
পৌরসভা নির্বাচনে আজ বুধবার থেকে প্রচারণা শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা। আইন অনুযায়ী প্রতীক ছাড়াই প্রার্থীরা প্রচারণা চালাতে পারবেন। যদিও আগামী ১৪ ডিসেম্বর ২৩৪ পৌরসভার বৈধ প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেবেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। নির্বাচনী আচরণ বিধির লংঘন ঠেকাতে প্রতি পৌরসভার একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, ‘আইন অনুযায়ী ভোটগ্রহণের তিন সপ্তাহের আগে প্রচারণায় বাধা নিষেধ রয়েছে। সেই হিসাবে বুধবার থেকে সীমিত আকারের প্রচার-প্রচারণার সুযোগ পাবেন বৈধ প্রার্থীরা। তবে আইনভঙ্গ করে কেউ প্রচারণা চালালে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আগামী ৩০ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী ভোট গ্রহণের তিন সপ্তাহ পূর্বে কোন প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কেউ প্রচারণা চালাতে পারবেন না। অর্থাৎ বুধবার থেকে প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে পারবেন। বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে যে কেউ চাইলে আগামী ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ পাবেন। ১৪ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর পুরোদমে প্রচারণা চালাতে পারবেন প্রার্থীরা।
আগামী ৩০ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী ভোট গ্রহণের তিন সপ্তাহ পূর্বে কোন প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কেউ প্রচারণা চালাতে পারবেন না। অর্থাৎ বুধবার থেকে প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে পারবেন। বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে যে কেউ চাইলে আগামী ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ পাবেন। ১৪ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর পুরোদমে প্রচারণা চালাতে পারবেন প্রার্থীরা।
এদিকে, পৌর নির্বাচনে ১২০৪ জন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে ২৩৪ পৌরসভায় ২৩৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৯৬৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন। প্রতিটি পৌরসভার একজন করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাখা হলেও চারটি পৌরসভায় দু’জন করে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া প্রতিটি পৌরসভার তিনটি ওয়ার্ডের জন্য একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। তারা ভোটের আগের দিন, ভোটের দিন ও ভোটের পরের দিন দায়িত্ব পালন করবেন। যদিও এর আগে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের সময় প্রতিটি এলাকায় দু’জন করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে ছিলেন। ওই বিবেচনায় ইসির আইন শাখা থেকে দু’জন করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাখার প্রস্তাব করলেও কমিশন তা অনুমোদন করেনি।
নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনী বিধি লংঘনের ঘটনায় ছয় মাস থেকে সাত বছর পর্যন্ত এবং আচরণবিধি লংঘনের ঘটনায় অনধিক ৬ মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা নির্বাচনী বিধি ও আচরণবিধি লংঘনের ঘটনায় সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত সাজা দেয়ার এখতিয়ার রাখেন। অপরদিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত সাজা দিতে পারেন। সাজা প্রদানের সঙ্গে অর্থদণ্ডের বিধানও রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি পৌরসভায় তফসিলের পর ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রেখে পরিপত্র জারি করা হলেও কমিশন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় তা অনুসরণ করেনি রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
দলীয়ভাবে পৌরসভা নির্বাচনের কারণে এবার প্রার্থী ও দলের ক্ষেত্রে আচরণবিধিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আইনানুযায়ী দল ও প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো জনসভা বা শোভাযাত্রা করা যাবে না, শুধু পথসভা ও ঘরোয়া সভা করতে পারবেন তারা। পথসভা ও ঘরোয়া সভা করতে চাইলে অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে স্থান ও সময় জানিয়ে স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষের অবগত করতে হবে। শোভাযাত্রা করারও সুযোগ রয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটের প্রচারের পাশাপাশি বেলা ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় নির্ধারিত সংখ্যক মাইকে প্রচার চালানো যাবে। সরকারি সুবিধাভোগি ‘অতিগুরুত্বপূর্ণ’ প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, চিফ হুইপ, বিরোধী দলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ, উপমন্ত্রী বা তাদের সমমর্যাদার কোন ব্যক্তি, সংসদ সদস্য এবং সিটি করপোরেশনের মেয়রা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না।
প্রচারণায় থাকছে যেসব নিষেধাজ্ঞা
পৌর নির্বাচনের আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, জনগণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে সড়কে পথসভা করা যাবে না, বানানো যাবে না মঞ্চও। কোনো প্রার্থী প্রতিপক্ষের পথসভা ও ঘরোয়া সভায় বাধা দিতে পারবে না। দল মনোনীত প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক ও দলীয় প্রধানের ছবি পোস্টারে রাখতে পারবেন। তবে রঙিন পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। মিছিলে নেতৃত্ব দেয়ার কিংবা প্রার্থনা বা ‘বিশেষ ভঙ্গির’ ছবিও পোস্টারে দেয়া যাবে না। মেয়র প্রার্থীরা সর্বোচ্চ পাঁচটি নির্বাচনী ক্যাম্প, কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রতি ওয়ার্ডে ক্যাম্প করতে পারবেন। এছাড়া ভোটের প্রচারে সার্কিট হাউজ ব্যবহার, জীবন্ত প্রতীক ব্যবহার, তোরণ নির্মাণ ও দেয়াল লিখন, যানবাহন নিয়ে মিছিল-শোডাউন বন্ধ, বিলেবোর্ড ব্যবহার ও উস্কানিমূলক বক্তব্যের বিষয়ে বিধি নিষেধ রয়েছে।

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।