
বিজয় দিবসে ছাত্রলীগের শোভাযাত্রায় না যাওয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক শিমুলকে মারধর করেছে ছাত্রলীগের কর্মীরা। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার আগে মাদার বখশ হলে এ ঘটনা ঘটে। শিমুল ওই হলের আবাসিক ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীরা হলেন অর্থনীতি দ্বিতীয় বর্ষের মেহেদী রাজ, সমাজ বিজ্ঞান দ্বিতীয় বর্ষের রাজ্জাক, ভাষার ইমরান, নাইম ও রুবেল। এরা সকলেই হল শাখা ছাত্রলীগের সম্পাদক মাসুদ রানার কর্মী ও অনাবাসিক ছাত্র।
শিমুল বলেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী আমার ৩২২ নং রুমে এসে তাদের শোভাযাত্রায় যেতে বলে। বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত পরীক্ষা থাকায় আমি পড়াশোনা করছিলাম। আমি বিষয়টি তাদের বলি। তবুও জোর করলে বলে দিই যেতে পারবো না। পরে রাত পৌনে ১টায় রাজ্জাক, মেহেদী, ইমরান, নাঈমসহ কয়েকজন রুমে এসে আমাকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করতে থাকে। প্রতিবাদ করলে রাজ্জাক আমাকে বেশ কয়েকটি চড় মারে এবং অন্যেরা আমাকে হল থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেয়। শোভাযাত্রায় না গেলে খবর আছে বলে তাকে সাবধানও করে দিয়ে যায় তারা।
অভিযুক্ত মেহেদী রাজ প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, শিমুল ভাইয়ের দোষ ছিল। তিনি আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন। হল শাখা ছাত্রলীগের সম্পাদক মাসুদ রানা বলেন, মারধরের ঘটনা ঘটেনি। একটু রাগারাগি হয়েছে। রাবি কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি সোহেল রানা বলেন, সাংস্কৃতিক জোটের একজন নেতাকে মারধরের বিষয়টি ন্যক্কারজনক। আমরা অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীদের শাস্তির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও হল প্রভোস্টের কাছে লিখিত অভিযোগ দিচ্ছি। দোষীদের শাস্তি দেয়া না হলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। হল প্রাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. তাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি শুনিনি। অভিযোগ পেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।