছোটলোকেরাই নেমেছে রাস্তায়... মরে পড়ে আছে রবি সুতারের ছেলে।
টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে ছেলের সামনে মাকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ এবং তারপর গ্রামবাসীর প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশের গুলিতে দুইজন নিহতের ঘটনায় নিজের ফেসবুকে এভাবেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মৌসুমী বিশ্বাস নামের একজন। পুলিশি ভূমিকার নিন্দা ও ক্ষোভে উত্তাল ফেসবুকের হোমপেজ। অভিনন্দিত হচ্ছেন টাঙ্গাইলের জনতা।
এক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিক আহমেদ ফয়েজ লিখেছেন,
প্রতিবাদের নতুন নাম টাঙ্গাইল। রক্ত মাটিকে পবিত্র করে। ঘুম ভাঙায়। রাষ্ট্র খুনি, ধর্ষক হলে, সেই রাষ্ট্রের মানুষেরা হয় প্রতিবাদি, অমানুষেরা চুপ থাকে।
টাঙ্গাইলের জনতাকে বীর আখ্যা দিয়ে সাবেক ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম লিখেছেন,
টাঙ্গাইল কালিহাতির বীর জনতার বুকের রক্তে কালো পিচ ঢালা পথ লাল রং এ রঙ্গিন ! মা এর সম্মান রক্ষা করতে মা ছেলের উপরে পাসবিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে কালিহাতির বীর জনতার মতো জেগে ওঠো বাংলাদেশ !
এত কিছুর পরও অপরাধীকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে পুলিশ; অন্য অনেকের মতো এই অভিযোগ তুলেছেনসাংবাদিক সৌমিত জয়দ্বীপপের ফেসবুকে পোষ্টে। তিনি লিখেছেন,
মা ও ছেলে উভয়েই অভিযোগ করলেন ধর্ষণের... মামলাও করা হলো... পুলিশ মামলার অভিযোগপত্রে 'ধর্ষণ' লিখল না। লিখল 'শ্লীলতাহানী'!
আসাদুজ্জামান মিলন নামের একজন তার ফেসবুকে লিখেছেন,
এই রাষ্ট্র কোন 'প্রতিবাদ' সহ্য করতে পারে না কেনো? এই রাষ্ট্র মানুষের জটলা দেখে ডড়ায় কেনো?? এই আওয়ামি লীগ সরকারের রাষ্ট্র তার প্রতিপক্ষ সবাইকেই নাকানি চুবানি খাইয়েছে, সবাইকেই পরাস্ত করেছে আর সম্ভাব্য সবকটা প্রতিষ্ঠানকেই হয় দখল করে বসেছে, নয়তো অকেজো করে দিয়েছে। এই সরকার, এই রাষ্ট্র যা দখল করতে পারে নি বা পারবে না, তা হলো মানুষের বিবেক- মানুষের স্বাভাবিক-স্বতঃস্ফুর্ত চেতনা! তারা জানে মানুষের রায় তাদের সাথে নাই! মানুষের সমর্থন তাদের সাথে নাই। তাই তারা ডড়ায়, মানুষকে ডড়ায়। মানুষের স্বতঃস্ফুর্ত প্রতিবাদ-বিক্ষোভকে ডড়ায়। লাঠি মেরে, গুলি করে মানুষকে দমাতে চায়!!
এখন মানুষই মানুষের রক্ষাকবচ, মানুষই মানুষের ঢাল।।