আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দো ঢাকার লা গ্যালারীতে শুরু হলো 'শিল্পের শিকড়ে'। দলীয় এই চিত্রকর্ম প্রদর্শনী উদ্বোধন হয় শুক্রবার। জলরঙ, অ্যাক্রিলিক, টেরাকোটা আর চারকোল মাধ্যমের ৩৮ টি চিত্রকর্ম ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে এই প্রদর্শনীতে।
শিল্পের শিকড়ে শীর্ষক এই দলবদ্ধ প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন পাঁচজন প্রতিভাবান শিল্পী। তাঁরা হলেন লায়লা শারমীন, মো. তৈয়বউজ্জামান খান তপু, মিনি করিম, সমিরন চৌধুরী এবং জেবুন নাহার নাঈম। 'শিল্পের শিকড়ে' শিরোনামে পাঁচজন শিল্পী নিজ নিজ দক্ষতায় ক্যানভাসের উপর রং তুলির রং ও রেখায় এবং পোড়া মাটির মাধ্যমে হৃদয় নন্দন চিত্র ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছেন। তাঁদের শিল্পনৈপুণ্য এসব নিত্য বা গতানুগতিক উপাদানগুলোকে বদলে দিয়েছে। তবে দক্ষতাই একজন শিল্পীর মান নির্ণয়ের একমাত্র মাপকাঠি নয়। এর চেয়ে বড় বোধহয় তার শিল্প সৃজনে হৃদয় মিশেছে কতটুকু। তাই শিল্পীরা 'শিল্পের শিকড়ে' প্রদর্শনীতে তাদের সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
লায়লা শারমীন যেমন প্রকৃতির সৌন্দর্য আর সৌহার্দ্যরে মধ্যে আশ্রয় খোঁজেন। অস্থির পৃথিবীতে তিনি শান্তির খোঁজ করেন। যান্ত্রিক পৃথিবীর বন্দিশালা থেকে বেরিয়ে আসতে বলেন দর্শককে। সময়, বিক্ষিপ্ততা, বিশ্বাসহীনতা, নিঃসঙ্গতা তাঁর ছবির পশ্চাৎপট। তপু টেরাকোটা শিল্প দিয়ে তাঁর ভিতরের অনুভূতি খুঁড়ে বের করেন। এই অনুভূতি দিনে দিনে তৈরি হয়েছে মানুষ-প্রকৃতি, সংস্কৃতি মিশিয়ে। তাই শিল্পকর্মগুলোকে আপন মনে হয়। মিনি করিমও প্রেরণা খুঁজে পান প্রকৃতিতে। তাই সেথায় তাঁর দিবা-রাত্রির সন্তরণ। চিত্রকর্মেও তারই প্রতিফলন। অন্যদিকে সমীরণ আবেগ তৈরি করেন ছবিতে। তিনি সবার জন্য আঁকেন যেমন ভালোবাসেন সবাইকে। জেবুন নাহার নাইম বেবীর চিত্র প্রদর্শনীটিতে মূলত নারী বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। তিনি মনে করেন 'নির্যাতিত' এবং 'অবলা' বিশেষন দুটো নারীর সঙ্গে যেতে পারেনা। শিল্পীর মতে নারী হচ্ছে শক্তির আঁধার।
প্রদর্শনীটি চলবে ১০ অক্টোবর ২০১৫ পর্যন্ত। সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা এবং শুক্রবার ও শনিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকাল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনীটি খোলা থাকবে। রবিবার সাপ্তাহিক বন্ধ। প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত।

