![]() |
| বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণে জামালপুরের মেলান্দহে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সোলার বিদ্যুৎ |
বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণে জামালপুরের মেলান্দহে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সোলার বিদ্যুৎ
জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব ও শব্দদূষণমুক্ত এই সোলার সিস্টেম ব্যবহারের প্রতি দিন দিন স্থানীয় জনগণ ও উদ্যোক্তাদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।
(ads1)
উপজেলা জুড়ে বর্তমানে শতাধিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন প্ল্যান্ট চালু রয়েছে। ৪০ থেকে ৫০ বছর মেয়াদি লক্ষ্য সামনে রেখে প্রতিটি সোলার প্যানেল স্থাপনে আনুমানিক ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়ে থাকে।
মাহমুদপুরের আগ পয়লা গ্রামের সোলার প্যানেলের উদ্যোক্তা হাফিজুর রহমান বিএসসি জানান, উৎপাদিত সোলার বিদ্যুৎ বিক্রির জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি (কমপক্ষে ২০ বছর) চুক্তি করতে হয়। নিজের গৃহস্থালি বা বাণিজ্যিক চাহিদা মিটিয়ে এই পদ্ধতিতে তিনি প্রতি মাসে প্রায় ২ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ সরকারের কাছে বিক্রি করছেন। এতে তাঁর বছরে দুই লাখ টাকার বেশি সাশ্রয় হচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সোলার প্যানেল স্থাপনের সমুদয় খরচ মাত্র দুই বছরের উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিক্রি করেই তুলে নেওয়া সম্ভব।
প্রযুক্তিগত বিষয়ে জানা গেছে, সোলার সিস্টেমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সোলার প্যানেল, ইনভার্টার ও স্ট্রাকচারসহ প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়। স্থাপিত এসব প্যানেলের সাধারণত ৩০ বছর এবং কনভার্টারের ১০ বছরের ওয়ারেন্টি থাকে। বাড়িঘরের টিনের চাল, ছাদ কিংবা খোলা মাঠে মাচা পদ্ধতিতেও এটি স্থাপন করা যায়। বিশেষ করে সোলার প্যানেলযুক্ত ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা তুলনামূলক সহনশীল থাকে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ রক্ষার্থে এতে বজ্রনিরোধক দণ্ড যুক্ত থাকে।
আরও পড়ুন:
- জামালপুরে মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে ইমামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
- বকশীগঞ্জে ২১৭ বোতল ভারতীয় মদসহ ছাত্রদল নেতা আমান উদয় গ্রেপ্তার, আটক ৫
- সীমান্তে নৌকায় থান কাপড়ের বড় চালান জব্দ, বাজারমূল্য ৯০ লাখ টাকা
- জাতীয় জুনিয়র কারাতে প্রতিযোগিতায় ইতিহাস গড়ে জামালপুরের প্রথম স্বর্ণ জয়
- রৌমারীতে মাদকাসক্ত ভাতিজার এলোপাতাড়ি কোপে চাচির মৃত্যু, আহত ৪
সিড়িঘাট তেঘরিয়া গ্রামের কৃষক মমিন হাজী বলেন, "সোলার পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাথমিক খরচ কিছুটা বেশি হলেও এটি অত্যন্ত টেকসই, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব। সরকারের পক্ষ থেকে আরও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আরও কম খরচে সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হতো।"
পল্লী বিদ্যুৎ ও কারিগরি সূত্রে জানা যায়, সোলার স্থাপনকারী মালিকদের রাষ্ট্রপক্ষের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সঙ্গে চুক্তি করতে হয়। পল্লী বিদ্যুতের কারিগরি সহায়তায় ‘নেট মিটার’ নামক অটো সিস্টেমের মাধ্যমে সোলার প্যানেলের উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। প্রতি তিন মাস পর পর (সেটেলমেন্ট পিরিয়ড) চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহকৃত বিদ্যুতের পরিমাপ হিসাব করে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করা হয়।
সোলার সিস্টেম স্থাপনে কারিগরি সহায়তা প্রদানকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘সোলারাইজড ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর পরিচালক আক্তারুজ্জামান জানান, তাঁরা ইতিমধ্যে অর্ধশাধীক সোলার স্থাপন করে দিয়েছেন। এই সিস্টেমের মাধ্যমে বিদ্যুৎ না থাকলেও দিবা-নিশি ‘অফ-গ্রিড’ ও ‘অন-গ্রিড’ পদ্ধতিতে কাজ চালানো যায়। এছাড়া লোডশেডিং মোকাবিলায় হাইব্রিড সিস্টেম, সেচ পাম্প এবং ইলেকট্রিক ভেহিকলের (ইভি) জন্য চার্জিং স্টেশন গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এটি অত্যন্ত কার্যকরী।
(ads2)
সুধী সমাজের মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও নীতিমালার আওতায় এনে যদি দেশের ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি ভবনগুলোর ছাদ সোলার আন্ডারে আনা যায়, তবে তা দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণে অভাবনীয় ভূমিকা রাখবে।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।