সেবা ডেস্ক: বাংলাদেশে নিযুক্ত তত্কালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর উপর গ্রেনেড হামলা মামলার ডেথ রেফারেন্সের শুনানি হাইকোর্টে শুরু হয়েছে। পেপার বুক উপস্থাপনের পর এখন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি পেশ করছেন। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের ডিভিশন বেঞ্চে গতকাল বৃহস্পতিবার এই যুক্তি উপস্থাপন চলে। আগামী বুধবার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারতে গিয়েছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী। দরগাহ প্রাঙ্গণে জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে তাকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে বেশ কয়েকজন হতাহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান তিনি। এ ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলায় ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর সিলেটের বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল মুফতি হান্নান, শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল (৪০) ও দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপনকে (৩৬) ফাঁসি দেয় আদালত। একই সঙ্গে তাদের ১০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়। আদালত মুফতি হান্নানের ভাই মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ ওরফে অভি (৩২) ও মুফতি মইনউদ্দিন ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ ওরফে খাজাকে (৩১) যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। এছাড়া দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারায় অতিরিক্ত আরো পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানা, অনাদায়ে অতিরিক্ত আরো এক বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডের ওই রায় অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি আসামিরা খালাস চেয়ে আপিল করেন। ওই আপিল ও ডেথ রেফারেন্স দীর্ঘ সাত বছর হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষায় ছিলো। সম্প্রতি তা শুনানির জন্য হাইকোর্টে পাঠানো হয়। গত সপ্তাহে হইকোর্টে ওই আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শুরু হয়। শুনানির শুরুতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল শেখ একেএম মনিরুজ্জামান কবির পেপারবুক উপস্থাপন করেন। পেপারবুক উপস্থাপনের পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপনের পক্ষে অ্যাডভোকেট একেএম ফয়েজ যুক্তি উপস্থাপন করেন।

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।