নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব মানুষ যৌনতায় আসক্ত তাদের মাঝে পর্ন আসক্তি নাও থাকতে পারে। এছাড়া যৌনতায় আসক্তদের অনেকেই আগে যতটা ভাবা হত ততটা পর্নমুভি দেখেন না বলেই প্রমাণিত হয়েছে। এমনকি তাদের অনেকেই বাস্তবে পর্নমুভি দেখার ব্যাপারে অনেক বেশি লজ্জাবোধ করেন। গবেষণাটি করেছেন এক ক্রোয়েশিয় বিজ্ঞানী।
গবেষণায় ওই বিজ্ঞানী দেখতে পেয়েছেন, অতিরিক্ত যৌনাকাঙ্ক্ষা তথাকথিত যৌনাসক্তির ফল নয়। ১ হাজার ৯৯৮ জন মানুষের যৌনজীবনের উপর জরিপ চালিয়ে তিনি ওই গবেষণাটি সম্পন্ন করেন। www.bustle.com-এ ওই গবেষণার একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের তিনটি গ্রুপে বিভক্ত করে গবেষণাটি চালানো হয়- অস্বাভাবিক উচ্চ যৌনতাতাড়িত বিশৃঙ্খলায় আক্রান্ত, উচ্চ যৌনাকাঙ্ক্ষাতাড়িত এবং যৌনাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রকারী।
গবেষণার ফলাফল বিশ্লষণে দেখা গেছে, অস্বাভাবিক উচ্চ যৌনতাতাড়িত বিশৃঙ্খলায় আক্রান্ত এবং উচ্চ যৌনাকাঙ্ক্ষাতাড়িতদের মাঝে খায়েশের দিক থেকে তেমন কোনো ফারাক নেই।
ওই গবেষক বলেন, ‘অস্বাভাবিক উচ্চ যৌনতা তাড়িতদের মাঝে অবিবাহিত থাকার প্রবণতা অনেক বেশি। এদের মধ্যে সমকামিতার প্রবণতাও দেখা যায়। এছাড়া এরা কিছুটা অধার্মিক হয় এবং এদের মাঝে অবসাদ ও যৌন একঘেয়েমিতে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এরা পর্নোগ্রাফির প্রতিও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি লালন করেন। এমনিক ব্যক্তিগত যৌন নৈতিকতা সম্পর্কেও অনেক বেশি নেতিবাচক ও সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গী লালন করেন।
অন্যদিকে, বিস্ময়করভাবে যৌনাকাঙ্ক্ষার ব্যাপারে আত্ম-নিয়ন্ত্রণবাদীরা পর্নোগ্রাফির প্রতি অনেক ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি লালন করার কথা প্রকাশ করেছেন। জার্নাল অব সেক্স অ্যান্ড মেরিটাল থেরাপি-তেও ওই গবেষণার বিস্তারিত ফলাফল সম্বলিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
মোটের উপর, তথাকথিত যৌনাসক্তদেরকে স্বাভাবিক যৌনাকাঙ্ক্ষাযুক্ত মানুষদের চেয়ে খুব বেশি হারে পর্নগ্রাফি ব্যবহার করতে দেখা যায়নি।

