ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ১৫ প্রকল্পের উদ্বোধন

S M Ashraful Azom
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের চিন্তা না করে শুধু অর্থের হিসাব নিয়ে ব্যস্ত থাকে বিশ্বব্যাংক। গতকাল বৃহস্পতিবার গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নতুন ৩টি বিদ্যুত্ কেন্দ্রসহ ১৫টি প্রকল্পের উদ্বোধনকালে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম স্ট্যান্ডার্ড গেজ ডাবল লাইন নির্মাণের বিষয়ে প্রস্তুতকৃত এনিমেটেড প্রেজেন্টেশন দেখে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমান সরকার উন্নয়ন কাজ করে যাচ্ছে। অনেক এলাকায় অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান আছে। এসব উন্নয়ন প্রকল্প যাতে দ্রুতগতিতে সঠিক সময়ে সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, দেশটাকে আমরা আরো দ্রুত উন্নত করতে পারব। এ সময় তিনি যোগাযোগের ক্ষেত্রে রেলপথের পাশাপাশি নৌপথকেও সমান গুরুত্ব দেয়ার নির্দেশ দেন।
 
প্রধানমন্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে প্রায় ৪৭৫ মেগাওয়াট উত্পাদন ক্ষমতার নতুন তিনটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। এনিয়ে বাংলাদেশে বিদ্যুত্ কেন্দ্রর সংখ্যা একশ হল। এরমধ্যে ২০০৯ সালে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে বিগত সাড়ে ৬ বছরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ৭৩টি নতুন বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপন করেছে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে সেঞ্চুরি করতে পারায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। ক্রিকেট খেলায় সেঞ্চুরি হয়; বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণেও বাংলাদেশ সেঞ্চুরি করেছে। কাজেই এটা একটা বিরাট অর্জন। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করা এবং আমরা তা করতে পারবো ইনশাল্লাহ। শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালে তার সরকার যখন ক্ষমতা গ্রহণ করে তখন দেশে বিদ্যুতের সংকট ছিল ভয়াবহ। এ সময় বিদ্যুতের হাহাকার দূর করতে প্রথমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। এখন সরকার অনেকগুলো বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সেগুলোতে একটু সময় লাগবে। কিন্তু বাংলাদেশে কখনো যেন আর বিদ্যুতের সমস্যা না হয়- সেদিকে লক্ষ্য রেখেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, শুধুমাত্র বিদ্যুত্ নয়; খাদ্য নিরাপত্তা, অবকাঠামোসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ যথেষ্ট এগিয়েছে।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। স্বাধীন বাংলাদেশ সুখী সমৃদ্ধ হবে,  বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হবে। বাঙালি জাতি যেন বিশ্বে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে সেটাই আমাদের কাম্য।
 
নতুন তিনটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রের মধ্যে ‘আশুগঞ্জ ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল’ বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এর সিম্পল সাইকেলের ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ ইতিমধ্যে জাতীয় গ্রিডে যোগ হতে শুরু করেছে। কম্বাইন্ড সাইকেলের ৭৫ মেগাওয়াটও নভেম্বরে জাতীয় গ্রিডে যাবে। ‘ইউনাইটেড আশুগঞ্জ ২০০ মেগাওয়াট মডিউলার বিদ্যুত্ কেন্দ্র’ নির্মিত হয়েছে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে। 
 
এছাড়া ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী সিলেটের কাজীর বাজার সেতু, মানিকগঞ্জের হেমায়েতপুর-সিঙ্গাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে নয়াকান্দি সেতুসহ কিটিংচর ও সাটুরিয়া সেতু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কে বলভদ্র সেতু, পোস্তগোলা সরকারি আধুনিক ময়দার মিল, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা হল’ ও ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল’র উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে সিলেট বিমানবন্দরের বাইপাস ইন্টার সেকশন-লালবাগ-সালুটিকর-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ সড়ককে জাতীয় মহাসড়কে উন্নীতকরণ প্রকল্প, মানিকগঞ্জের হেমায়েতপুর-সিঙ্গাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে মানিকগঞ্জ শহরাংশের চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোড়াইল রেলক্রসিংয়ের উপর ‘রেলওয়ে ওভারপাস’ নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত, সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন থেকেই বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেছেন। তিনি বলেন, আমরা ওই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা উন্নয়নের গতি জোরদার করতে চাই। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি শেখ হাসিনা হিসেবেই থাকতে চান, অন্য কিছু নয়। সিলেটে সুরমা নদীর ওপর কাজীর বাজার সেতু উদ্বোধনের পর শেখ হাসিনার সরকার বিভাগীয় এই নগরীটিকে আরো আধুনিক করতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এই সেতু উদ্বোধনের পর এলাকায় যানজট অনেকটা কমে যাবে এবং এলাকার জনগণ এর সুফল পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্যনির্মিত জননেত্রী শেখ হাসিনা হল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল উদ্বোধনকালে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য আরো আবাসস্থল নির্মাণ করা হবে। পোস্তগোলায় রাষ্ট্র মালিকানাধীন আধুনিক ময়দার মিল এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এগুলো একটি মাইলস্টোন হয়ে থাকবে।
 
ভিডিও কনফারেন্সে উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী সিলেট, চট্টগ্রাম, হবিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডিসি অফিস ও ঢাকায় খাদ্য অধিদপ্তরে মন্ত্রীবর্গ, সংসদ সদস্যগণ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। গণভবনে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক ই-ইলাহি চৌধুরী, বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদসহ সংশ্লিষ্ট সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।
 
এদিকে সড়ক ও রেলপথে ঢাকা চট্টগ্রাম রুটে নতুন এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ এবং ডবল গেজ রেল লাইন নির্মাণ নিয়ে তৈরি করা একটি এনিমেটেড প্রেজেন্টেশন দেখানো হয় প্রধানমন্ত্রীকে। জানানো হয় নতুন রেলপথে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রামের দূরত্ব কমে আসবে ৯০ কিলোমিটার। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে যেসব সড়কে সেতু নির্মাণ করা হবে তার সঙ্গে রেলকে সংযুক্ত করা যায় কি না তা যাচাই করে দেখতে হবে।
ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top