
রাজনীতির মাঠে কোণঠাসা হয়ে পড়া বিএনপির জন্য পৌর নির্বাচন কিছুটা স্বস্তির পরিবেশ এনে দিয়েছে। এই নির্বাচনের পরিণতি কী হবে তা নিয়ে ঘোর সন্দেহ আর অবিশ্বাস ঘিরে রেখেছে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ নেতারা বলছেন, তাদের দলের মনোনীত প্রার্থীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে বিএনপি প্রার্থীদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। মির্জা ফখরুল গতকাল বলেছেন, ‘যখন থেকে পৌর নির্বাচনের আলোচনা চলছে তখন থেকেই সরকার ৫ হাজারের বেশি বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।
তিনি অভিযোগ করেছেন, ‘প্রার্থীরা পুলিশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বাসা-বাড়িতে থাকতে পারছেন না। তাদের নামে নতুন নতুন মামলা দেয়া হচ্ছে।’
এই প্রেক্ষাপটে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, আসন্ন পৌর নির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেয়া প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীতদের নামে কোনো মামলা না থাকলেও, বিএনপি মনোনীত অধিকাংশ প্রার্থীর নামে রয়েছে একাধিক মামলা। এই মামলার জাল এবং হুলিয়ার কারণে বিএনপির অনেক প্রার্থী প্রকাশ্যে নেই। তারা আছেন আত্মগোপনে। রিটারর্নিং অফিসে জমা দেয়া বিএনপির মেয়র প্রার্থীদের হলফনামায় উঠে এসেছে মামলাসহ বিবিধ তথ্য। বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে অনেকে আছেন সাবেক পৌর মেয়র; যাদেরকে মামলায় অভিযুক্ত করে বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রার্থীদের তথ্যসংবলিত হলফনামাসমূহ ১৩ ডিসেম্বরের পর ইসির ওয়েবসাইটে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইসির উপ-সচিব সামসুল আলম। তিনি ‘ইত্তেফাক’কে জানান, সব প্রার্থীর ব্যক্তিগত তথ্য বিবরণী পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হচ্ছে ইসির ওয়েবসাইটে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের হলফনামার প্রয়োজনীয় তথ্য নির্বাচনী এলাকায় প্রচারের ব্যবস্থাও হবে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, হলফনামার তথ্য অনুযায়ী বিএনপির বেশিরভাগ প্রার্থী মামলায় অভিযুক্ত। কারো কারো নামে আছে সাতের অধিক মামলা। তবে এই মামলাগুলো প্রায় সবই ‘রাজনৈতিক’। বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে অধিকাংশ মেয়র প্রার্থী তাদের পেশা লিখেছেন ব্যবসা। আছেন কৃষক, মত্স্যজীবী, শিক্ষক ও আইনজীবী। কেউ কেউ কোনো পেশা উল্লেখ করেননি।
বহু প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি অথবা তারও নিচে। কেউ কেউ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসাবে লিখেছেন স্কুল শিক্ষা সম্পন্ন করতে পারেননি, তবে স্বশিক্ষিত। তবে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন এমন অনেকে আছেন।
বিএনপির বিপরীত আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের নামে মামলা নেই। তবে আওয়ামী লীগের অধিকাংশ প্রার্থী অতীতে ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত ছিলেন। এখন তারা হয় খালাস পেয়েছেন অথবা মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বিএনপির প্রত্যয়নকৃত ১২ জনের প্রার্থিতা বাতিল
এদিকে বিএনপির নির্বাচনী সমন্বয় সেলের পক্ষ থেকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির প্রত্যয়নকৃত ১২ জন মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তারা। দলের ২৩৫টি মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ২২৩ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। তিনি বলেন, ইসি বিএনপির এই ১২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারেননি। নির্বাচন কমিশন যৌক্তিক কোনো কারণ ছাড়াই বিএনপির প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল করেছে। মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, প্রার্থিতা ফিরে পেতে আমরা আপিল করব।

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।