স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজকে ধূমপানমুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, আগামী বছর থেকে ধূমপায়ী ও মাদকসেবী শিক্ষার্থীকে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হবে না। এমবিবিএস ও বিডিএসে ভর্তির সময় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীকে অধূমপায়ীর সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে। ভর্তি পরীক্ষায় পাসের পরও শিক্ষার্থী যদি ধূমপায়ী হয় তবে তাকে ভর্তি করা হবে না এমন বিধান রাখার উদ্যোগ নেয়া হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ব্রেইন মিডিয়া ক্যাম্পেইন উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, ধূমপায়ীদের কাছে আবেদন রাখছি যাতে তারা এই ক্যাম্পেইনের বিষয়বস্তু উপলব্ধি করে নিজেদের স্বাস্থ্যের জন্য এবং পরিবারের কথা চিন্তা করে আজই ধূমপান ছেড়ে দেন।
‘জন্ম নিয়ন্ত্রণে প্রসব পরবর্তী পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ’
‘প্রসব পরবর্তী সময়ে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ করুন, অপরিকল্পিত গর্ভধারণ রোধ করুন’ স্লোগানকে সামনে রেখে মা-শিশু-কৈশোরকালীন স্বাস্থ্যসেবা ও প্রচার সপ্তাহ পালন করতে যাচ্ছে সরকার। প্রসবের পর প্রথম ১২ মাসের মধ্যে অনিচ্ছাকৃত এবং কম দিনের বিরতিতে পুনরায় গর্ভধারণ হতে বিরত থাকাই হলো প্রসব পরবর্তী পরিবার পরিকল্পনা। সক্ষম দম্পতিদের ক্ষেত্রে দুই সন্তানের মাঝে ন্যূনতম তিন বছর বিরতি এবং দুটি জীবিত সন্তানের ক্ষেত্রে দ্বিতীয়টির বয়স এক বছর হলেই স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করাই এবারের সেবা ও প্রচার সপ্তাহের মূল লক্ষ্য।
চলতি মাসের ৭-১২ তারিখ পর্যন্ত দেশব্যাপী অনুষ্ঠিতব্য পরিবার পরিকল্পনা, মা-শিশু-কৈশোরকালীন স্বাস্থ্যসেবা ও প্রচার সপ্তাহ উপলক্ষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে সপ্তাহ উদ্যাপনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘গত ১০ বছরে (২০০৪-১৪) জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারকারীর হার ৫৮ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৬২ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তবে স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতিতে তেমন কোনো অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি। এ সপ্তাহের কৌশলগত দিক হিসেবে, প্রসবের পর উপযুক্ত পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ অথবা দুটি সন্তান জন্মদানের মধ্যবর্তী সময়ে একজন নারীর ইচ্ছানুযায়ী প্রয়োজনীয় বিরতি প্রদান (কমপক্ষে ৩ বছর) অথবা সন্তান জন্মদান সীমিতকরণের কথা উল্লেখ করা হয়। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির গ্রহীতা বৃদ্ধি মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার হ্রাসে সরাসরি প্রভাব রাখতে সক্ষম বলে জানান স্বাস্থ্য মন্ত্রী।

