![]() |
| রৌমারীতে ব্রহ্মপুত্রের গিলে খাচ্ছে ভিটেমাটি ও ফসলি জমি, দিশেহারা ২০ পরিবার |
রৌমারীতে ব্রহ্মপুত্রের গিলে খাচ্ছে ভিটেমাটি ও ফসলি জমি, দিশেহারা ২০ পরিবার
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র নদের গ্রাস থেকে কিছুতেই রক্ষা পাচ্ছে না নদীর তীরবর্তী ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। নদের গর্ভে চলে যাচ্ছে একের পর এক বসতভিটা ও একরের পর একর কাঁচা-পাকা আমন ক্ষেত। ভাঙনের কারণে দিশেহারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো নদের পাড়ে হঠাৎ ফাটল দেখা দেওয়ায় তড়িঘড়ি করে আধাপাকা ধান কেটে ঘরে তোলার প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।
(ads1)
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের সুখেরবাতি ও খেদাইমারী গ্রামে গত এক সপ্তাহেই প্রায় ১৮ থেকে ২০টি পরিবারের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) থেকে ৬-৭ মাস আগে ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেললেও সঠিক তদারকি ও স্থায়ী সিসি ব্লকের ব্যবস্থার অভাবে সেগুলো তীব্র স্রোতে নদীতে ভেসে গেছে। ফলে প্রতিরক্ষাহীন অবস্থায় থাকা নদীর পাড় এখন হু হু করে ধসে পড়ছে।
এলাকাবাসীর তথ্যমতে, গত এক বছরে এই এলাকায় প্রায় ৫০০ পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে সম্পূর্ণ গৃহহীন হয়েছে। চর শৌলমারী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনছার আলী তুহিন জানান, তাঁর ওয়ার্ডে ৭টি এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খেদাইমারী গ্রামে ১০টির বেশি বসতবাড়ি সম্প্রতি নদীতে বিলীন হয়েছে।
আরও পড়ুন:
- ৯ বছরেও শেষ হয়নি ১৫৩ কোটি টাকার জামালপুর হাইটেক পার্ক, থমকে হাজারও তরুণের স্বপ্ন
- দেওয়ানগঞ্জ সীমান্তে প্রাইভেটকারে ২১৫ বোতল ভারতীয় মদ, চালক ও ক্রেতাসহ আটক ২
- বকশীগঞ্জ সীমান্তে ৩৫ বিজিবির অভিযান, দুই লাখ টাকার মাদকসহ আটক ১
- ইসলামপুরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শান্তিময় পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন
- স্ত্রীর যৌতুক মামলায় ১ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি আশুলিয়া থেকে গ্রেপ্তার
সুখেরবাতি গ্রামের দেলোয়ার, নজরুল ইসলাম, রূপচান, আয়শা খাতুন, ছোবহান, লালু শেখ এবং খেদাইমারী গ্রামের কপিল উদ্দিন, আফছার আলী, ফাতেমা, কদম আলী, আব্দুল খালেক, মহর উদ্দিন, সিরাজুল, জমসের আলী ও আক্কাস আলীদের মতো অনেকেই তাঁদের ভিটামাটি হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে অথবা অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জমসের আলী আক্ষেপ করে বলেন, "চোখের সামনেই আমার তিন বিঘা ধানি জমিসহ ভিটেমাটিটা নদীতে চলে গেল, কিন্তু পাউবো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিল না।"
চর শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এইচ এম সাইদুর রহমান জানান, "সুখেরবাতি, খেদাইমারী ও সোনাপুর ওয়ার্ডে নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সিসি ব্লক ছাড়া শুধু জিও ব্যাগ দিয়ে স্রোত সামলানো সম্ভব নয়। সরকারি সহায়তা বন্ধ থাকায় এসব সহায়সম্বলহীন মানুষের পক্ষে নতুন করে মাথা গোঁজার ঠাঁই করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।"
(ads2)
সার্বিক বিষয়ে কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, "জরুরি প্রতিরক্ষামূলক কাজের জন্য বর্তমানে আমাদের কোনো বিশেষ অর্থ বরাদ্দ নেই। তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং স্থায়ীভাবে নদীভাঙন ঠেকাতে একটি স্থায়ী প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।"







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।