চারুকলা অনুষদের ১৪ বছর পূর্তি

S M Ashraful Azom
নতুন প্রজন্মের পাঁচ শতাধিক শিল্পীর শিল্পকর্ম নিয়ে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় গতকাল শুক্রবার  শুরু হয়েছে বিশেষ প্রদর্শনী। ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (ইউডা) চারুকলা অনুষদের ১৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন। প্রদর্শনীর শিল্পীরা সবাই ইউডার চারুকলা বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থী। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ১৪ বছরে পদার্পণ করছে ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (ইউডা) চারুকলা অনুষদ। আর এ উপলক্ষে ১০ দিনব্যাপী শিল্পকলা একাডেমি ও ইউডা চারুকলা অনুষদের যৌথ উদ্যোগে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
গতকাল বিকালে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন শিল্পী সমরজিত্ রায় চৌধুরী। প্রদর্শনী উদ্বোধন উপলক্ষে গতকাল শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। ইউডার প্রতিষ্ঠাতা মুজিব খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইন, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও উপন্যাসিক ইমদাদুল হক মিলন, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী, শিল্পী আফজাল হোসেন, অভিনেতা পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, জাপানি শিল্পী মাসাও সেকিয়া প্রমুখ। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইউডা চারুকলা বিভাগের চেয়ারম্যান শাহজাহান আহমেদ বিকাশ, ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অনুষদের ডিন অধ্যাপক এম মোস্তাফিজুর রহমান।
তরুণ শিল্পীদের প্রশংসা করে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘যারা ছবি আঁকেন, কবিতা লেখেন, তাদের আমি ঈর্ষা করি। কেননা সৃজনশীল এসব কাজ ভালো লাগলেও তা আমি পারি না। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, শিল্পীরাই জাতিকে স্বপ্ন দেখান। তাদের স্বপ্ন, তাদের সৃজনশীল চিন্তাচেতনা আমাদের এগিয়ে নিয়ে যায়।’
ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘একাত্তুরের মুক্তিযুদ্ধ ছিল আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় সুসময় এবং দুঃসময়। সুসময় এ জন্য যে, আমরা গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম, গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম। দুঃসময় এ জন্য যে, আমরা ৩০ লাখ বাঙালিকে হারিয়েছি। প্রায় ১ কোটি শরণার্থী তখন আশ্রয় নিয়েছিল বন্ধুপ্রতীম ভারতে। আমরা দুঃসময় পার হয়ে এসেছি, এখন সুসময়ের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে।’
প্রদর্শনীতে তরুণ ও নবীন শিল্পীদের অধিকাংশ কাজ নিরীক্ষাধর্মী। তাতে উঠে এসেছে চলমান সমাজ বাস্তবতার নানা বিষয়। এছাড়াও উদীয়মান শিল্পীদের রঙ-তুলির ছোঁয়ায় উদ্ভাসিত হয়েছে বাংলার রূপময় নিঃসর্গ, যাপিত জীবনের নানা অনুষঙ্গ, ক্ষুদ্র নৃ-নৃ গোষ্ঠীর নারীর কর্মচাঞ্চল্য, রমণীর শরীরি সৌন্দর্য, দিনমজুরের জীবনের গল্প, শিশুদের দুরন্তপনাসহ নানা বিষয়।
শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদকে
প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা
এদিকে গতকাল ছিল মুক্তিযোদ্ধা ও চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদের ৬৫তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা। খ্যাতিমান এ চিত্রশিল্পীর জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী ও তার ছোট বোনের পক্ষ থেকে ফুলের তোড়া নিয়ে শাহাবুদ্দিন আহমেদের কলাবাগানের বাসায় যান প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল। শিল্পীর জন্মদিন উপলক্ষে সেখানে একটি  অনাড়ম্বর অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে শাহাবুদ্দিন আহমেদের হাতে প্রধানমন্ত্রী ও তার বোনের শুভেচ্ছার ফুল তুলে দেন মাহবুবুল হক শাকিল। জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি শিল্পীর দীর্ঘায়ুও কামনা করেন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা।
১৯৫০ সালে জন্মগ্রহণকারী শাহাবুুদ্দিন বাংলাদেশ কলেজ অব আর্টস অ্যান্ড ক্র্যাফটস থেকে স্নাতক করার পর ফরাসি সরকারের একটি স্কলারশিপ নিয়ে প্যারিসে যান। মুক্তিযোদ্ধা ও চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ চিত্রকর্মে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য রীতির সম্মিলন ঘটিয়ে নতুন ধরনের একটি স্টাইল নিয়ে এসেছেন, যা তাকে ইউরোপীয় চিত্র প্রেমিকদের মাঝে অনন্য করে তুলেছে। চিত্রকর্মে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্যারিসে বসবাসরত এই বাংলাদেশি চিত্রশিল্পীকে গত বছর নাইট উপাধিতে ভূষিত করে ফরাসি সরকার।
আজ শনিবার দুপুর ১২টায় শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে ইউডার পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদকে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। এতে অতিথি থাকবেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। এছাড়াও ১৭ সেপ্টেম্বর থাকছে পুরস্কার বিতরণী ও বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারকে সম্মান প্রদান।
সবার জন্য উন্মুক্ত প্রদর্শনী চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
এছাড়া ধানমন্ডির গ্যালারি চিত্রকে শুরু হয়েছে শিল্পী তাজুল ইসলাম ও শিল্পী লক্ষণ সূত্রধরের যৌথ ট্যাপেস্ট্রি প্রদর্শনী। ট্যাপেস্ট্রি তথা বয়নচিত্র শিল্প বিশ্বের অন্যতম একটি সমৃদ্ধ শিল্প মাধ্যম। বিশ্বে শিল্প হিসেবে যে সব মাধ্যম রয়েছে তার মধ্যে ট্যাপেস্ট্রিই সবচেয়ে ভিন্নধারার, ব্যয়বহুল ও শ্রমসাধ্য। আমাদের দেশে ঘরের মেঝেতে ব্যবহারের জন্য শতরঞ্জি বা কার্পেট হিসেবে এই ট্যাপেস্ট্রি বা বয়নশিল্পের প্রচলন হয়ে আসছে। এ ধরনের সৃষ্টিই আসলে ট্যাপেস্ট্রি শিল্প। বাংলাদেশে এ শিল্পের প্রথম শিল্পী রশিদ চৌধুরী। তার অধীনে কাজ করেছেন শিল্পী তাজুল ইসলাম। আর তাজুল ইসলামের অনুপ্রেরণায় আরও একজন এ শিল্পে বিশেষ দীক্ষা নিয়েছেন তিনি লক্ষণ সূত্রধর।
বর্তমানে সমকালীন শিল্পীদের মধ্যে ট্যাপেস্ট্রির জগতে তাজুল অন্যতম। গত ৪৭ বছর ধরে তাজুল ইসলাম ট্যাপেস্ট্রির জগত্ নিয়ে কাজ করছেন। শিল্পী রশিদ চৌধুরীর সহকর্মী হিসেবে তাজুল কাজের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পান। এরপর থেকে তিনি একান্তভাবে নিজের চিন্তায় একাগ্রচিত্তে অনেক কাজ করেছেন। বর্তমানে তার কাজে নিজস্ব ধারা ও ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠেছে। তার গভীর চিন্তাধারা প্রকাশের ধারাবাহিকতায় তাজুল বর্তমানে এ মাধ্যমে বিশেষ স্থান অধিকার করে আছেন।
এই দুইশিল্পীর যৌথ প্রদর্শনীই গতকাল উদ্বোধন করেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও চিত্র সমালোচক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি এ্যান্ড ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির ফ্যাকাল্টি অব ফাইন অ্যান্ড পারফর্মিং আর্ট বিভাগের ডিন অধ্যাপক মিজানুর রাহিম। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন গ্যালারি চিত্রকের নির্বাহী পরিচালক মোঃ মুনিরুজ্জামান। প্রদর্শনীতে তাজুল ইসলামের ২৮টি এবং লক্ষণ সূত্রধরের ২৫ মোট ৫৩টি চিত্র স্থান পাবে। প্রদর্শনী আগামী ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে।
জাতীয় জাদুঘরে প্রজাপতি প্রদর্শনী:শুক্রবার জাতীয় জাদুঘরে শুরু হয়েছে ‘বাটারফ্লাই বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রদর্শনী। ৯০ জন আলোকচিত্রীর ১৩৪টি ছবি নিয়ে শুরু হয়েছে এ প্রদর্শনী। চলবে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মনোয়ার হোসেন তুহিন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল আলিম।
আবু মুহাম্মাদ মুরতাঈশ কচিকে স্মরণ:‘পদাতিক নাট্য সংসদ-টিএসসি’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক এবং নাট্যাঙ্গনের নিবেদিত প্রাণ আবু মুহাম্মাদ মুরতাঈশ কচি’র আজ ১৩তম প্রয়াণ দিবস। নাট্যাঙ্গনের নিবেদিত প্রাণ এই ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘পদাতিক নাট্য সংসদ-টিএসসি’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘কচি স্মৃতি পথ নাট্যোত্সব-২০১৫’। গতকাল শুক্রবার বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় নাট্যাঙ্গনের নিবেদিত প্রাণ প্রয়াত কচি’র প্রতি শ্রদ্ধার্ঘের এই আয়োজন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন- নাট্যব্যক্তিত্ব ম. হামিদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান ও বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক-আহমেদ গিয়াস। পদাতিকের সভাপতি সৈয়দ তাসনীন হোসাইনের সভাপতিত্বে এ আয়োজনের স্বাগত বক্তব্য রাখেন পদাতিকের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য সাংবাদিক কাজী রফিক। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংগঠনটির সহ-সভাপতি মোসলেউদ্দিন রুনু। অনুষ্ঠানের স্মরণালোচনা শেষে শুরু হয় পথনাটক পরিবেশন, আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশন।
ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top