‘এরশাদ সকালে একটি বলেন, বিকেলে আরেকটি, সন্ধ্যার পর অন্যটা বলেন’— জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ সম্পর্কে এমন প্রচারণা বা ধারণা বিভিন্ন মহলে বিশেষ করে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রায় প্রতিষ্ঠিত-ই বলা চলে। খোদ নিজের ও দলের অবস্থান নিয়েও প্রায়শই স্ব-বিরোধী কথা বলেন বলেও রাজনীতিতে তাকে নিয়ে কম কথা প্রচলন নেই। স্বামীর এই ‘অন্যরকম বৈশিষ্ট্য’ সম্পর্কে স্ত্রী ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ হাসতে-হাসতে বললেন ‘তার (এরশাদের) সব কথার মানে খুঁজতে নেই।’ সঙ্গে রওশন যোগ করেন ‘পার্টিতে সবার কথা বলার একটি প্র্যাকটিস রয়েছে আমাদের। হয়তো জনগণের স্বার্থের প্রশ্নে সঠিক মনে করেই মাঝে-মধ্যে তিনি (এরশাদ) মন্তব্য করে থাকেন। দলের কর্মীদের চাঙ্গা রাখতে এটি হয়তো করতেই হয়।’
জেনেভায় ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সম্মেলনে যোগদান শেষে বর্তমানে লন্ডনে অবস্থানরত রওশন রবিবার জাপার সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিম উদ্দিনের লন্ডনের রেডব্রিজের বাসায় অনলাইন নিউজপোর্টাল ‘বাংলানিউজ’কে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে এরশাদ সম্পর্কে এ রকম মূল্যায়ন করেন।
জাপা মন্ত্রীরা পদত্যাগ করবে
ওই সাক্ষাত্কারে এক প্রশ্নের জবাবে রওশন বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমরা জানি সরকারে থেকেও জাপা কীভাবে বিরোধী দলীয় ভূমিকা পালন করছে, এনিয়ে কারও কারও মনে সন্দেহ রয়েছে। এ সন্দেহ দূর করতেই আমাদের মন্ত্রীদের সরকার থেকে সরিয়ে নেয়ার একটি চিন্তা আমাদের রয়েছে। সময় হলেই এটি কার্যকর হবে।’
এই প্রসঙ্গে বিরোধী দলীয় নেতা আরও বলেন, ‘জাপা বিরোধী দল, আবার সরকারেও, দ্বৈত এই ভূমিকা পালনে সমস্যা হয় না। কারণ, জনগণের স্বার্থ বিঘ্নিত হচ্ছে এমন সামান্যতম সম্ভাবনা যুক্ত সরকারি পলিসির বিরোধিতা করতে জাপা পিছপা হয় না। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে আমাদের মন্ত্রীরা যেমন ভূমিকা রাখছেন, তেমনি দেশ ও জনগণের স্বার্থের প্রশ্নে পার্লামেন্টে সরকারের কঠোর সমালোচনাও করছি আমরা। এক্ষেত্রে পার্লামেন্টারি নিয়ম-কানুন মেনে প্রয়োজনে পার্লামেন্ট থেকে যেমন ওয়াক আউট করছে জাপা, তেমনি জাতীয় স্বার্থে সরকারের সঙ্গে একমত পোষণও করছে।’
বর্তমান সরকার ও বিরোধী দলের বৈধতা নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কোনো একক দল বা গোষ্ঠী নয়, সংশ্লিষ্ট দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দেশটির সরকার ও বিরোধী দল সম্পর্কে কী ধারণা পোষণ করে, সেটিই বিবেচ্য। বর্তমান সরকার ও বিরোধী দল জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য বলেই দেশ আজ স্থিতিশীল। এরপরও যদি বর্তমান পার্লামেন্ট ও সরকারের বৈধতা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলেন, সেটি তার দৃষ্টিভঙ্গির দৈন্য, এক্ষেত্রে আমাদের কিছু বলার নেই।’
১/১১’র মতো অপশক্তি আবার আসতে পারে
অপর এক প্রশ্নের জবাবে রওশন বলেছেন, ‘আমাদের দেশে পার্লামেন্টারি রাজনীতিতে ব্রিটিশ সিস্টেম চালু করা প্রয়োজন। রাজনীতি চর্চার এ সুস্থ ধারা রাখতে না পারলে ১/১১-এর মতো অপশক্তি আবারও বিঘ্নিত করতে পারে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা।’ এসময় তিনি এ-ও বলেন, ‘এই সরকার ও পার্লামেন্টের মেয়াদ পাঁচ বছর। একটি সরকার বা পার্লামেন্ট তার মেয়াদ পূরণ করবে, এটিই তো নিয়ম। আমাদের আশাবাদও এমনটি।’
ওই সাক্ষাত্কারে বিরোধী দলীয় নেতা আরও বলেন, ‘বর্তমানে রাজনীতিতে অস্থিরতা নেই, স্থিতিশীল রাজনীতি রয়েছে বলেই দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। আর জাতীয় স্বার্থেই অস্থিরতাবিহীন রাজনীতি এখন সময়ের দাবি।’ তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে অস্থির রাজনীতি মোকাবিলায় সরকারের অধিকাংশ সময় ব্যয় হতো বলেই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

