ফরিদপুরের সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের পল্লীকবি জসীম উদ্দীন ও স্ত্রী মমতাজ জসীম উদ্দীনের কবরের পাশে চির নিদ্রায় শায়িত হলেন তাঁর নাতি এবং সাবেক আইনমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের ছেলে আমান মমতাজ আহমেদ (৩৮)। এর আগে ১৯৮০ সালে মওদুদ আহমেদ এর আরেক ছেলে আসিফকেও এখানেই নানার কবরের পাশে দাফন করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে আমান মমতাজ আহমেদকে কবরে শায়িত করা হয়। এ সময় মরহুম আমানের মা হাসিনা মওদুদ, খালা আসমা এলাহী চৌধুরীসহ আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এর আগে কুমার নদের তীরে জসীম উদ্যানে মরহুমের চতুর্থ নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বাবা মওদুদ আহমেদ, মামা খুরশীদ আনোয়ার, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, নির্বাহী সদস্য শাহ মো.আবু জাফর, তাজওয়ার আওয়াল, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ তাবরীজ, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার আলী জুয়েলসহ বিএনপির নেতাকর্মীসহ এলাকার বহু মানুষ অংশ নেন। নামাজে জানাজায় ইমামতি করেন মাওলানা আব্দুল আউয়াল।
জানাজার আগে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মওদুদ আহমেদ তাঁর মরহুম সন্তান আমানের জন্য উপস্থিত সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। এ সময় তিনি আরো জানান, তার এলাকার মানুষ চেয়েছিলেন নোয়াখালীতেই আমানের দাফন করার জন্য। কিন্তু আমানের মায়ের ইচ্ছেতেই নানা-নানীর কবরের পাশে তাকে দাফন করা হল।
এর আগে বিকেল চারটা পাঁচ মিনিটে ফরিদপুর নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট মাঠে হেলিকপ্টার যোগে আমানের লাশ ফরিদপুরে আনা হয়। অপর একটি হেলিকপ্টারে মওদুদ আহমেদসহ আত্মীয়স্বজনরা আসেন। পরে ফরিদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে করে আমানের মরদেহ জানাজার জন্য গোবিন্দপুর গ্রামের জসীম উদ্যানে নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের ছেলে আমান ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে তাঁকে গত ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হয়। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে ১৫ সেপ্টেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার সময় তাঁর মৃত্যু হয়। সিঙ্গাপুর, ঢাকা ও নোয়াখালীতে জানাজা শেষে আমানের মরদেহ দাফনের জন্য ফরিদপুরে আনা হয়।

