বিচার বিভাগ এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন: প্রধান বিচারপতি

S M Ashraful Azom
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, বাংলাদেশের বিচার বিভাগ ও বিচারকগণ সম্পূর্ণ স্বাধীন। বিচারকরা কখনো কারো কথায় রায় দেন না। মামলার নথিপত্র ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে রায় দিয়ে থাকেন। তিনি বলেন, আমার বিচারকরা এখন আর হুটহাট কোনো টেলিফোন ধরেন না। টেলিফোনে কথা বলে বিচারকরা জামিন দেবেন বা রায় লিখবেন, সেদিন চলে গেছে। বাংলাদেশে সেদিন আর আসবে না। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্মিত ‘এ কে খান আইন অনুষদ ভবনে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমানের এক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় প্রধান বিচারপতি এ কথা বলেন।
 
অনুষ্ঠানে ড. মিজানুর রহমান বলেন, আমরা এমন বিচারক দেখতে চাই না, যারা কোনো মন্ত্রণালয় থেকে টেলিফোন আসবে বা কোনো মন্ত্রণালয় থেকে টেলিফোন আসতে পারে সে আশঙ্কায় বিচার করবেন। এমন বিচারক দেখতে চাই যারা বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন, যারা আইনের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন।
 
এ কে খান ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন অনুষদের নতুন এই ভবন নির্মিত হয়। ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী।
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুুষদের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের শতকরা ৯০ ভাগ সদস্য আইনের ছাত্র। ইউরোপের দিকে দেখেন, যুক্তরাজ্যে পার্লামেন্টের ৮০ ভাগ সদস্য আইনের ছাত্র, আইনের শিক্ষক বা আইনজীবী। আর আমার বাংলাদেশের ৮০ ভাগ সংসদ সদস্য হলেন ব্যবসায়ী, দুই থেকে তিন ভাগ আইনজ্ঞ। আইনের শাসন ও গণতন্ত্র রক্ষায় আইন বিভাগের স্নাতকদের এগিয়ে আসতে হবে মন্তব্য করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ৮০ ভাগ ব্যবসায়ী দিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে না।
 
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, এমন আইনজীবী দেখতে চাই যারা সাক্ষীকে মিথ্যা কথা বলতে শেখাবে না, যারা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আইনকে ব্যবহার করবে। কোনো ক্ষুদ্র স্বার্থে আইনকে ব্যবহার করা থেকে যারা সব সময় নিজেকে বিরত রাখবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে কারো মৃত্যু হবে, তা তোমরা মেনে নেবে না। প্রতিবাদ করতে হবে। কোনো হত্যাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার যে প্রবণতা তা চলতে পারে না। এমন আইনি শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে যাতে দেশে ক্ষমতাহীনের বঞ্চনা আর দীর্ঘায়িত না হয়। এমন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের জন্ম যেন এ বিভাগ থেকে না হয় যে বলবে— আমি তো নির্দেশ দিইনি, গুলি কে চালাল?
 
ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে মানবচিত্তে নৈতিক মূল্যবোধের উত্সারণ এবং এর মাধ্যমে নীতি-নৈতিকতা মূল্যবোধ সম্পন্ন মানব সম্পদ গড়ে তোলা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগ থেকে ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে দেশে-বিদেশে উচ্চ পদমর্যাদায় আসীন থেকে মানব সেবায় তথা উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।
 
অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম, আইন কমিশনের সদস্য ড. এম শাহ আলম, চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ নূরুল হুদা, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, এ কে খান ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি সেক্রেটারি সালাউদ্দিন কাশেম খান, চবি আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক, অতিরিক্ত জেলা, দায়রা জজ এএনএম মোরশেদ খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top