আইএস নিয়ে বিভ্রান্তি

S M Ashraful Azom


যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সিক্রেট ইন্টিলিজেন্স সার্ভিস নামক ওয়েবসাইট থেকে বলা হয়, বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে। তবে এই হামলা হবে এমপি, মন্ত্রীসহ ভিভিআইপদের ওপর। এটি আমেরিকান অ্যাম্বাসি থেকে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে সরবরাহ করা হয়। ইতালি নাগরিক হত্যাকাণ্ডের তিনদিন আগে এটি দেয়া হয়।
পরে ওই সংস্থা তথ্যটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে। তবে সেখানে বিদেশি নাগরিক হত্যার বিষয়ে কোনো তথ্য ছিলো না। তবে ইতালি নাগরিক হত্যার পর আমেরিকান অ্যাম্বাসি দাবি করে, আমরা আগেই সরকারকে সতর্ক করেছিলাম। এই প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জানান, ওই তথ্যে বিদেশি নাগরিক হত্যার কোনো আভাস দেয়া হয়নি।
গুলশানে ইতালীয় নাগরিক খুনের পর আরবি লেখায় দায় স্বীকার করে ইসলামিক স্টেট (আইএস) এমনটি দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সাইটইন্টেল গ্রুপ নামে একটি ওয়েবসাইট। গোয়েন্দারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, ঢাকা থেকে পাঠানো একটি টুইট বার্তায় ওই হত্যাকাণ্ডের দায় আইএস বলে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়। পরে এটি ওয়েবসাইটের কর্ণধার রিটা কাত্জ’র কাছে জানতে চাইলে কোন্ তথ্য দিতে পারেননি। পরে তিনি এই সংক্রান্ত সংবাদটি ওয়েবসাইট থেকে তুলে ফেলেন।
পরে রংপুরে জাপানি নাগরিক খুন হওয়ার পর আবারও সেই ওয়েবসাইটে এই হত্যার দায় আইএস স্বীকার করেছে বলে প্রকাশ করে। এই টুইট বার্তাটি রংপুর থেকে প্রেরণ করা হয়েছে বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন। দুইটি টুইট বার্তার পেছনে কারা আছেন এ বিষয়ে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছেন। 
দুই বিদেশি নাগরিক হত্যাকাণ্ডের আগে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা টিম বাংলাদেশ পর্যবেক্ষণে আসেন। তারা নিরাপত্তা বিষয়ে পুলিশ, র্যাব এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর তারা নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত হন। এই নিরাপত্তা দলটি বাংলাদেশ ত্যাগের একদিন আগে ইতালি নাগরিককে খুন করা হয়। পাল্টে যায় দৃশ্যপট।
যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ওই ওয়েবসাইট থেকে বাংলাদেশ ছাড়া আরও ৬৮টি দেশকে একই ধরনের সন্ত্রাসী হামলার তথ্য প্রদান করে। এসব দেশে বিদেশি নাগরিকদের ভ্রমণে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া হয়। এই তালিকায় বাংলাদেশ ছিলো ১৯ নম্বরে।
এদিকে ভ্রমণ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকার বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশে চলাচলের ক্ষেত্রে তাদের দেশের নাগরিকদের উচ্চ সতর্ক থাকতে বলেছে। বাংলাদেশে সতর্ক বার্তা পাঠিয়েছে চলতি বছরের ৪ অক্টোবর। ভারতে একই তথ্য পাঠিয়েছে ১১ সেপ্টেম্বর, শ্রীলংকায় পাঠিয়েছে ২৪ জুলাই। এছাড়া আফগানিস্তানে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এসব বিষয় বিশ্লেষণ করে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিক হত্যা সুপরিকল্পিত। এটার সঙ্গে দেশি-বিদেশি একটি চক্র জড়িত আছে। তাদের সঙ্গে আমাদের দেশের একশ্রেণির গোয়েন্দারাও জড়িত রয়েছে। বিগত দিনে সরকারবিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম করে যারা সফল হতে পারেনি এই গ্রুপটিও চক্রান্তে জড়িত বলে নিশ্চিত হয়েছে গোয়েন্দারা।
হামলা নিয়ে দুটি ওয়েবসাইটে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করায় বুঝা যায়, ওই ঘটনার সঙ্গে আন্তর্জাতিক চক্র জড়িত। যারা সক্রিয়ভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিরোধিতা করেছেন তারা এখনও বিরোধিতা করে চলেছেন। পরিকল্পনায় ওই চক্রটির জড়িত থাকার যোগসূত্র আছে বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।
দুই বিদেশি নাগরিক হত্যাকাণ্ড তদন্তে ৬টি সংস্থা কাজ করছে। তবে তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলেও খুনিদের ও মোটিভ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রমাণ গোয়েন্দাদের হাতে রয়েছে। তবে প্রকৃত ঘটনা জাতির কাছে তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন। 
পুলিশের আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক এ প্রসঙ্গে বলেছেন, দুই বিদেশি নাগরিক হত্যা রহস্য উদঘাটনে কত সময় লাগবে তা বলা যাবে না। অপেক্ষা করতে হবে। কারণ তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোন মতামত দিতে পারব না। আশা করি, আমরা রহস্য উদঘাটন করতে পারবো। রহস্য উদঘাটন করে জাতির কাছে তা প্রকাশ করা হবে।
ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top