প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত অঞ্চল গড়ার লক্ষ্যে সব আর্থ-সামাজিক খাতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, দু’দেশের জনগণের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নের সব খাতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক জোরদার করা প্রয়োজন। তাই সম্পর্ক বলিষ্ঠ করতে দু’দেশকে সকল সংকীর্ণতা ভুলে উদার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। গতকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়ার (এসইবিআই) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। বিএসইসি চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেন ও এসইবিআই চেয়ারম্যান ইউকে সিনহা এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা অনুযায়ী দুই দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিভিন্ন বিষয়ে পরস্পরকে সহযোগিতা করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চল থেকে দারিদ্র্য নির্মূল ও জনগণের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করাই আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য। এক্ষেত্রে উভয় দেশের যৌথ প্রয়াস কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আনতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নে পুঁজি সংগ্রহে শক্তিশালী, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক পুঁজিবাজারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশের বিপুল পুঁজি প্রয়োজন। বাংলাদেশ সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এ ব্যাপারে সবসময় সঠিক ও দূরদর্শী পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত অঞ্চল গড়তে উদার মানসিকতা নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, দেশ ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে শেয়ার বাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্কতার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকার বিএসইসিকে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। দুই দেশের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে মতামত ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্যে বিএসইসি ও এসইবিআই’র মধ্যে এমওইউ স্বাক্ষরিত হচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, সত্যিকার বন্ধু এবং নিকট প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন ধাপে ধাপে উন্নত হচ্ছে। দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে তাদের বিদ্যমান সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে পদক্ষেপ নিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময়ের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছরে দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে। শেয়ার বাজার সংস্কারে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সরকার একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিতামূলক, দক্ষ, টেকসই ও শক্তিশালী ক্যাপিটাল মার্কেট গড়ে তুলতে অব্যাহত চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, এসব সংস্কার উদ্যোগ বিএসইসি-কে ক্যাটাগরি বি থেকে এ ক্যাটাগরিতে উন্নয়নে সহায়ক হবে।
জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের নিজেদের স্বার্থেই পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে আরো বেশি যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বিনিয়োগকারী ও দেশের স্বার্থে নিজেদের কর্মকাণ্ড অধিকতর যত্নের সাথে পরিচালনা করুন। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার গড়ে ছয় দশমিক দুই শতাংশ থাকা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সাতগুণ বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে আমরা বর্তমানে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে উন্নীত হয়েছি। অর্থনীতিতে পুঁজিবাজারের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, শিল্প ও অবকাঠামোসহ অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির গতিধারা ত্বরান্বিত করার জন্য দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নের অন্যতম উত্স পুঁজিবাজার। তাই একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, দক্ষ, স্থিতিশীল ও শক্তিশালী পুঁজিবাজার গড়ে তোলার জন্য আমরা সচেষ্ট রয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সঠিক সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ ও তা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ফলে ‘ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সিকিউরিটিজ কমিশন’ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে আরও উন্নত স্তরে নিতে শিগগিরই কিছু কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, এসইবিআই’র চেয়ারম্যান উপেন্দ্র কুমার সিনহা, বিএসইসি’র চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেইন অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ও ড. মশিউর রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশ ও ভারতের পুঁজিবাজারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

