রমেশ সরকার, শেরপুর প্রতিনিধি:
শ্রীবরদীর সীমান্তবর্তী সিংগাবরুনা ইউনিয়নের ভারত থেকে বয়ে আসা পাহাড়ি ঝরনা কর্ণঝোরা নদীতে দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ, মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ কৃষি জমি নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। এতেকরে মেঘাদল গ্রামের ৭ শত পরিবার হুমকির মুখে পড়েছে। এর প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে মানব বন্ধন করেছে এলাকাবাসি।
জানাগেছে, শ্রীবরদী সীমান্তবর্তী মেঘাদল গ্রামের ভিতর দিয়ে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঝরনায় দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে একদল বালুদস্যু। বালুদস্যু নামে খ্যাত ঝিনাইগাতি উপজেলার ছামিউল হক ফকির কর্ণঝোরা নদীতে বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা নেয় জেলা পরিষদ থেকে। কর্ণঝোরা গ্রামের বালুদস্যু মাসুদ, আলামিন, নুরে আলম, সিদ্দিক মেম্বার, আবু বক্কর মেম্বারগংদের সহযোগিতায় নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে ক্ষমতার দাপটে দীর্ঘদিন যাবত তাদের ইচ্ছে মত ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছে। এর ফলে সীমান্তবর্তী এলাকার রাস্তায় এনদীর উপর নির্মিত ব্রীজ, এলাকার ঘর-বাড়ি, মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ফসলি জমি নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে হুমকির মুখে রয়েছে। এর প্রতিবাদে মেঘাদল গ্রামের লোকজন শনিবার দুপুরে কর্ণঝোরা ব্রীজের মানব বন্ধন করেছে। মানব বন্ধনে সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য আঞ্জুয়ারা, মুক্তিযোদ্ধা আব্দল জব্বার, ভিডিবি কমান্ডার ইজ্জত আলীসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে মেঘাদল গ্রামের লোকজন হুমকির মুখে পড়েছে।বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে এগ্রামসহ অনেক গ্রাম নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাবে। তারা আরো বলেন ইউপি চেয়ারম্যান আবু রায়হান বাবুল বালুদস্যুদের সহযোগিতা করছে । বালুদস্যুদের সহযোগিতার কথা অস্বিকার করে ইউপি চেয়ারম্যান আবু রায়হান বাবুল বলেন, আমি ওই স্থান থেকে বালু উত্তোলন করতে নিষেধ করছি। ইজারাদার ছামিউল ফকির বলেন, ইজারা আমার নামে, কিন্তু কর্ণঝোরার স্থানীয় লোকজন বালু উত্তোলন করছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবা শারমিন বলেন এলাকাবাসি অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।