খরা, বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস প্রভৃতি কারণে প্রায় প্রতিবছর কম-বেশি ফসলহানি ঘটে। ক্ষতির কারণ হিসেবে যুক্ত রয়েছ ইঁদুরও। কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী ইঁদুরের দ্বারা বছর ক্ষতি হয় ৭০০ কোটি টাকারও বেশি ফসল। তাই ইঁদুর নিধন করে এ ক্ষতি থেকে ফসলকে রক্ষার দাবিতে প্রতিবছর উদ্যাপিত হয় ইঁদুর নিধন অভিযান।
২০১৪-২০১৫ সালে ইঁদুর দ্বারা মোট ৭২৩ কোটি ৭২ লাখ ৭ হাজার ৩৫৫ টাকার শুধু ধান, চাল ও গম ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ধান প্রায় ২ লাখ ৩৭ হাজার ৭৪৪ টন, ৬২ হাজার ৭৬৪ টন চাল এবং গম ফসলের ক্ষতির পরিমাণ ২৯ হাজার ৬৬০ টন।
কৃষি বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে—বাংলাদেশে ইঁদুরের আক্রমণের কারণে বছরে আমন ধানের শতকরা ৫-৭ ভাগ, গম ৪-১২ ভাগ, গোলআলু ৫-৭ ভাগ, আনারস ৬-৯ ভাগ নষ্ট করে। গড়ে মাঠ ফসলের ৫-৭ ভাগ এবং গুদামজাত শস্য ৩-৫ ভাগ ক্ষতি করে। ইঁদুর শতকরা ৭-১০ ভাগ সেচ নালা নষ্ট করে থাকে। ইরির ২০১৩ সালের এক গবেষণা মতে, এশিয়ায় ইঁদুর বছরে ১৮ কোটি মানুষের এক বছরের খাবার খেয়ে নষ্ট করে ফেলে। আর শুধু বাংলাদেশে ইঁদুর ৫০-৫৪ লাখ লোকের এক বছরের খাবার নষ্ট করে। এ ছাড়া, ইঁদুরের মাধ্যমে মোট ৬০ ধরনের রোগ ছড়ায়। ইঁদুর মুরগির খামারে গর্ত করে মুরগির ডিম ও ছোট বাচ্চা খেয়ে ফেলে। বারির অমেরুদন্ডী প্রাণী বিভাগের হিসাবে ইঁদুর দেশের প্রতিটি মুরগির খামারে বছরে ১৮ হাজার টাকার ক্ষতি করে।
ইঁদুরের ক্ষতির কথা বিবেচনা করে ১৯৮৩ সাল থেকে জাতীয়ভাবে ইঁদুর নিধন অভিযান পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্ষাকালে ইঁদুর নিধনের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এ সময় দেশের মাঠঘাট পানিতে তলিয়ে যায় বিধায় ইঁদুর ঝোপ-জঙ্গল কিংবা উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেয়। এ সব আশ্রয়স্থলে উপযুক্ত দমনপদ্ধতি প্রয়োগ করে সহজেই ইঁদুর মারা যায়।
বুধবার থেকে আগামী ৬ নভেম্বর সারা দেশে ইঁদুর নিধন অভিযান উদ্যাপন করা হবে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘ইঁদুর ধরুন ইঁদুর মারুন, ইঁদুর মুক্ত খামার গড়ুন’। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ফার্মগেটস্থ আ কা মু গিয়াস উদ্দিন মিলকী অডিটরিয়ামে জাতীয় ইঁদুর নিধন অভিযানের উদ্বোধন এবং ২০১৪-এর পুরস্কার বিতরণ করা হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. হামিদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
ইঁদুর নিধন অভিযান ২০১৫ উপলক্ষে র্যালি ও অডিটরিয়াম চত্বরে মেলার আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ মেলায় অংশগ্রহণ করবে।
অনুষ্ঠানে ইঁদুর নিধন অভিযান-২০১৪ সালের জাতীয় পর্যায়ে ৩ জন কৃষক, ৩ টি জেলা, ৩ জন উপসহকারী কর্মকর্তা, ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তিনটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে নগদ অর্থ, ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হবে। এ ছাড়া, ঢাকা অঞ্চলের ৬টি জেলার ১ জন করে কৃষক, ৩ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ১টি উপজেলাকে পুরস্কার প্রদান করা হবে।

