লোকসান ঠেকাতে বাড়ছে রেলের ভাড়া!

Unknown
0
সেবা ডেস্ক:  ট্রেনের ভাড়া সর্বোচ্চ ৭.৮ শতাংশ বাড়াতে চায় রেলপথ মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে যা আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রেল ভবনে ওয়াই-ফাই সিস্টেমের উদ্বোধন শেষে রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক এ তথ্য জানান। সিদ্ধান্ত হলে সর্বনিম্ন ভাড়া পাঁচ টাকা আর ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ট্রেনে শোভন শ্রেণির ভাড়া ৪৫ টাকার মতো বাড়তে পারে। মূলত যাত্রীসেবার মান বাড়াতে ও বাংলাদেশ রেলওয়ের ক্রমাগত লোকসান ঠেকাতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব । সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রী বলেন, ‘ভাড়া বাড়ানোর চিন্তা-ভাবনা চলছে। তবে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ভাড়া বাড়লেও তা সহনশীল পর্যায়ে থাকবে। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত যাত্রীদের কথা চিন্তা করে ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।’
 
ভাড়া বৃদ্ধির এ উদ্যোগ কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে রেলপথ সচিব ফিরোজ সালাহ উদ্দিন বলেন,  যাত্রীসেবার মান বাড়াতেই ভাড়া বৃদ্ধি করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী অনুমতি দিলে ফেব্রুয়ারি থেকেই  নতুন ভাড়া কার্যকর হবে। তিনি বলেন, এখন থেকে প্রতি বছরই কম-বেশি রেলের ভাড়া বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হবে।
 
সচিব আরো বলেন, দিনের পর দিন রেল লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এর পরিমাণ বর্তমানে প্রায় হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকেই রেলের ভাড়া কম। অন্যান্য যানবাহনে নিয়মিতভাবে ভাড়া বাড়ানো হলেও রেলের ভাড়া বাড়েনি। ১৯৯২ সালে রেলে ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। দীর্ঘ ২০ বছর পর ২০১২ সালের অক্টোবরে সর্বশেষ ভাড়া বাড়ানো হয়।
 
যাত্রীদের ভাড়া না বাড়িয়ে অন্যভাবে আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া যায় কি না-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রেলপথ সচিব বলেন, এটা ঠিক, প্রস্তাবিত হারে ভাড়া বাড়লে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৪৫ কোটি টাকা আয় হবে। তবে বাকি টাকার সংস্থানে আমরা নানা উদ্যোগ নিচ্ছি। আমরা কন্টেইনার পরিবহনে গুরুত্ব দিচ্ছি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় সার পরিবহনের পাশাপাশি রেল খাদ্যপণ্যও পরিবহন করবে।
 
ওয়াইফাই সার্ভিসের উদ্বোধন ঘোষণার আগে দেয়া বক্তব্যে রেলপথ মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের ৬২টি বড় স্টেশনে কম্পিউটারাইজড টিকেটিং সিস্টেম চালু করা হয়েছে। কমলাপুর, ঢাকা বিমানবন্দর,  চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনা রেল স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট অনলাইনে ক্রয় করতে পারছেন যাত্রীরা।
ট্যাগস

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top