ঐতিহ্য ফেরাতে কাউখালীতে হাডুডু প্রতিযোগিতা

S M Ashraful Azom
কালের বিবর্তন আর আধুনিক খেলার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী হা-ডু-ডু খেলা। অথচ এক দশক আগেও স্কুল, আন্তঃজেলা বা উপজেলা ভিত্তিক প্রতিযোগিতায় জাতীয় এ খেলাটির প্রচলন ছিল চোখে পড়ার মত। বর্তমানে সেটিও হারিয়ে যেতে বসেছে। জাতীয় ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে তাই পিরোজপুরের কাউখালীতে এখন আয়োজিত হচ্ছে হাডুডু টুর্নামেন্ট।
আট দলের এ টুর্নামেন্টের ফাইনাল হবে ১৬ সেপ্টেম্বর। অংশগ্রহণকারী হাডুডু দলগুলো হলো কাউখালী উত্তর বাজার একাদশ, কুমিয়ান একাদশ, দাশের কাঠী একাদশ, রঘুনাথপুর একাদশ, বাশুরী একাদশ, কেউন্দিয়া একাদশ, চিরাপাড়া একাদশ, কচুয়াকাঠী একাদশ।
এর মধ্যে গতকাল শুক্রবারের খেলায় কচুয়াকাঠী একাদশ ২-১ গোলে দাশের কাঠীকে পরাজিত করে।
হালে কাবাডি হিসাবে খেলাটির নামকরণ হলেও গ্রামাঞ্চলে হাডুডু নামেই এটি পরিচিত সর্বমহলে। অরাজনৈতিক সংগঠন “আমরা কাউখালীবাসী” আয়োজিত এ প্রতিযোগিতা গত মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার উত্তর বাজার বালুর মাঠে শুরু হয়। এ টুর্নামেন্টটিকে ঘিরে উত্সবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে শহরজুড়ে। দুপুর থেকেই উত্সুক জনতা হাজির হয় কাউখালী বালুর মাঠে। দীর্ঘদিন পর এমন আয়োজনে খুশি দর্শকরাও।
জনশ্রুতি রয়েছে, একসময় প্রতি বছর বর্ষায় উপজেলাবাসীর বিনোদনের একটি বড় উত্সব ছিল এই হাডুডু খেলাকে ঘিরে। এ জেলায় ছিল বাঘা বাঘা সব হাডুডু খেলোয়াড়। তাদের নামডাক ছিল অন্য অঞ্চলেও। তারা এ জেলা থেকে আরেক জেলায় ভাড়ায় (খেপ) খেলতে যেতেন অহরহ। এ খেলাটি কেন্দ্র করে বসতো গ্রাম্য মেলাও। কিন্তু প্রায় দু’দশক ধরে কাউখালীসহ গ্রাম-গঞ্জে খেলাটি দেখা যাচ্ছিল না। কেননা ক্রিকেট ও ফুটবল দখল করে নিয়েছে এ জনপ্রিয় খেলাটির জায়গা।  স্থানীয় স্কুলছাত্র জামিল হাডুডু প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি আগে কখনও এই খেলা দেখিনি। বাবা-মায়ের কাছে হা-ডু-ডু খেলার কথা শুনেছি। খেলাটি দেখে আমি খুবই আনন্দ পেয়েছি।’
কাউখালীর এক সময়কার ফুটবল তারকা জাকির খেলাটি সম্পর্কে বলেন, ‘যখন ছোট ছিলাম তখন দেখেছি হাডুডু খেলার জনপ্রিয়তা কতটা ছিল। মানুষ এ খেলা দেখার জন্য পাগল ছিল। এ খেলাটি এক সময় মানুষের প্রাণের খেলা ছিল। এখনও এ খেলাটিকে কিছুটা হলেও ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এ জন্য সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার বিকল্প নেই। অন্যান্য খেলার পাশাপাশি প্রতিটি এলাকার ক্লাব সংগঠনকে এই খেলাটি বাধ্যতামূলক করা উচিত।’
কচুয়াকাঠী গ্রামের মোস্তাফিজ বলেন, ‘শুধু হাডুডু নয়, হারিয়ে যাওয়া গ্রাম বাংলার ঐহিত্যবাহী সকল খেলাই ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।’ হাডুডু খেলার আয়োজক পলাশ সিকদার জানান, জাতীয় এ খেলাটির অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্যই তাদের এ আয়োজন। আগামীতেও তাদের এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top