১৫৬ কোটি ব্যয়ে তিতাস খনন প্রকল্প অনুমোদিত

S M Ashraful Azom
নদী খনন
ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে অবশেষে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত তিতাস নদী খনন প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। গত মঙ্গলবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত একনেকের সভায় তিতাস নদী খননের প্রকল্প অনুমোদিত হয়। এই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ৯০ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার তিতাস নদী খনন, ৩ কিলোমিটার এন্ডারসন (কুরুলিয়া খাল) খাল খনন এবং ৯ কিলোমিটার পাগলা নদী খনন।  এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫৬ কোটি টাকা।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আগামী ৫ বছরে এ প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার পর এর খনন কাজ শুরু হবে। আশা করা হচ্ছে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এর খনন কাজ শুরু হবে।
 
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জান্য়া, সরাইল উপজেলার আজবপুর তিতাস নদীর উৎপত্তিস্থল থেকে সরাইলের শাহবাজপুর, নাসিরনগর উপজেলার কুন্ডা, আখাউড়া উপজেলার বড় বাজার, সদর উপজেলার উজানিসার ঘুরে গোকর্নঘাট হয়ে তিতাস নদীর বিভিন্ন স্থানে ৯০ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার তিতাস নদী খনন করা হবে। এছাড়া পাগলা নদীর নবীনগর উপজেলার খারঘর ও আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুর এলাকার ৯ কিলোমিটার এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের এন্ডারসন খালের ৩ কিলোমিটার এলাকা নদী খনন করা হবে।তিতাস নদী খনন হলে গ্রীষ্ম মৌসুমে এই এলাকার  ৫৮ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। নৌ-চলাচলে সুবিধা বাড়বে। জেলায় মাছের উৎপাদন বাড়বে, দারিদ্রতা হ্রাস পাবে। জলাবদ্ধতার হাত থেকে মুক্তি পাওয়াসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে।
 
তিতাস নদী খননের দাবিটি ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর দীর্ঘদিনের। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরেই এ প্রকল্পটি অনুমোদনের চেষ্টা করে আসছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিতাস নদী খনন করার ঘোষণা দেন।
 
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী  জাকির হোসেন জানান,আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে খনন কাজ শুরু হবে এবং ৫ বছরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে বলে আশা করছি।
 
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু নাসের জানান, তিতাস নদী খনন হলে এলাকার ৫৮ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।এছাড়া নতুন কৃষি জমি সেচের আওতায় আসবে। নদীতে নাব্যতা বাড়বে এবং নৌ চলাচলে সুবিধা হবে।

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top