পুঁজিবাজার ফের টালমাটাল হয়ে উঠেছে। রবিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সার্বিক মূল্য সূচক কমেছে ৬৮ পয়েন্ট। এর আগে গেল সপ্তাহেও সূচক ছিল নিম্নমুখী। গত তিন কর্মদিবসে সূচক কমেছে ১৭১ পয়েন্ট। একই সঙ্গে লেনদেনও কমে গেছে। ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩১০ কোটি টাকার।
টানা দরপতনের ফলে সূচক অনেক কমে যাওয়ায় পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা হতাশ। তারা বলছেন—কয়েক দিন একটু ভালো থাকার পর পুনরায় বাজারে ধস শুরু হয়েছে। পাশাপাশি লেনদেনও কমে গেছে। লেনদেন কমে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে—প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে আসছেন না। এতে বাজারে দরপতন ত্বরান্বিত হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বাজারে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান তারা।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন—বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে। ফের দরপতন হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই বাজারে ক্রেতা কমে গেছে। ফলে দরপতন থামছে না। এ আশঙ্কা গত সপ্তাহেই শুরু হয়েছে, যা চলতি সপ্তাহেও অব্যাহত রয়েছে। তবে এ অবস্থায় অনাস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে এলে সব বিনিয়োগকারীই আস্থা ফিরে পাবেন।
তথ্যে দেখা গেছে—রবিবার ডিএসইতে কিছু খাতের সব কোম্পানিরই শেয়ারদর আগের কর্মদিবসের তুলনায় কমেছে। এর মধ্যে রয়েছে—টেলিযোগাযোগ খাত, সেবা ও আবাসন খাত, কাগজ ও মুদ্রণ খাত এবং সিরামিক খাত। এ ছাড়া, বাজারে লেনদেনকৃত ৭৯ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে। তবে দর কমার ক্ষেত্রে শীর্ষে ছিল সিমেন্ট খাত। এ খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর কমেছে সাড়ে ৪ শতাংশ। এ ছাড়া, জ্বালানি খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর কমেছে ২ দশমিক ২ শতাংশ। টেক্সটাইল খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর কমেছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ। এবং ব্যাংক ও ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর কমেছে ১ দশমিক ২ শতাংশ।

