নাশকতা ঠেকাতে দেশের ৩২টি জেলা ও ৫টি মেট্রোপলিটন এলাকায় শুরু হয়েছে বিশেষ অভিযান। তবে কঠোর গোপনীয়তার সঙ্গে এ অভিযান চালানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে ১৫শ জন গ্রেফতার হয়েছে। পুলিশ সদর দফতরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের সিংহভাগই বিভিন্ন নাশকতা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
এ দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে বিশেষ কোনো অভিযান চলছে না। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যারা দেশে বোমাবাজি করে ও অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে চায় তাদের আমরা আটক করে থাকি। সেই কাজের অংশ হিসাবে গতকাল থেকে বেশ কিছু দুর্বৃত্তকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, সম্প্রতি দুই বিদেশি হত্যা, গাবতলী ও আশুলিয়ায় পুলিশ হত্যা ও পুরান ঢাকায় হোসেনী দালানে গ্রেফতার হামলার ঘটনায় প্রেক্ষিতে পুলিশ দেশের ৩২ জেলা (যেসব জেলায় ইতিপূর্বে নাশকতার ঘটনা ঘটেছিল) ও চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল ও খুলনা মেট্রোপলিটন এলাকায় এ অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে কোন জেলায় কোন দিন অভিযান চালানো হবে তা নির্ধারণ করবেন ওই জেলার পুলিশ সুপার। পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে পুলিশ, র্যাব ও প্রয়োজনে বিজিবি নিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানের প্রথম দিন বরিশাল, বরিশাল মেট্রোপলিটন, কক্সবাজার, বাগেরহাটসহ ৬টি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। আর শনিবার রাত থেকে গতকাল রবিবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালানো হয় বগুড়া, সিলেট মেট্রোপলিটন, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, গাইবান্ধা,চাঁপাইনবাগঞ্জসহ ৮টি এলাকায়। চলমান অভিযানে দুই হাজার ব্যক্তিকে আটক করা হলেও যাচাই-বাছাই করে ১৫শ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। অভিযান মনিটর করা পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, এ অভিযান পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত চালানো হবে।
না’গঞ্জের গ্রেফতার ১৩ : নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, আড়াইহাজার থানা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক হবুসহ জেলার সাতটি থানায় গত শনিবার মধ্যরাত থেকে রবিবার পর্যন্ত পুলিশ র্যাব ও বিজিবি অভিযান চালিয়ে ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের ৯ নেতা-কর্মী রয়েছে। তবে পুলিশ সাতজনকে গ্রেফতারের কথা স্বীকার করেছে।

