পে-স্কেলের নথি ফেরত চাইলেন ক্ষুব্ধ অর্থমন্ত্রী

S M Ashraful Azom
সরকার ঘোষিত অষ্টম বেতনক্রম নিয়ে এবার ক্ষুব্ধ খোদ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। তাই তাকে না জানিয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে মতামতের জন্য পাঠানো বেতনক্রম সংক্রান্ত নথি গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের  লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব সহিদুল হককে নিজ দপ্তরে ডেকে ফেরত দিতে বলেছেন। একইসঙ্গে নিজ বিভাগের সচিব মাহবুব আহমেদকে বেতনক্রম সম্পর্কে তার মতামত বা সুপারিশ বিষয়ে লেখা নথি তার (অর্থমন্ত্রী) কাছে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি নিজেই পুরো বেতনক্রম পর্যালোচনা করবেন বলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।
 
প্রসঙ্গত, অষ্টম বেতনক্রম নিয়ে প্রশাসন ক্যাডার বহির্ভূত কর্মকর্তারা ভীষণ ক্ষুব্ধ। তারা ইতিমধ্যে সভা-সমাবেশে সে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। সরকারের কর্মচারী থেকে শুরু করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকেরাও ক্ষুব্ধ। তাদের মূল দাবি সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল পুনর্বহাল।
 
অর্থ বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সিলেকশন গ্রেড বা টাইম স্কেল পুনর্বহাল না করে কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষতি পুষিয়ে দেয়া যায়—তা নিয়ে বিকল্প চিন্তাভাবনা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী চাকরির চার বছর ও ১০ বছর পূর্তিতে একটি করে সিলেকশন গ্রেড দেয়া হয়। এতে সংশ্লিষ্টরা ঊর্ধ্বতন পদ পান না বটে কিন্তু ঊর্ধ্বতন পদের আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকেন। এখন চিন্তা করা হচ্ছে যে, এ ধরনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্ষেত্রে চার বছরের সুযোগ বাদ রেখে সন্তোষজনক চাকরির শর্তে দশ বছর পূরণ হলে ঊর্ধ্বতন পদের আর্ির্থক সুবিধা দেয়া যায় কী না। তবে এতে বড় বাধা সচিব কমিটি।
 
ড. ফরাস উদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত বেতন কমিশনের প্রতিবেদনে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছিল। সচিব কমিটি তা এবারেই প্রত্যাহারের সুপারিশ করে। অর্থবিভাগও এটি বহাল রাখে। সচিব কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদনের ভিত্তিতে অর্থ বিভাগ অষ্টম বেতনক্রম মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য পাঠায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সচিবদের বেতন কিছুটা বাড়িয়ে দেন এবং সেভাবেই অনুমোদিত হয় অষ্টম বেতনক্রম। নিয়ম অনুযায়ী মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর তা গেজেট আকারে প্রকাশ করে কার্যকর করার কথা। এর আগে আইনি মতামতের জন্য মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগে পাঠাতে হয়। মন্ত্রিসভার ওই বৈঠকে ঠিক হয়েছিল বেতনক্রম নিয়ে সংক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর বিষয়গুলো পর্যালোচনা করতে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন হবে। সে কমিটি গঠনও হয়েছে। এরই ফাঁকে অর্থমন্ত্রীকে অজ্ঞাত রেখে বেতনক্রম সংক্রান্ত নথি মতামতের জন্য লেজিসলেটিভ বিভাগে পাঠানো হয়। আর এ কাজটি করেছেন অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আলী। তাই গেল সোমবার বেশকিছু কর্মকর্তা তার কক্ষে হাজির হয়ে এর প্রতিবাদ করেন। এ সময় অতিরিক্ত সচিবের সঙ্গে সংক্ষুব্ধ কর্মকর্তাদের উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডাও হয়।
 
প্রসঙ্গত, গত ৭ সেপ্টেম্বর নতুন বেতনক্রম ঘোষণা করা হয়। কথা ছিল মন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ১৬ অক্টোবর দেশে ফিরলে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে। কিন্তু তার আগেই প্রস্তাবটি গেজেট করার জন্য লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিভাগে পাঠানোয় ক্ষোভ নিরসন তো দূরের কথা বরং একে আরো উস্কে দেয়া হলো।
 
কম রাজস্ব আদায়ে হতাশ অর্থমন্ত্রী:চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে লক্ষ্যমাত্রার চাইতে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় কম হয়েছে। এতে অসন্তোষ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, এটা একটা ‘ব্যাড সিগন্যাল’। এ জন্য এনবিআরের অভ্যন্তরীণ বিরোধকে দায়ী করে তিনি বলেন, এনবিআর চেয়ারম্যানকে ডেকে এ বিষয়ে কথা বলব। গতকাল মঙ্গলবার সফররত রাশিয়ার নিউক্লিয়ার কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
 
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ ব্যয় ১৩৫০ কোটি ডলার: বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, দুই ইউনিট বিশিষ্ট রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণে ১ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার ব্যয় হবে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ ব্যয় বহন করবে বাংলাদেশ সরকার। দুটি ইউনিটের কাজ শেষ হতে ৮ থেকে ৯ বছর সময় লাগবে। এখান থেকে প্রায় ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ পাওয়া যাবে। 
 
অর্থমন্ত্রী বলেন, পাওয়ার প্ল্যান্ট দুটি নির্মাণে আগামী এক মাসের মধ্যে দুটি সাধারণ চুক্তি এবং আগামী বছর এপ্রিলের মধ্যে মূল চুক্তি সম্পাদন করতে চায় রাশিয়া। রাশিয়ান ফেডারেশন ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার করপোরেশন রোসাটোম-এর উপ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এন স্পাসকি ছাড়াও বৈঠকে ঢাকাস্থ রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত নিকোলাভ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top