বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিশোধ নিতে হবে : ইনু

S M Ashraful Azom
তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বেগম জিয়া-জামায়াত-জঙ্গি-হেফাজত ষড়যন্ত্রকারী অক্ষশক্তিকে নির্মূল করে খলনায়ক জিয়ার বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিশোধ নিতে হবে। তথ্যমন্ত্রী শনিবার বিকেলে রাজধানীর শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটি আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে একথা বলেন।
 
তিনি বলেন, জিয়ার নষ্ট ও ভ্রষ্ট রাজনীতির ধারা ধারণ করে বেগম জিয়া এখনো ওই চক্রান্তের শক্তি জামাত-জঙ্গি-হেফাজতকে সঙ্গে নিয়ে একের পর এক দেশবিরোধী, সংবিধান-গণতন্ত্র বিরোধী চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছেন।
 
হাসানুল হক ইনু বলেন, ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর চরম সংকট ও নেতৃত্বহীনতার মাঝে জাসদ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্নেল তাহেরসহ জাসদের নেতারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্রোহী সিপাহীদের ঐক্যবদ্ধ করে, সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনে।
 
কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে বিদ্রোহী সিপাহীরা বন্দী জিয়াকে মুক্ত করে নতুন জীবন দান করে উল্লেখ করে ইনু বলেন, জিয়া মুক্ত হয়েই বিশ্বাসঘাতকতার পথে পা বাড়ায়। নতুন জীবন দানকারী কর্নেল তাহেরকে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় প্রহসনমূলক বিচার করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে। জাসদ নেতৃবৃন্দ ও সিপাহীদের জেল দেয়।
 
এভাবেই জিয়া বাংলার ইতিহাসে চতুর্থ মীর জাফর হিসাবে নিজের স্থান করে নেয়। দেশের সর্বোচ্চ আদালতও জিয়াকে ঠান্ডা মাথার খুনী হিসাবে চিহ্নিত করে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
 
জাসদ সভাপতি বলেন, জিয়া শুধু সিপাহী বা কর্নেল তাহেরের সাথেই বিশ্বাসঘাতকতা করেনি, সমগ্র জাতির সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন। দেশকে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ধারায় ঠেলে দিয়ে যুদ্ধাপরাধী-রাজাকার-আলবদরদের পুনর্বাসন ও পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, বঙ্গবন্ধুর খুনীদের দায়মুক্তি দেয়া, সংবিধান থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাসহ রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি নির্বাসিত করা, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের নামে দ্বি-জাতি তত্ত্বকে কবর থেকে তুলে এনে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে লুটপাটের এক জঘন্য নষ্ট-ভ্রষ্ট রাজনীতি চাপিয়ে দেয়। 
 
জিয়ার নষ্ট ও ভ্রষ্ট রাজনীতির ধারা ধারণ করে বেগম জিয়া এখনো ওই চক্রান্তের শক্তি জামাত-জঙ্গি-হেফাজতকে সঙ্গে নিয়ে একের পর এক দেশবিরোধী, সংবিধান-গণতন্ত্র বিরোধী চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
 
শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, ৪০ বছর আগে জিয়া যে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী বিষবৃক্ষ বপন করেছিলেন, তার মূলোৎপাটনের মাধ্যমে আধুনিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মিত হবে। সে জন্য তিনি সৎ, দেশপ্রেমিক, অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
 
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া, স্থায়ী কমিটির সদস্য শিরীন আখতার এমপি, মীর হোসাইন আখতার, এড. রবিউল আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন খান প্রমুখ। বাসস।
ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top