পৌর নির্বাচনের সংশোধিত বিধিমালা চূড়ান্ত

S M Ashraful Azom
দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিতরা (বিদ্রোহী) আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারছেন না। আইন করেই বিদ্রোহীদের প্রার্থিতা ঠেকানো হচ্ছে। দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়ে নির্বাচন বিধিমালা চূড়ান্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুধু দলীয়ভাবে মনোনীত অথবা স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে নতুন এ বিধিতে। এতে দল প্রাথমিকভাবে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে পারবে। সে অনুযায়ী দলীয় ব্যক্তিরা মনোনয়ন দাখিল করতে পারবেন। তবে দল একজনকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়ার পর বাকিদের প্রার্থিতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। এছাড়া নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে দলের পক্ষে কে মনোনয়ন দিবেন তার নাম রিটার্নিং অফিসারকে জানাতে হবে।
 
এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হতে পারবেন না। সরকারের ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তিরা সরকারি সুবিধা ছেড়ে প্রচারণা করতে পারবেন। পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠানে অধ্যাদেশ জারির পর নির্বাচন ও আচরণ (সংশোধিত) বিধিমালা আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে সংশোধিত বিধিমালার গেজেট জারি করবে ইসি।
 
স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) নির্বাচন বিধিমালা, ২০১০ সংশোধন করে বলা হয়েছে, ‘নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীর জন্য দলের পক্ষে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক অথবা সমমর্যাদার পদাধিকারী বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কার্যনির্বাহীর স্বাক্ষরিত প্রত্যায়নপত্র লাগবে। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে দলের পক্ষে কে মনোনয়ন দিবেন-তার নাম, পদবী, নমুনা স্বাক্ষরসহ একটি পত্র রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এবং অনুলিপি ইসি সচিবালয়ে পাঠাতে হবে।’
 
বিধিমালায় আরো বলা হয়েছে, ‘রাজনৈতিক দল নির্বাচনী এলাকার কোন পদে প্রাথমিকভাবে একাধিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন প্রদান করতে পারবে। তবে রাজনৈতিক দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা সমপর্যায়ের পদাধিকারী বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কার্যনির্বাহকের স্বাক্ষরিত লিখিত পত্রের মাধ্যমে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বা তার পূর্বে চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারকে অবহিত করবেন।’
 
এ বিষয়ে ইসির কর্মকর্তারা ইত্তেফাককে জানান, বিধিমালায় দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের ঠেকানো হয়েছে। যে কোন নির্বাচনে দলের প্রাথমিক মনোনয়ন নিয়ে একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দল যাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে একমাত্র তিনিই দলীয় প্রতীক পাবেন। বাকিদের মনোনয়নপত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। ওই সময়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সময়ও থাকে না। আইনে ম্যারপ্যাচের কারণে মনোনয়ন বঞ্চিতরা প্রার্থীই হতে পারবেন না।
 
সহজ করা হলো স্বতন্ত্র প্রার্থিতা: পৌরসভার নির্বাচনে স্বতন্ত্রদের প্রার্থী হওয়ার শর্তসহজ করা হয়েছে। ৫০ হাজারের বেশি ভোটার সংবলিত পৌরসভার নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীর ২০০ জন ও ৫০ হাজারের কম নির্বাচনী এলাকার ক্ষেত্রে ১০০ জন ভোটারের স্বাক্ষর সংবলিত তালিকা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। অন্যদিকে সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীদের ক্ষেত্রে জমা দিতে হবে ২০ জনের স্বাক্ষর। তবে বিগত দিনে মেয়র বা কাউন্সিলর নির্বাচিতদের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে না।
 
প্রসঙ্গত, আগামী রবি অথবা সোমবারের মধ্যে আইন মন্ত্রণালয় থেকে বিধিমালার ভেটিং সম্পন্ন হয়ে যাবে বলে আশা করছে কমিশন। মঙ্গলবারের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করে বৃহস্পতিবার তফসিল ঘোষণা করতে চায় তারা। আর আগামী ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে ২৪৫টি পৌরসভার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়েছে ইসি।

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top