
‘ইইউ বিপদের মুখে আছে এবং কিছু কিছু শক্তি এতে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করছে’। গত মঙ্গলবার জার্মান পত্রিকা ‘ডি ভ্যাল্ট’ এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট মার্টিন শুলজ এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) যাতে টিকে থাকে সে জন্য এর সমর্থকদেরকে সংগ্রাম করার আহব্বান জানান। সম্প্রতি লুক্সেমবার্গের পররাষ্ট্র ও অভিবাসন মন্ত্রী জিন অ্যাসেলবর্ণ ও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘সম্ভবত ইইউ ভেঙে যাবে’।
এরই প্রতিক্রিয়ায় শুলজ বলেন, ‘আগামী ১০ বছরে ইইউ বর্তমান কাঠামোতে টিকে থাকবে- এমন নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না। কিন্তু আমরা যদি চাই ইইউ টিকে থাক, তাহলে এজন্য আমাদেরকে খুবই কঠোরভাবে লড়ে যেতে হবে’।
ঠিক কোন বিষয়গুলো ইইউ এর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে সে বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি। তবে তার সাক্ষাৎকারের বেশিরভাগটা জুড়েই ছিল চলমান শরণার্থী সঙ্কট বিষয়ক কথাবার্তা। যে সঙ্কটের কারণে দীর্ঘদিন পর ইইউভুক্ত দেশগুলোর একতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে এবং তাদের সহ্য ক্ষমতায় টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।
শুলজ বলেন, ‘এমন নয় যে ইইউ’র কাছে বিকল্প কোনো উপায় নেই। আমরা অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াব’।
শরণার্থী সঙ্কট নিয়ে ইইউ ভূক্ত দেশগুলোর মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেলের সিরিয়ার আরও শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার সিদ্ধান্তের বিপরীতে পূর্ব ইউরোপের সাবেক কমিউনিস্ট দেশগুলো ইইউ’র কোটা পদ্ধতিতে শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছে।
ইউরোপের পাসপোর্ট বিহীন শেনজেন অঞ্চলও হুমকির মুখে রয়েছে। কারণ, শেনজেন অঞ্চলভূক্ত অনেক দেশ এখন নতুন করে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরোপ করেছে। বৃহস্পতিবার গ্রিস তাদের দেশে অবস্থান করা শরণার্থীদের নিয়ন্ত্রণে এবং সীমান্তে নিরাপত্তার জন্য ইইউ’র সাহায্য কামনা করেছে।

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।