![]() |
| রৌমারীতে মাদকাসক্ত ভাতিজার এলোপাতাড়ি কোপে চাচির মৃত্যু, আহত ৪ |
রৌমারীতে মাদকাসক্ত ভাতিজার এলোপাতাড়ি কোপে চাচির মৃত্যু, আহত ৪
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে মাদকাসক্ত এক ব্যক্তির ধারালো অস্ত্রের উপর্যুপরি আঘাতে সোনাভানু বেগম (৪৫) নামে এক নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ রক্তক্ষয়ী হামলায় নিহতের স্বামীসহ অন্তত চারজন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।
(ads1)
গতকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে রৌমারী সদর ইউনিয়নের বড়াইবাড়ি এলাকায় এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত সোনাভানু বেগম উপজেলার বারবান্ধা গ্রামের আব্দুল জলিল মিয়ার স্ত্রী।
এ ঘটনায় মারাত্মক আহত ব্যক্তিরা হলেন—নিহতের স্বামী আব্দুল জলিল মিয়া (৫৬), খলিল মিয়া (৪৭), জোসনা খাতুন (২৫) এবং মদিনা মিয়া (৩৫)। ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে ঘটনার পরই স্থানীয় গ্রামবাসী ঘাতক ফারুক মিয়াকে (৩৫) হাতেনাতে ধরে গণধোলাই দিয়ে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। আটক ফারুক মিয়া বারবান্ধা গ্রামের মৃত জয়নাল জোয়ার্দারের ছেলে।
আরও পড়ুন:
- বকশীগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদে ডুবে তৃতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু
- জামালপুরে টোল আদায় নিয়ে মারধরের জের, ৪ ঘণ্টা পর মহাসড়ক অবরোধ মুক্ত
- চুমুর দৃশ্যের শুটিংয়ে অভিনেতার আচরণে অস্বস্তিতে পড়েছিলেন অভিনেত্রী অনুপ্রিয়া গোয়েঙ্কা
- অনিদ্রা দূর করে দ্রুত প্রশান্তিময় ঘুম পেতে অনুসরণের ৩টি কার্যকরী ধাপ
- দেওয়ানগঞ্জের সীমান্ত বিলে ভাসছিল অর্ধগলিত মরদেহ, উদ্ধার করল পুলিশ
পুলিশ, ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ফারুক দীর্ঘদিন ধরে চরমভাবে মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদকের টাকার জন্য তিনি প্রায়শই স্ত্রী, বাবা-মা ও নিকটাত্মীয়দের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। স্বজনেরা তাঁকে একাধিকবার মাদক নিরাময় কেন্দ্র ও নানাভাবে ভালো করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
ঘটনার আগের দিন বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) পারিবারিক নির্যাতন সইতে না পেরে ফারুকের শ্বশুর এসে তাঁর মেয়েকে (ফারুকের স্ত্রী) নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। এতে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ফারুক নিজ বাবা ও নিজের শিশুপুত্রকে নিজ ঘরের ভেতর রশি দিয়ে বেঁধে রাখেন।
গতকাল শুক্রবার বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে ফারুকের চাচি সোনাভানু বেগম বিষয়টি দেখতে পেয়ে ঘরে বাঁধা অবস্থা থেকে তাঁদের উদ্ধার করতে যান। এ সময় আগে থেকেই ওত পেতে থাকা মাদকাসক্ত ফারুক ধারালো দা দিয়ে চাচি সোনাভানু বেগমের ওপর অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। সোনাভানু বেগমের আকুল আর্তচিৎকারে আশপাশের স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাঁকে বাঁচাতে ছুটে এলে ঘাতক ফারুক তাঁদের ওপরও দা নিয়ে হামলা চালান। এতে ঘটনাস্থলেই সোনাভানু বেগমের মর্মান্তিক মৃত্যু হয় এবং বাকি ৪ জন গুরুতর জখম হন।
খবর পেয়ে রৌমারী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে আসে।
(ads2)
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাওসার আলী জানান, "মাদকাসক্ত যুবক ফারুকের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সোনাভানু নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। আমরা ঘটনাস্থল থেকে নিহতের সুরতহাল শেষ করে মরদেহ উদ্ধার করেছি। প্রধান অভিযুক্ত ফারুককে স্থানীয় জনতার সহায়তায় আটক করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং তাঁকে কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।"







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।