সেবা ডেস্ক: দেশের তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘যৌথ ব্যবস্থাপনায়’ গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা শুরু করতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।
এতদিন রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স একাই এ সেবা দিয়ে আসছিল, যার মান নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে গত ২১ অক্টোবর এ সেবা যৌথ ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
সেদিন জাতীয় সংসদ ভবনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি ফারুক খান সাংবাদিকদের বলেন, “এ বিষয়ে মোটামুটি সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। এখন টেন্ডার আহ্বান ও অন্যান্য কাজ করতে হবে।”
মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, “বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই বিমান এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সঙ্গে আলোচনা হবে। ইতোমধ্যে প্রস্তাব চেয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে।”
যৌথ ব্যবস্থাপনায় অংশীদারিত্বের বিষয়টি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অংশীদারিত্বের বিষয়টি নির্ভর করবে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সাথে দর কষাকষির ওপর। আমরা আমাদের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে চেষ্টা করব।”
বিমানের একজন কর্মকর্তা জানান, আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তাব পেলে সেগুলো বিবেচনা করেই পরবর্তী ধাপের কাজ শুরু হবে।
তবে কবে নাগাদ এ প্রক্রিয়া শুরু হবে তা বলতে পারেননি তিনি।
ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন দেশীয় চারটি বিমান পরিবহন সংস্থার প্রায় ৫০টি ফ্লাইট ছাড়াও ১৮টি দেশের ২৫টি সংস্থার প্রায় ১০০ উড়োজাহাজ ওঠানামা করে।
সেবার মান নিশ্চিত করতে বিশ্বের অধিকাংশ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিক প্রতিষ্ঠানকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলেও বাংলাদেশে এ কাজ করে আসছে কেবল বিমান।
প্রশিক্ষিত ও দক্ষ লোকবল এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতার কারণে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক প্রতিষ্ঠানকে হ্যান্ডলিং এজেন্ট নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছে।
২০১৩ সালের জানুয়ারিতে বিমান কর্মচারীদের ধর্মঘটের কারণে দেশের প্রধান বিমানবন্দর শাহজালাল প্রায় ৫ ঘণ্টা অচল থাকলে সেই দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সে সময় বিকল্প গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এজেন্ট নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়কে চিঠিও দেয়।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে রাশেদ খান মেনন বলেন, “আমি মনে করি না সিবিএ কোনো সমস্যা হবে, তাদের ম্যানেজ করা যাবে। সমস্যাটা বিমানের ম্যানেজমেন্টের ভেতরে।”
এর আগে ২০০৬ সালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের জন্য একটি স্বতন্ত্র কোম্পানি গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যার ওপর বিমানের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার অনুমোদন মেলেনি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান বিমানের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে কাজ করার জন্য গত বছর সরকারকে একটি প্রস্তাব দেয়। সে বিষয়টিও আর এগোয়নি।
বিমানের অর্থ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, শুধু গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং থেকেই ২০১২-১৩ অর্থবছরে বিমানের আয় ছিল প্রায় পাঁচশ কোটি টাকা।
বিমান পরিচালনা পর্ষদের সাবেক পরিচালক এবং এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহেদুল আলম গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে বিদেশি অংশীদার নেওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।
তিনি বলছেন, একাধিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এজেন্ট কাজ করলে তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকবে, যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধি পাবে।
“এটা প্রফেশনালিজমের যুগ। আমি পয়সা দিয়ে সার্ভিস কিনব, কিন্তু সার্ভিস পাব না, তাহলে তো হবে না। আমার মনে হয় বিমান যদি এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তা খুবই ইতিবাচক হবে।”

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।