ফল খেয়ে সুস্থ থাকুন

S M Ashraful Azom
বাংলাদেশ ফলমূলে সুসমৃদ্ধ। সারা বছরই বিভিন্ন রকমের ফল আমাদেরকে তৃপ্ত করে। আর সুস্বাদু ফল খেতে ছোট-বড় কে না পছন্দ করে! প্রতিদিনের খাবারের একটা বড় অংশ ফলমূল থাকা উচিত। তবে আমরা যদি একটু জেনে ও বুঝে ফল খাই তাহলে অনেক রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকতে পারব।
 
কোন ফলে কী উপাদান আছে এবং কোনটি খেলে কী উপকার হবে তা জেনেই ফল আহার করা উচিত। কোনো কোনো ফল আমাদের শরীরের জন্য খুব উপকারী, আবার কোনো কোনোটি বিশেষ বিশেষ রোগের জন্য ক্ষতিকর। সেক্ষেত্রে অবশ্যই অভিজ্ঞ ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নিয়েই ফল খাওয়া উচিত।
 
ফলে সবচেয়ে বেশি যে উপাদানটি থাকে তাহলো পানি। এছাড়া ফলের উল্লেখযোগ্য উপাদানগুলো হলো ভিটামিন, মিনারেলস (খনিজ লবণ) এবং ফাইবার (খাদ্য আঁশ)। যেহেতু ফল কাঁচাই খাওয়া যায় তাই ফলের ভিটামিনগুলো অক্ষত অবস্থায় আমাদের দেহে প্রবেশ করে। ভিটামিনের সবচেয়ে বড় উপকারিতা হলো তা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বেশিরভাগ ফলের ভিটামিনেই (যেমন—ভিটামিন-সি, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-ই) রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা বিভিন্ন রোগের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করে।
 
অ্যান্টি-অক্সিডেন্টযুক্ত ফলের মধ্যে লেবু, কমলালেবু, আম, আমড়া, পেয়ারা, আমলকি, আপেল অন্যতম। অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো এটি বার্ধক্যকে বিলম্বিত করে, অর্থাত্ অ্যান্টি-অক্সিডেন্টযুক্ত ফল খেলে বহু দিন তারুণ্য ধরে রাখা যায় এবং সতেজ থাকা যায়। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আমাদের ত্বক সতেজ রাখতে সহায়তা করে। সর্বোপরি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আমাদের দেহে ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। এবারে আসা যাক ফাইবারের কথায়।
 
ফলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ফাইবার বা খাদ্য-আঁশ। আমাদের হজম প্রক্রিয়া সচল রাখার জন্য ফাইবারের জুড়ি নেই। প্রতিদিনের খাবারে কমপক্ষে ২৫ গ্রাম ফাইবার থাকা উচিত। এই ফাইবার আমাদের দেহের ক্ষতিকারক অতিরিক্ত কোলেস্টরেল কমায়, ফলে হূদরোগের ঝুঁকি কমে। তাই এগুলো আমাদের ওজন কমাতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য দেশীয় কিন্তু কম ক্যালোরি মূল্যের ফলমূল অত্যন্ত উপকারী।
 
 
এছাড়া কিছু কিছু ফলে কার্বোহাইড্রেট থাকলেও প্রোটিন ও ফ্যাটের পরিমাণ কম থাকে। ফলের অন্যতম আরেকটি উপাদান হলো খনিজ লবণ (যেমন—সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, কপার ইত্যাদি)। এগুলো আমাদের খুব কম পরিমাণে দরকার হয়, তবে গ্রহণ না করলে ক্ষতি হয়। আবার কিছু কিছু রোগে কয়েকটি খনিজ লবণ নিষিদ্ধ, যেমন—কিডনির রোগে সোডিয়াম, পটাশিয়ামকে নিয়ন্ত্রিত কিংবা নিষিদ্ধ করা হয়।
 
কাজেই ফলের উপাদানগুলো সম্পর্কে জেনে নিয়ে সঠিক ফলমূলই গ্রহণ করতে হবে, তা নাহলে হিতে বিপরীত হতে পারে। ফলমূল নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমাদের দেশীয় ফলগুলোকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া যায়। রোগাক্রান্ত ব্যক্তির বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়েই ফল গ্রহণ করা ভালো। আর সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ সব ধরনের ফলমূলই গ্রহণ করতে পারেন। তাই প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ফল গ্রহণ করুন, রোগমুক্ত ভবিষ্যত্ নিশ্চিত করুন।
ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top