আমাদের এই গ্রহ ছাড়া এই ব্রহ্মাণ্ডের আর কোথাও ‘প্রাণ’ রয়েছে কি না, সেই কৌতূহল সম্ভবত আগে মেটাতে পারে বৃহস্পতি। আরো সঠিক ভাবে বলতে হলে, এই সৌরমণ্ডলের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতির দুই চাঁদ-‘ইউরোপা’ আর ‘গ্যানিমিদ’। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা’র যে গবেষক দলটির পক্ষে লাল গ্রহ মঙ্গলে এখনো নোনা জলের অস্তিত্ব রয়েছে বলে মঙ্গলবার ঘোষণা করা হয়েছে, তার অন্যতম সদস্য, বাঙালি মহাকাশবিজ্ঞানী হিল্লোল গুপ্ত মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউএমবিসি সেন্টারের কম্পিউটার ও মহাকাশবিজ্ঞানী হিল্লোল পাসাডেনা থেকে টেলিফোনে জানান, ‘প্রাণের জন্য পানিকে তরল অবস্থায় থাকতেই হবে আর সেই পানি পর্যাপ্ত হতে হবে, এটা যেমন ঠিক, তেমনই তরল অবস্থায় পানির খোঁজ মিললেই যে প্রাণের সৃষ্টি হবে, তা কিন্তু জোর দিয়ে বলা যায় না। ‘প্রাণে’র জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেনেরও প্রয়োজন। আর সেই অক্সিজেনকে পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্যাসীয় অবস্থাতেই থাকতে হবে। এখনো পর্যন্ত যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে মঙ্গলের তুলনায় অক্সিজেন গ্যাস অনেক বেশি পরিমাণে রয়েছে বৃহস্পতির দুই চাঁদ ইউরোপা আর গ্যানিমিদে। তাই, মঙ্গলে তরল পানি মিললেও ‘প্রাণে’র খোঁজ মিলবে কতটা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অন্যদিকে, এত বেশি পরিমাণে অক্সিজেন গ্যাস রয়েছে ইউরোপা আর গ্যানিমিদে যে, বৃহস্পতির ওই দুই চাঁদে অণুজীব না থাকলে, সেটাই হবে বিস্ময়ের।’
এই মাসেই পোয়ের্তো রিকোয়, ‘আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি’র ‘ডিভিশন ফর প্ল্যানেটারি সায়েন্সেস’র ৪১তম বৈঠকে একটি চাঞ্চল্যকর গবেষণাপত্র পেশ করেছেন অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিশিষ্ট অধ্যাপক রিচার্ড গ্রিনবার্গ। ওই গবেষণাপত্রটি তৈরি করার ক্ষেত্রে হিল্লোল ছিলেন গ্রিনবার্গের সহকারী।
হিল্লোল জানিয়েছেন, বৃহস্পতির দু’টি চাঁদ ইউরোপা আর গ্যানিমিদে রয়েছে প্রচুর অক্সিজেন গ্যাস। রয়েছে প্রচুর হাইড্রোজেন গ্যাস। অভাব নেই কার্বন, নাইট্রোজেন, সালফার ও ফসফরাসের মতো প্রচুর রাসায়নিক মৌলের। অন্তত, কার্বন আর নাইট্রোজেনের পরিমাণ তো মঙ্গলের থেকে অনেকটাই বেশি। বৃহস্পতির দুই চাঁদের বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন রয়েছে বলে কার্বন, নাইট্রোজেন, সালফার ও ফসফরাস ঘটিত যৌগেরও অভাব নেই সেখানে। যে মহাসাগর রয়েছে বৃহস্পতির দুই চাঁদে, সেগুলির গভীরতা আমাদের আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের তুলনায় প্রায় দশ থেকে পনেরো গুণ। বৃহস্পতির ‘চাঁদে’র মহাসাগরগুলি তার পিঠের পুরু ও লোহার মতো শক্ত বরফের চাঁদরের খুব একটা নিচে নেই। সেই বরফের চাদরের মাত্র ৯৫ থেকে ১১৫ মাইল নিচেই রয়েছে তরল পানির ওই সুবিশাল মহাসাগরগুলো। সেই পানিও নোনা। পৃথিবীর মতোই। বৃহস্পতির দুই ‘চাঁদে’, ওই পরিবেশে এখনো কম করে, ৩০০ কোটি অণুজীব বেঁচে থাকতে পারে। সেই অণুজীব হতে পারে ‘মাইক্রো-ফ্লোরা’ বা অণু-উদ্ভিদ, আবার তা ‘মাইক্রো-ফনা’ বা অণু-প্রাণীও হতে পারে। তা সে ‘প্রাণী’ই হোক বা, ‘উদ্ভিদ’, সেগুলির এককোষী বা ‘ইউনি-সেলুলার’ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

